ক্যাসিনো
ব্যবসায়ী কিম ওয়ংয়ের ফেরত দেওয়া অর্থ বাংলাদেশ সরকারকে ফেরত দিতে আদালতের
অনুমতি নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ফিলিপাইনের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল
(এএমএলসি)। এ জন্য এএমএলসি দেশটির আদালতে একটি দেওয়ানি ক্ষতিপূরণ মামলা
করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিনেট ব্লু রিবন কমিটির প্রধান সিনেটর তেওফিস্তো
গুইংগোনা গতকাল বুধবার এক সাক্ষাৎকারে ফিলিপাইনের গণমাধ্যম ইনকোয়ারারকে এ
তথ্য জানিয়েছেন। কিম ওয়ং দুই ধাপে এখন পর্যন্ত এএমএলসির কাছে মোট ৫৪ লাখ
ডলার ফেরত দিয়েছেন। আরও প্রায় ১ কোটি ডলার আগামী এক মাসের মধ্যে তাঁর ফেরত
দেওয়ার কথা রয়েছে। তেওফিস্তো গুইংগোনা ইনকোয়ারারকে বলেন, গত মঙ্গলবারের
সিনেট শুনানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও এএমএলসির বৈঠক অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত
নেওয়া হয়েছে। অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কিম ওয়ং যাই বলুন না কেন, এর একটি
আইনগত প্রক্রিয়া থাকা দরকার। এর ফলে বাংলাদেশকে অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে
আদালতের বৈধ নির্দেশনা পাওয়া যাবে। আদালতের নির্দেশনা পেলেই অর্থ বাংলাদেশ
সরকারকে ফেরত দেওয়া হবে। আদালতের এমন নির্দেশনা পেতে এক থেকে দুই সপ্তাহ
লেগে যেতে পারে বলে ইনকোয়ারারকে জানান তেওফিস্তো গুইংগোনা। তিনি বলেন,
অর্থ মালিকানা-সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে সাধারণত যে সময়ের
দরকার হয়, এ ক্ষেত্রে সেটা প্রয়োজন হবে না। কারণ এখানে অর্থের মালিক কে
সেটা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই। আদালতের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব তুলে ধরে
সিনেটর গুইংগোনা বলেন, অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আইন
মেনে কাজ করা। আদালত এভাবে আদেশ দিলে আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে যে এই
অর্থ বাংলাদেশের, এটা বাংলাদেশকে ফেরত দেওয়া উচিত। সঙ্গে আদালত দেবেন অর্থ
ফেরত দেওয়ার আইনগত নির্দেশনা। এদিকে অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের
রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ ও এএমএলসির নির্বাহী পরিচালক জুলিয়া বাকে-আবাদ গত
মঙ্গলবার সিনেট শুনানি শেষে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। সেখানে অর্থ ফেরত দেওয়ার
আইনগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। মঙ্গলবারের শুনানিতে বাংলাদেশকে অর্থ ফেরত
দেওয়ার বিষয়ে কিম ওয়ং ও সিনেটের মনোভাব জানতে চান জুলিয়া আবাদ। ওয়ং জানান, এ
বিষয়ে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। ওয়ংয়ের ফেরত দেওয়া অর্থ যে সাময়িক সময়ের জন্য
এএমএলসির কাছে রয়েছে, শুনানিতে সে বিষয়টিও জানান জুলিয়া আবাদ। বৈদেশিক
মুদ্রা লেনদেনে ফিলিপাইন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা: বৈদেশিক
মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকো সেন্ট্রাল
এনজি ফিলিপিনাসের (বিএসপি) দেশটির সব বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য
একটি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, বিদেশি যে কোনো লেনদেনের
ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ভাবমূর্তি নষ্টের অভিযোগ রিজাল
ব্যাংক প্রধানের: ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের
(আরসিবিসি) প্রেসিডেন্ট লরেঞ্জো তান এবিএস-সিবিএন নিউজকে বলেছেন, মায়া
সান্তোস দেগুইতো মিথ্যা অভিযোগ করে আমার ও ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের
ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করছেন। নিজের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড ঢাকতে তিনি এ
কাজ করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার আরসিবিসির
জুপিটার শাখার মাধ্যমেই ফিলিপাইন থেকে পাচার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে
আরসিবিসির অভ্যন্তরীণ তদন্তে মায়া সান্তোস দেগুইতো ও তাঁর এক সহকারীকে
ইতিমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে। মায়া সান্তোস দেগুইতো গত মঙ্গলবারের সিনেট
শুনানিতে অংশ নিয়ে বলেন, পুরো ঘটনায় তাঁকে ‘বলির পাঠা’ বানানো হয়েছে।
আরসিবিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ আরও অনেক বড় বড় খেলোয়াড় এই প্রক্রিয়ায়
জড়িত, আর সেখানে তিনি একজন সামান্য দাবার ঘুঁটি।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment