দুহাতে
টেনে ধরলেন চুল। ধপ করে হাঁটু ভেঙে পড়ে গেলেন মাটিতে। শরীর যেন তাতেও ভার
সামলে নিতে পারল না। সামনের সবুজ জমিনে গিয়ে ঠেকল জেরার্ড পিকের কপাল।
নিজের যে কপালটাকে পিকে তখন বিশ্বাসই করতে পারছেন না। এত কাছ থেকেও, এত
পরিষ্কার সুযোগ পেয়েও গোল পেলেন না! বার্সেলোনার কেউ নয়, পিকেকে
সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে এল ভ্যালেন্সিয়ারই একজন। বার্সার কেই-বা এখন কাকে
সান্ত্বনা দেবে! ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টাতেই বার্সেলোনারও সবকিছু যে
উল্টে যাবে, কে জানত! যে দলটা প্রায় ছয় মাস ধরে টানা ৩৯ ম্যাচ অপরাজিত ছিল,
তাদের কাছেই এখন জয় যেন দূর আকাশের তারা। যে দলটাকে মনে হচ্ছিল পৃথিবীর
সবচেয়ে সুখী পরিবার, সেটিই এখন ছন্নছাড়া। যে দলটার মুখে সব সময়ই ছিল হাসি,
তাদের চোখেমুখে ধাঁধাগ্রস্ত এক বিহ্বলতা। পরশু লিগে নিজেদের মাঠে
ভ্যালেন্সিয়ার কাছে হেরে গেল ২-১ গোলে। যে হার তাদের গতবার জেতা
ত্রিমুকুটের আরও একটি হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা প্রবল করে তুলল। জিততে থাকলে
যেমন সবকিছুই নিজেদের পক্ষে যায়, হারলেই আবার উল্টো ছবি। এখন যেমন কিছুই
যাচ্ছে না বার্সার পক্ষে। না হলে পরশু কিন্তু তারা খেলেছে দারুণ। তৈরি
করেছে একের পর এক গোল সম্ভাবনা। কিন্তু ওই যে, বার্সা এখন ভূতে পাওয়া এক
দল। না হলে ২৬ মিনিটে ইভান রাকিতিচ কেন আত্মঘাতী গোল করবেন! যে গোলটা
শোধ দিতে মরিয়া বার্সা প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পাল্টা আক্রমণে খেয়ে
বসবে আরও এক গোল। ২-০-তে পিছিয়ে পড়ার পর ফিরে আসা কঠিন। বার্সা সেই কঠিন
চ্যালেঞ্জে নুয়ে না পড়ে উজ্জীবিত লড়াই করল। কিন্তু লড়াইটাই শেষ কথা নয়।
ভাগ্যটা পাশে না থাকলে লিওনেল মেসির মতো খেলোয়াড়কেও কখনো কখনো বড্ড
সাদামাটা লাগে। মেসি অবশ্য অনেক দিন পর যেন ধুলো ঝেড়ে উঠতে শুরু করেছেন।
ফ্রি-কিকগুলো এখনো মানবদেয়ালে গিয়ে লাগলেও ৬৩ মিনিটে দারুণ এক গোলে
তিনিই ২-১ বানিয়ে দিয়েছিলেন। ৫০০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে গোলবঞ্চিত থাকার
পর ক্যারিয়ারের ৫০০তম গোল। মেসি এভাবে মাইলফলক ছুঁতে চাননি নিশ্চয়ই! অথচ
রাতটা অন্য রকম হতেও পারত! ‘আত্মঘাতী’ রাকিতিচের প্রায় প্রায়শ্চিত্ত করে
ফেলা দুর্দান্ত শটটা ভ্যালেন্সিয়া গোলরক্ষক ডিয়েগো আলভেস অমন
অবিশ্বাস্যভাবে সেভ না করলে, কিংবা গোলমুখের এক গজ সামনে থেকে শট নিয়েও
পিকে সেই অবিশ্বাস্য মিসটা না করলে; যে মিস পিকেকে কাল ভূমিশয্যাই নিতে
বাধ্য করেছে। শোকগ্রস্ত পিকের পিঠে পড়েছে ভ্যালেন্সিয়ারই সহমর্মিতার হাত!
