Tuesday, April 12, 2016

আসামি গ্রেপ্তারে যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ

মিরপুর-১৩ নম্বরে সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসিক
এলাকা ন্যাম গার্ডেনের সামনে জনতার বিক্ষোভ
কাফরুলে গৃহকর্মী জনিয়া খুন হওয়ার এক মাস পার হলেও এজাহারভুক্ত তিন আসামি যুগ্ম সচিব আহসান হাবীব, তাঁর ছেলে ও স্ত্রীর কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। বাদী ও তাঁর আইনজীবীদের অভিযোগ, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করছে না। আর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলছেন, একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে হলে যাচাই-বাছাই করতে হয়। সেটা করা হচ্ছে। গত ৬ মার্চ রাজধানীর কাফরুলে ন্যাম গার্ডেনের তিন নম্বর ভবনের নিচে গৃহকর্মী জনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ ৫৪ ধারায় বাসার চার কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে। পরে ১৯ মার্চ নিহত জনিয়ার বাবা রিকশাচালক ওসমান গনি বাদী হয়ে যুগ্ম সচিব আহসান হাবীব (৫৭), তাঁর ছেলে রুম্মান বিন হাসান (২৬), তাঁর স্ত্রী নাজনীন আক্তারের (৪৬) নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় তিন-চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে নালিশি মামলা করেন। আদালত ওই দিন নালিশটি এজাহার হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে কাফরুল থানার পুলিশকে নির্দেশ দেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জনিয়ার মা ফুলবানু ওই কোয়ার্টারে যুগ্ম সচিব আহসান হাবিবের বাসায় বাসায় কাজ করেন। চার-পাঁচ দিন ধরে ফুলবানু অসুস্থ থাকায় ৬ মার্চ ওই বাসায় তাঁর মেয়ে জনিয়া কাজ করতে যায়। সকাল সাড়ে সাড়ে আটটার দিকে কোয়ার্টারের সামনে স্থানীয় লোকজন উপুড় হয়ে পড়ে থাকা অবস্থায় জনিয়ার লাশ দেখতে পায়। ওড়না দিয়ে তার মুখ বাঁধা ছিল। তিনি বলেন, নাম উল্লেখ থাকা তিন আসামিসহ আরও কয়েকজন মিলে তাঁর মেয়েকে খুন করে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছে। নিহত জনিয়ার বাবা উসমান গনির আইনজীবী আবদুল হামিদ ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, জনিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। আদালত নালিশি মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার আদেশ দিলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না। তাঁর দাবি, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করছে না। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, আসামি যুগ্ম সচিব আহসান হাবীব, তাঁর ছেলে রুম্মান ও স্ত্রী নাজনীন আক্তার পলাতক রয়েছেন। এক মাস পার হলেও আসামিরা কেন এখনো গ্রেপ্তার হননি—এমন প্রশ্নের জবাবে কামরুজ্জামান বলেন, ‘একজন মানুষকে গ্রেপ্তার করতে হলে যাচাই-বাছাই করতে হয়। আমরা যাচাই-বাছাই করছি। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করছি। অবশ্যই গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠাব।’ হত্যার কারণ জানতে পেরেছেন কি না, জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তদন্ত চলছে। জনিয়ার মৃত্যুর রহস্য এখনো উদ্‌ঘাটন করতে পারিনি। চেষ্টা চলছে।’

No comments:

Post a Comment