![]() |
| কক্সবাজার শহরের ঘোনারপাড় এলাকায় শ্রমিক নিয়োগ করে পাহাড় কাটা হচ্ছে। পাহাড়ের মাটি বস্তায় ভরে নেওয়া হচ্ছে অন্যত্র। |
কক্সবাজার
শহরের ঘোনারপাড়া এলাকায় সরকারি পাহাড় কেটে এবার রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। এই
পাহাড়ে অবৈধ আবাসন প্রকল্প করতে চাচ্ছেন স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী
ব্যক্তি। এর অংশ হিসেবে প্রকল্প এলাকায় যাতায়াতের জন্য পাহাড় কেটে চলছে
রাস্তা তৈরির কাজ। প্রকাশ্যে দুই সপ্তাহ ধরে পাহাড় কাটার কাজ চললেও পরিবেশ
অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা সেখানে যাননি। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর
কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন,
ঘোনারপাড়ায় উঁচু পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করার অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি।
যারা পাহাড় কাটছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পরিবেশবাদী
সংগঠন কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন,
প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে গাফিলতি এবং রাজনৈতিক নেতাদের
সদিচ্ছার অভাবেই কক্সবাজারে পাহাড়গুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে জীববৈচিত্র্য
ধ্বংসের পাশাপাশি পাহাড়ে গাছ উজাড় হচ্ছে। গত মঙ্গলবার সকালে ঘোনারপাড়ায়
গিয়ে দেখা যায়, প্রায় দেড় শ ফুট উঁচু পাহাড়ের বেশ কিছু অংশ খাড়াভাবে কাটা
হয়েছে। এতে পাহাড়ের দুটি অংশের মধ্যে সরু পথ তৈরি হয়েছে। এই পথ ধরে
শ্রমিকেরা পাহাড়ের ভেতরের বিভিন্ন অংশে যেতে পারেন। ইতিমধ্যে এই পাহাড়ের
বিভিন্ন অংশে কয়েক শ ফুট দীর্ঘ আঁকাবাঁকা পথ তৈরি করার কাজ শেষ করা হয়েছে।
পাহাড় কাটায় নিয়োজিত রয়েছেন ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক। একজন শ্রমিক বলেন, পাহাড়
কাটছেন কক্সবাজার শহরের বাসিন্দা শওকত আলম। তাঁর (শওকত) বড় ভাই জাকির
মোস্তফা শহরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। গত বছরের মার্চ মাসে জাকির
মোস্তফাকে আরেকটি সন্ত্রাসী বাহিনীর লোকজন হত্যা করে। তিনি বলেন, শওকত
আলমের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস এলাকার কারও নেই। তিনি বলেন, পাঁচ দিন ধরে
তাঁরা রাস্তা তৈরির জন্য শত ফুট উঁচু একটি পাহাড় খাড়াভাবে কেটেছেন। বৃষ্টি
হলে এই খাড়া পাহাড়ের দুই পাশ ধসে পড়বে। তখন পাহাড় কাটা সহজ হবে। পাহাড়
কাটার মাটি কিনছেন স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল আলম। তিনি বলেন, দুর্গম ওই
এলাকার পাহাড় কাটার দৃশ্য দেখতে যাওয়ার সাহস কারও নেই। এই পাহাড়ি এলাকা
সন্ত্রাসীদের আখড়া। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পাহাড় কাটা চললেও
কেউ বাধা দিচ্ছেন না। তবে অভিযোগের বিষয়ে শওকত আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন পাহাড় দখল করে একের পর এক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের
বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম বলেন,
ঘোনারপাড়া ছাড়াও শহরের কলাতলী, লারপাড়া, পাহাড়তলী, সিটি কলেজ এলাকায়
বিভিন্ন পাহাড় কেটে নানা স্থাপনা তৈরি হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে
পাহাড় কাটার ঘটনায় গত তিন বছরে দুই শতাধিক মামলা করা হয়েছে। কিন্তু পাহাড়
কাটা বন্ধ করা যাচ্ছে না। কিছুদিন আগে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের পাশে
‘সৈকতপাড়া পাহাড়’ কেটে শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা অবৈধ আবাসন প্রকল্প
গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে গত ২৮ মার্চ প্রথম আলোয় প্রতিবেদন
প্রকাশিত হয়। ‘সরকারি পাহাড়ে আবাসন প্রকল্প’ শিরোনামে সচিত্র ওই প্রতিবেদন
প্রকাশের পর কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আবাসন প্রকল্পটি উচ্ছেদ করে।
ঘোনারপাড়া পাহাড় কাটার বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন,
পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন শক্ত অবস্থানে রয়েছে। পাহাড় কেটে
রাস্তা তৈরির সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।

No comments:
Post a Comment