পিকে হয়তো এখনো ভাবছেন, বাঁ পোস্টের ছয় ইঞ্চি দূর দিয়ে শুধু বলটাই নয়,
কে জানে, ট্রফিটাও মুঠো গলে বেরিয়ে গেল! লিগে টানা ২৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকা
বার্সাই এবার হারল টানা তিন ম্যাচে, ১৩ বছর পর এমন টানা তিন হার! লিগে
সর্বশেষ চার ম্যাচে জয় নেই। সব প্রতিযোগিতায় সর্বশেষ ছয় ম্যাচে জয় মাত্র
একটিতে। চ্যাম্পিয়নস লিগে এক ম্যাচে ১০ জনের দলের অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে
কষ্টার্জিত সেই জয়টিও কাজে আসেনি। ফিরতি লেগটা টুর্নামেন্ট থেকে
চ্যাম্পিয়নদের বিদায় করে দিয়েছে। লিগ শিরোপাও তারা ধরে রাখতে পারবে কি না,
সেটি বোঝা যাবে সামনের কয়েকটি ম্যাচে। তবে লুইস এনরিকে বেশ জোর গলাতেই
বলছেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে কোনো দল যদি লিগ শিরোপা জিততে পারে, সেই দলটার
নাম বার্সেলোনা।’ হয়তো পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে আছেন বলেই বার্সা কোচের
গলায় এমন জোর। কিন্তু গত মার্চের শেষেও যে দলটা নিকটতম দুই
প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে ৮ ও ১২ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল; সর্বশেষ ১২ পয়েন্টের
১১টিই তুলতে ব্যর্থ বার্সার সমান ৭৬ পয়েন্ট এখন অ্যাটলেটিকোর। মুখোমুখি
লড়াইয়ের হিসাবে এগিয়ে থাকায় সমান পয়েন্ট নিয়েও শীর্ষে বার্সা। রিয়ালও
কিন্তু পিছিয়ে মাত্র ১ পয়েন্টে। মার্চের পাতা উল্টে এপ্রিল আসার সঙ্গে
সঙ্গে সবকিছুই এমন ভোজবাজির মতো বদলে যাবে, কে জানত! সিনেমার
ক্লাইম্যাক্স এখানেই শেষ, নাকি বাকি আছে আরও! তথ্যসূত্র: এএফপি, রয়টার্স।
৩৯ ম্যাচে অপরাজিত থাকার পর
প্রতিপক্ষ স্কোর
২ এপ্রিল রিয়াল মাদ্রিদ ১-২
৫ এপ্রিল অ্যাটলেটিকো* ২-১
৯ এপ্রিল সোসিয়েদাদ ০-১
১৩ এপ্রিল অ্যাটলেটিকো* ০-২
১৭ এপ্রিল ভ্যালেন্সিয়া ১-২
* চ্যাম্পিয়নস লিগে
পয়েন্ট তালিকা
ম্যাচ জয় ড্র হার গোল পয়েন্ট
বার্সেলোনা ৩৩ ২৪ ৪ ৫ ৮৮/২৯ ৭৬
অ্যাটলেটিকো ৩৩ ২৪ ৪ ৫ ৫৭/১৬ ৭৬
রিয়াল ৩৩ ২৩ ৬ ৪ ৯৮/৩০ ৭৫
চার ম্যাচ আগে পয়েন্ট তালিকা
ম্যাচ জয় ড্র হার গোল পয়েন্ট
বার্সেলোনা ২৯ ২৪ ৩ ২ ৮৪/২২ ৭৫
অ্যাটলেটিকো ২৯ ২১ ৪ ৪ ৪৫/১২ ৬৭
রিয়াল ২৯ ১৯ ৬ ৪ ৮৩/২৮ ৬৩
তিন দলের বাকি ৫ ম্যাচ
লা লিগায় প্রতি দলের ম্যাচ বাকি আছে ৫টি করে। শিরোপার জন্য ত্রিমুখী লড়াইয়ের মীমাংসা যেখানে
বার্সেলোনা
২০এপ্রিল দেপোর্তিভো*
২৪ এপ্রিল গিজন
১ মে বেটিস*
৮ মে এসপানিওল
১৫ মে গ্রানাডা
অ্যাটলেটিকো
২০ এপ্রিল বিলবাও*
২৩ এপ্রিল মালাগা
৩০ এপ্রিল ভায়েকানো
৮ মে লেভান্তে*
১৫ মে সেল্টা ভিগো
রিয়াল মাদ্রিদ
২০ এপ্রিল ভিয়ারিয়াল
২৩ এপ্রিল ভায়েকানো*
৩০ এপ্রিল সোসিয়েদাদ*
৮ মে ভ্যালেন্সিয়া
১৫ মে দেপোর্তিভো*
* প্রতিপক্ষের মাঠে
৩৯ ম্যাচে অপরাজিত থাকার পর
প্রতিপক্ষ স্কোর
২ এপ্রিল রিয়াল মাদ্রিদ ১-২
৫ এপ্রিল অ্যাটলেটিকো* ২-১
৯ এপ্রিল সোসিয়েদাদ ০-১
১৩ এপ্রিল অ্যাটলেটিকো* ০-২
১৭ এপ্রিল ভ্যালেন্সিয়া ১-২
* চ্যাম্পিয়নস লিগে
পয়েন্ট তালিকা
ম্যাচ জয় ড্র হার গোল পয়েন্ট
বার্সেলোনা ৩৩ ২৪ ৪ ৫ ৮৮/২৯ ৭৬
অ্যাটলেটিকো ৩৩ ২৪ ৪ ৫ ৫৭/১৬ ৭৬
রিয়াল ৩৩ ২৩ ৬ ৪ ৯৮/৩০ ৭৫
চার ম্যাচ আগে পয়েন্ট তালিকা
ম্যাচ জয় ড্র হার গোল পয়েন্ট
বার্সেলোনা ২৯ ২৪ ৩ ২ ৮৪/২২ ৭৫
অ্যাটলেটিকো ২৯ ২১ ৪ ৪ ৪৫/১২ ৬৭
রিয়াল ২৯ ১৯ ৬ ৪ ৮৩/২৮ ৬৩
তিন দলের বাকি ৫ ম্যাচ
লা লিগায় প্রতি দলের ম্যাচ বাকি আছে ৫টি করে। শিরোপার জন্য ত্রিমুখী লড়াইয়ের মীমাংসা যেখানে
বার্সেলোনা
২০এপ্রিল দেপোর্তিভো*
২৪ এপ্রিল গিজন
১ মে বেটিস*
৮ মে এসপানিওল
১৫ মে গ্রানাডা
অ্যাটলেটিকো
২০ এপ্রিল বিলবাও*
২৩ এপ্রিল মালাগা
৩০ এপ্রিল ভায়েকানো
৮ মে লেভান্তে*
১৫ মে সেল্টা ভিগো
রিয়াল মাদ্রিদ
২০ এপ্রিল ভিয়ারিয়াল
২৩ এপ্রিল ভায়েকানো*
৩০ এপ্রিল সোসিয়েদাদ*
৮ মে ভ্যালেন্সিয়া
১৫ মে দেপোর্তিভো*
* প্রতিপক্ষের মাঠে

No comments:
Post a Comment