শেয়ারবাজারের
ধারাবাহিক পতন ঠেকাতে গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর তাড়াহুড়া করে জরুরি
সংবাদ সম্মেলন ডেকে নীতি-সহায়তার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
তাতে পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ের সময় না
বাড়িয়ে শেয়ার বিক্রির চাপ কমাতে বিকল্প নীতি-সহায়তা ঘোষণা করা হয়। এতে
ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মূলধন বৃদ্ধির কথা বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত বিনিয়োগ কোনো প্রকার শেয়ার
বিক্রি না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইনি সীমায় নামিয়ে আনতে কিছু
নীতি-সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর এসব নীতি-সহায়তার ফলে
শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগসীমা নির্ধারিত মাত্রায় নেমে আসবে বলে
মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এমনকি অতিরিক্ত বিনিয়োগসীমা সমন্বয়ের জন্য
ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা শেয়ারও বিক্রি করতে হবে না বলে জানিয়েছে তারা।
ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, আগামী ২১ জুলাইয়ের মধ্যে ব্যাংকগুলোর
অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয় করার কথা। আইন অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে
ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ ওই ব্যাংকের আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম,
বিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও রিটেইন আর্নিংসের ২৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। কিন্তু
যেসব ব্যাংকের বিনিয়োগ এই সীমার বেশি ছিল, সেসব ব্যাংককে তা চলতি বছরের
২১ জুলাইয়ের মধ্যে নামিয়ে আনতে বাধ্যবাধকতা ছিল। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর
গড় বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল উল্লেখিত সীমার কম বা ২৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। তবে
প্রায় ১০ ব্যাংকের বিনিয়োগ ২৫ শতাংশের সীমার ওপরে রয়েছে। মূলত গুটি
কয়েক ব্যাংকের শেয়ার বিক্রির চাপ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক এ নীতি-সহায়তা
ঘোষণা করল। তবে শেয়ারবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে
সরকারের কাছে ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ের সময় বৃদ্ধির দাবি
জানিয়ে আসছিলেন। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মূলত শেয়ারবাজারের
পতন ঠেকাতে সরকারের উচ্চমহলের চাপে তাড়াহুড়া করে নীতি-সহায়তার এ ঘোষণা
দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তা-ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নয়, জানানো হয়েছে
সংবাদমাধ্যমকে। তাড়াহুড়া করে উচ্চপর্যায়ের চাপে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ায়
সুনির্দিষ্টভাবে নীতি-সহায়তা কী ধরনের হবে, তা জানাতে পারেনি বাংলাদেশ
ব্যাংক। গতকাল রাত সাড়ে সাতটায় এক ব্রিফিংয়ে নীতি-সহায়তার সিদ্ধান্তের
বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র
আনোয়ারুল ইসলাম। আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, শেয়ারবাজারে
ব্যাংকগুলোর ধারণকৃত অতিরিক্ত বিনিয়োগ কোনো প্রকার বিক্রি না করে আইনি
সময়সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে কিছু নীতি-সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা
হচ্ছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মূলধন
বৃদ্ধি করা হবে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর ওপর কোনো বিক্রির চাপ পড়বে না এবং
বিক্রির প্রয়োজনও হবে না।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment