এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় চীনের ক্রমবর্ধমান
প্রভাবের বিপরীতে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করার
প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ভারত ও জাপান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের
সদ্য সমাপ্ত জাপান সফরকালে দেশ দুটি কৌশলগত বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের
সম্পর্ককে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। মনমোহনের সফরের সময়
চেন্নাই-বেঙ্গালুরু শিল্প করিডর এবং তৃতীয় মুম্বাই মেট্রো লাইনের মতো বড়
প্রকল্পগুলোতে আর্থিক সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান। এ ছাড়া
ভারতের বেসামরিক পরমাণু প্রকল্পের কাজকে আগেভাগেই শেষ করতে সহযোগিতার
বিষয়েও সদিচ্ছার কথা জানিয়েছে। মনমোহন সিং ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো
আবে এশিয়ার বিদ্যমান কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে শক্তি প্রয়োগের বিরুদ্ধে
দুই গণতান্ত্রিক দেশের যৌথ অবস্থানের কথা বলেছেন। জাপান এবং অন্যান্য দেশকে
‘বশে আনতে’ চীনা প্রচেষ্টার বিপরীতে এটি একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ। উভয় দেশ তাদের নৌবাহিনীর যৌথ মহড়া অনুষ্ঠানকে
প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং এসব মহড়ার ব্যাপ্তিকে আরও বিস্তৃত করতে একমত
হয়েছে। এর নিদর্শন হিসেবে জাপান তার উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সর্বাধুনিক
সামুদ্রিক বিমান শিনমায়া বা ইউএস-২-এর প্রযুক্তি ভারতকে দেওয়ার আগ্রহ
দেখিয়েছে। এই প্রথম সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহারের উপযোগী এই
বিমানের প্রযুক্তি হস্তান্তরের ইচ্ছা পোষণ করল টোকিও। জলে ও স্থলে উড্ডয়ন ও
অবতরণে সক্ষম দূরপাল্লার এই বিমান প্রবল ঢেউয়ের সময়ও উড্ডয়ন করতে পারে। ভারতের আণবিক শক্তি বিভাগ এবং জাপানের অর্থ, বাণিজ্য ও
শিল্প মন্ত্রণালয় ভারতে শিল্প-উপকরণ ‘দুর্লভ মৃত্তিকা’ খাতের উন্নয়নে
সহযোগিতার বিষয়ে একটি চুক্তিতে সই করেছে। কাঁচামালের জন্য চীনের ওপরে
জাপানের নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতেই এই সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করা
হচ্ছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র পিপলস ডেইলি এক মন্তব্য
প্রতিবেদনে বলেছে, জাপানকে চীনের সঙ্গে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সব লেনদেন
চালাতে হবে। এ ক্ষেত্রে ‘দেশীয় বা বহির্দেশীয় কোনো প্ররোচনাকারীর’ দ্বারা
প্রভাবিত হওয়া চলবে না। পত্রিকাটি বলেছে, চীন ও ভারত তাদের অমীমাংসিত
বিষয়গুলোর সমাধান নিজেরাই করতে সক্ষম। তবে জাপান ও ভারতের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তা
ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। কারণ, মনমোহন সিং তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, ‘কেবল
আত্মিক ও সংস্কৃতিগত মিলই আমাদের এক সুতায় গেঁথেছে তা নয়; এর সঙ্গে
রয়েছে গণতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক শান্তির বিষয়ে আমাদের অভিন্ন প্রতিশ্রুতি।
এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ভবিষ্যতের জন্য
আমাদের অংশীদারত্ব অপরিহার্য।’ অন্যদিকে আবে বলেছেন, অভিন্ন কল্যাণের জন্য জাপান ও ভারত যৌথভাবে এরই
মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment