বাংলাদেশ
থেকে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড আমদানিতে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে
পাকিস্তান। দেশটির ন্যাশনাল ট্যারিফ কমিশন সম্প্রতি এক নোটিশে জানিয়েছে,
এখন থেকে সে দেশে পণ্যটি রপ্তানি করতে হলে ১২ শতাংশ অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক
দিতে হবে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের। বাংলাদেশে বর্তমানে সামুদা কেমিক্যাল
কমপ্লেক্স, এসএম কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ, তাসনিম কেমিক্যাল কমপ্লেক্স ও
এইচপি কেমিক্যালস লিমিটেড—এই চারটি কোম্পানি হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড উৎপাদন
করে। এর মধ্যে তিনটি কোম্পানি পণ্যটি রপ্তানি করছে। তাদের সবচেয়ে বড় বাজার
ভারত ও পাকিস্তান। জানা গেছে, পাকিস্তান গত বছরের ১৬ অক্টোবর থেকে
বাংলাদেশি হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড আমদানিতে সাময়িকভাবে ১৯ দশমিক ৩২ শতাংশ
শুল্ক আরোপ করে। এরপর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়ম অনুযায়ী
ডিসেম্বর মাসে বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানে শুনানি হয়। বাংলাদেশের তিন সদস্যের
একটি প্রতিনিধিদল শুনানিতে অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশি পণ্যটির ওপর
অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপে আপত্তি জানায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের
যুক্তি গ্রহণ না করে দেশটি কোম্পানি ভেদে ১১ থেকে ১২ শতাংশ
অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে। অন্যদিকে ভারতও কয়েক মাস আগে
বাংলাদেশকে একই পণ্যে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের নোটিশ পাঠিয়েছে।
রপ্তানিকারকেরা বলছেন, বাড়তি শুল্কের কারণে পাকিস্তানে বাংলাদেশের
হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড রপ্তানি কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। যদিও এতে দেশের মোট
রপ্তানি আয়ের ওপর প্রভাব হবে নগণ্য, কিন্তু বিপাকে পড়বে রপ্তানিকারক তিন
প্রতিষ্ঠান। হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড একটি রাসায়নিক উপাদান, যা বস্ত্রসহ
বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহার করা হয়। রপ্তানিকারকেরা জানান, ভারত ও পাকিস্তানের
বস্ত্রশিল্পে বাংলাদেশি হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের চাহিদা বেশ ভালো। তবে
পাকিস্তানের দুটি কোম্পানিও এ রাসায়নিক পণ্যটি উৎপাদন করে। তাদের আবেদনের
পরিপ্রেক্ষিতেই পাকিস্তান শুল্ক বসিয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি)
হিসাবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭৭ লাখ মার্কিন ডলারের
হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে ৮৬ শতাংশই গেছে ভারত ও
পাকিস্তানে। ওই সময়ে ভারতে প্রায় ৫২ লাখ ডলার ও পাকিস্তানে প্রায় ১৪ লাখ
ডলারের হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড রপ্তানি হয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে পণ্যটি
রপ্তানি করে বাংলাদেশের আয় হয়েছিল প্রায় ৬৬ লাখ ডলার। জানতে চাইলে সামুদা
কেমিক্যালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. কামরুজ্জামান গত
সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুল্ক আরোপের পর আমরা ডিসক্লোজার (বিস্তারিত
তথ্য) চেয়ে পাকিস্তানকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু এখনো জবাব পাইনি।’ তিনি বলেন,
এত দিন ভারত ও পাকিস্তানে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড রপ্তানিতে শুল্ক ছিল না।
নতুন শুল্ক রপ্তানি আয়ে অবশ্যই প্রভাব ফেলবে। এইচপি কেমিক্যালসের জ্যেষ্ঠ
বিপণন ব্যবস্থাপক শাহিনুর রহমান মঙ্গলবার জানান, বাংলাদেশ থেকে প্রতি
মেট্রিক টন হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ৪০০ থেকে ৪২০ ডলার মূল্যে রপ্তানি হয়।
দেশীয় চারটি কোম্পানি দৈনিক ২৫০ টন হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড উৎপাদন করতে
পারে। বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা প্রথম
আলোকে বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা এখন পাকিস্তান ট্যারিফ কমিশনে আপিল
করতে পারবেন। তিনি জানান, ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ ঠেকাতে
ট্যারিফ কমিশন এখন বাংলাদেশের যুক্তি তৈরি করছে। অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক:
উৎপাদনকারী দেশ তার নিজের বাজারের চেয়ে কম দামে অন্য দেশে পণ্য রপ্তানি
করলে সেটাকে বলা হয় ডাম্পিং। তখন আমদানিকারক দেশ ওই পণ্যের ওপর
অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করতে পারে। তবে এ জন্য দেশটিকে নিজস্ব শিল্প
ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ দেখাতে হয়। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তান দাবি করেছে,
বাংলাদেশ থেকে ডাম্পিংয়ের কারণে সে দেশের কোম্পানিগুলোর মুনাফা, উৎপাদিত
পণ্যের দাম ও উৎপাদনশীলতা কমেছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment