![]() |
| আশুতোষ নাথ |
‘আমি
আর এ ঘরে থাকতে পারব না। আমার ছেলে এ পাকা ঘর কষ্ট করে বানিয়েছে। পয়লা
বৈশাখে তার বিয়ের দিন ঠিক করা ছিল। এখন আমার সব শেষ’—ছেলে আশুতোষ নাথকে
হারিয়ে এভাবেই বিলাপ করছিলেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা বড় হাতিয়ার আমতলী
গ্রামের নাথপাড়ার সুভাষ নাথ ও সূর্যবালা দেবী। গত রোববার রাতে
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান আশুতোষ নাথ। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান আশুতোষের ভাবি রীতা নাথ। আশুতোষ নাথ আট বছর
দুবাইতে ছিলেন। গত জানুয়ারিতে তিনি দেশে ফেরেন। একই পরিবারের দুই সদস্যকে
হারিয়ে পরিবারে মাতম চলছে। রীতা নাথের তিন শিশু সন্তান রয়েছে। আশুতোষের
বাবা সুভাষ নাথ বলেন, ‘আমার ছেলে বলত, বিয়ে করে দেশে কিছু একটা করবে।
দোকানও কিনেছে। ছেলেটাকে হারিয়ে কীভাবে বাঁচব? নাতিগুলো দিন-রাত তাদের মাকে
খুঁজছে।’ প্রতিবেশী আহমদ কবির বলেন, আশুতোষ এলাকায় ভালো ছেলে হিসেবে
পরিচিত ছিল। গ্রামের সবার সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল। আশুতোষ নাথের বড় ভাই
বাসু নাথ বলেন, ছোট ভাই দুবাই থেকে দেশে ফেরার পর তাঁর বিয়ে ঠিক করেন
তাঁরা। আশুতোষ বিদেশে বৈদ্যুতিক মিস্ত্রির কাজ করত। ঘরের বৈদ্যুতিক
সংযোগের কাজ তাই নিজেই করছিল।

No comments:
Post a Comment