Wednesday, April 27, 2016

ওয়াসার ১৩ খালের অবস্থা বেহাল

রামচন্দ্রপুর খালের আবর্জনা সরানোর উদ্যোগ নিয়েছে
ঢাকা ওয়াসা। বেশ কিছুদিন ধরে খালের ময়লা
অপসারণ করছেন ওয়াসার শ্রমিকেরা
বর্ষা আসার আগেই রাজধানীর বিভিন্ন খালে খনন, দখল উচ্ছেদ ও ভাসমান ময়লা অপসারণের কাজ শুরু করেছে ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা)। জলাবদ্ধতা কমাতে ওয়াসা তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা এসব খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) রাজধানীর জলাবদ্ধতার কারণ চিহ্নিত করতে গত বছরের নভেম্বরে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। তাতে বলা হয়, রাজধানীর জলাবদ্ধতার জন্য ১৩টি খালের বেহাল অবস্থা দায়ী। খালগুলো দখল ও ভরাট হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বিশাল এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সেই ১৩টি খালও পরিষ্কার করছে ওয়াসা। ডিএনসিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা খালগুলো হলো মিরপুরের বাইশটেকি, বাউনিয়া, রূপনগর, সাংবাদিক কলোনি, কালশী, কল্যাণপুর, পাগলার পুল, দ্বিগুণ, ইব্রাহিমপুর, হাজারীবাগ, কাঁটাসুর ও রামচন্দ্রপুর খাল। এ বিষয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান প্রথম আলোকে বলেন, অন্য সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নয়, ওয়াসা নিজ উদ্যোগেই খালগুলো দখলমুক্ত ও পরিষ্কার করার কাজ শুরু করেছে। এটা ওয়াসার নিয়মিত কাজের অংশ। আগামী ৩১ মে পর্যন্ত এই পরিচ্ছন্নতার কাজ চলবে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ওয়াসার গৃহীত কর্মসূচির এপ্রিল মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাইশটেকি খালের ওপরের দিকে ৪২৭ মিটার এক্সকাভেটর দিয়ে পুনঃখনন করা হচ্ছে। খালের নিচের অংশ না থাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে এই খালের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে। খালের জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিরপুরের বাউনিয়া খালে ময়লা-আবর্জনা দিয়ে পূর্ণ থাকায় পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। বৃষ্টি হলেই মিরপুর ১১ নম্বরের সাংবাদিক কলোনি এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। এ খালের বিষয়ে ওয়াসার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেওয়ানপাড়া লোহার ব্রিজের উভয় দিকে খাল উদ্ধার এবং ৮০০ মিটার খনন কাজ চলমান। তবে মিরপুর ১৪ নম্বর থেকে জয়নগর পর্যন্ত খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও খনন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরের ৪৩টি খালের মধ্যে ঢাকা ওয়াসা রক্ষণাবেক্ষণ করে ২৬টি। এর মধ্যে নয়টি খালের ওপর দিয়ে রাস্তা, বক্স-কালভার্ট, ব্রিজ সুয়ারেজ তৈরি করা হয়েছে। এসব স্থানে বিকল্প উপায়ে পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলেও স্বল্প পরিধির পাইপ দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি নিষ্কাশিত হতে পারে না। অন্যান্য খালে অবৈধ স্থাপনা এবং ময়লা জমে ভরাট হওয়ায় পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। দেখা যায়, রূপনগর খালের মিরপুর চিড়িয়াখানা রোড থেকে কমার্স কলেজের পেছন দিকে ইস্টার্ন হাউজিং হয়ে পল্লবী পর্যন্ত খালটি ময়লা-আবর্জনায় পূর্ণ। ৬০ ফুট প্রশস্ত এই খালের ইস্টার্ন হাউজিংয়ের সংযোগস্থলে ভরাট করে পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। রূপনগর খালের বিষয়ে ওয়াসার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালের ভাসমান ময়লা উত্তোলন ও অপসারণের কাজ চলমান। ইস্টার্ন হাউজিং খালের নিচের দিকে ভরাট করে পাইপলাইন নির্মাণ করেছে। এই পাইপলাইন দ্রুত অপসারণ করে খাল খনন করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করা হয়েছে। কল্যাণপুর প্রধান খাল, রূপনগর খালের চিড়িয়াখানা, রূপনগর অংশসহ বেশ কয়েকটি খালের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, এসব খালের ভাসমান ময়লা উত্তোলন ও অপসারণ করা হচ্ছে। তবে এলাকাবাসী সচেতন না হলে খাল অচিরেই আগের অবস্থায় ফিরে যাবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তাই খালসংলগ্ন এলাকা ডিএনসিসির কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা জরুরি বলেও ওয়াসার প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে। দেখা যায়, মোহাম্মদপুর এলাকার রামচন্দ্রপুরের কয়েক জায়গা ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে আছে। এই ভাসমান ময়লা সরানোর কাজ শুরু করেছেন শ্রমিকেরা। ওয়াসার প্রতিবেদনে ইব্রাহিমপুর, দিয়াবাড়ী, রামচন্দ্রপুর, সেগুনবাগিচা ও খিলগাঁও-বাসাবো খালের পাড়ে অবৈধ স্থাপনা আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ প্রক্রিয়াধীন বলে জানানো হয়েছে।

No comments:

Post a Comment