ম্যাচটা
যদি একটা গল্প হয়, তবে তার শিরোনাম হতে পারে ‘রেফারি, একটি লাল কার্ড ও
তার পূর্বাপর!’ চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে পরশু
তিনটি গোল হয়েছে, অনেক ‘যুদ্ধ’ শেষে যাতে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে
২-১ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা। তবে ন্যু ক্যাম্পে ম্যাচের পর রেফারিকে ঘিরে
‘ষড়যন্ত্র-তত্ত্বের’ অভিযোগটাই উঠছে সবচেয়ে জোরালো হয়ে। অভিযোগগুলো
অ্যাটলেটিকোর পক্ষ থেকেই আসছে। রেফারির চেয়েও তাদের আঙুলটা উয়েফার দিকেই
বেশি উঠছে। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ লেফটব্যাক ফিলিপে লুইস তো সরাসরিই বলে
দিলেন, ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার আনুকূল্য পাচ্ছে বার্সা,
‘বার্সেলোনাকে আগলে রাখা হচ্ছে। যখন তাদের বিপক্ষে খেলবেন, আপনি বুঝবেন ওরা
কতটা ক্ষমতাবান ক্লাব। ওরা বাদ পড়ে যাবে, এই ভয়টা টের পাবেন। এতে যে উয়েফা
কষ্ট পাবে।’ লুইসের এত ক্রোধের কারণ, একটি লাল কার্ড হওয়া ও আরেকটি না
হওয়া। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় অ্যাটলেটিকো
স্ট্রাইকার ফার্নান্দো তোরেসকে, ১০ মিনিট আগেই যাঁর গোলে এগিয়ে গিয়েছিল
তাঁর দল। অ্যাটলেটিকো তখন খেলছিলও ভালো। কিন্তু গোলের পর কী যেন হয়ে গেল
তোরেসের! ছয় মিনিটের মধ্যে নেইমার ও বুসকেটসকে ফাউল করে বসেন। ম্যাচ শেষে
অবশ্য অহেতুক লাল কার্ড খাওয়াটা পোড়াচ্ছে সাবেক চেলসি ও লিভারপুল
স্ট্রাইকারকেও, ‘খুব জটিল একটা দিন ছিল। হয়তো সবচেয়ে খারাপ নয়, তবে আমার
ক্যারিয়ারের খারাপ দিনগুলোর একটি।’ তোরেসের লাল কার্ড হয়তো প্রশ্নাতীত। তবে
তাঁর সতীর্থ লুইস জার্মান রেফারি ফেলিক্স ব্রিখ ও উয়েফার ওপর ক্ষুব্ধ আসলে
লুইস সুয়ারেজকে লাল কার্ড না দেখানোয়। অ্যাটলেটিকো ডিফেন্ডারের অভিযোগ,
ম্যাচের প্রথমার্ধে হুয়ানফ্রানকে লাথি মারার জন্য লাল কার্ড পাওয়া উচিত ছিল
বার্সেলোনা স্ট্রাইকারেরও। দ্বিতীয়ার্ধে লুইসকেই ধাক্কা মেরে অবশ্য হলুদ
কার্ড দেখেন সুয়ারেজ। তবু ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারের উষ্মা, ‘আমি আসলে জানি
না আর কী করলে ওরা আমাদের মতো লাল কার্ড পাবে!’ অ্যাটলেটিকো কোচ ডিয়েগো
সিমিওনে অবশ্য উয়েফার সম্ভাব্য শাস্তির কথা মাথায় রেখে ভদ্রভাবে এতটুকুই
বলেছেন, ‘সুয়ারেজকে ঘিরে দুটি ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু যা ভাবছি, সেটা বলতে
পারছি না।’ ওই সুয়ারেজই শেষ পর্যন্ত অ্যাটলেটিকোকে হারিয়ে দিয়েছেন বলেই
সুয়ারেজের ওপর লুইসদের ক্ষোভ আরও বাড়ছে। তোরেসের লাল কার্ডের পর থেকেই ১০
জনের অ্যাটলেটিকোকে অনেকটা তাদের অর্ধে ‘বন্দী’ করে ফেলে বার্সেলোনা। একের
পর এক আক্রমণের ফলে ৬৩ থেকে ৭৪—১১ মিনিটে ২ গোল করে বার্সাকে জিতিয়ে দেন
সুয়ারেজ। মৌসুমে উরুগুইয়ান স্ট্রাইকারের গোলও তাতে বেড়ে দাঁড়াল ৪৫। ম্যাচের
পর বার্সার নায়কের মুখেও এসেছে লাল কার্ড প্রসঙ্গ, ‘অবশ্যই প্রথমার্ধের ওই
লাল কার্ডটা ম্যাচে প্রভাব ফেলেছে। তার ওপর লাল কার্ডটা দেখেছেও অনেক বড়
একজন খেলোয়াড়। সবাই তার মান সম্পর্কে জানে, তবে ও দুটি কঠিন ফাউল করেছে।
আফসোস! আমারও ১১ জনের দলের বিপক্ষে এভাবে ফিরে আসতে পারলে ভালো লাগত!’ তবে
ম্যাচে যত নাটকই হোক, দিন শেষে ফলটাই মুখ্য। আর তাতে দুই প্রতিপক্ষ দলের
কোচের আক্ষেপ ও আশা যেন মিলে যাচ্ছে একই বিন্দুতে। বার্সা কোচ লুইস এনরিকের
আক্ষেপ, ‘হতাশার ব্যাপার, আমরা আরও গোল করতে পারিনি।’ কে জানে, এনরিকের
হতাশা বাড়িয়ে দিতে পারে তোরেসের ওই ‘অ্যাওয়ে’ গোলটিই। ১৩ এপ্রিল দ্বিতীয়
লেগে সিমিওনেকেও আশা দেখাচ্ছে এই গোল, ‘দুই লেগের হিসেবে আমরা এখনো বেঁচে
আছি। এটি মাদ্রিদের মানুষের মধ্যে অনেক প্রত্যাশার জন্ম দেবে। ভালো ম্যাচ
হবে।’ ভালো ম্যাচ বলতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবলের পাশাপাশি এই ম্যাচের
মতো ৩৫টি ফাউল এবং বিতর্কমুক্ত ম্যাচও কি বুঝিয়েছেন সিমিওনে!
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment