Saturday, April 2, 2016

ইস্পাতের ভবন তৈরির সরঞ্জাম আমদানি শুল্কমুক্ত করার দাবি

কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে প্রি-ফেব্রিকেটেড বিল্ডিং বা ইস্পাতের ভবন তৈরির সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা চায় বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ)। বর্তমানে এসব সরঞ্জাম আমদানিতে ৩১ থেকে ১০৮ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শুল্কমুক্ত এ সুবিধা দাবি করেছে পোশাক খাতের বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং পোশাকসহ অন্য খাতের মোড়ক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বিজিএপিএমইএ। একই সঙ্গে ইউপি ইস্যুর দায়িত্ব বুঝে পাওয়াসহ একগুচ্ছ দাবি জানিয়েছে তারা। শুল্কমুক্ত সুবিধায় প্রি-ফেব্রিকেটেড বিল্ডিং তৈরির সরঞ্জাম আমদানির বিষয়ে সংগঠনটির বক্তব্য, রানা প্লাজা ধসের পর পোশাক কারখানার পাশাপাশি পোশাকশিল্পের পশ্চাৎমুখী সংযোগ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ উন্নত বা কমপ্লায়েন্ট করতে চাপ বাড়ছে। তবে অধিকাংশ কারখানা অন্য কাজে ব্যবহৃত ভবনে বা শেয়ার বিল্ডিংয়ে রয়েছে। এই কারখানাগুলোকে শিগগিরই সরাতে হলে কম খরচে প্রি-ফেব্রিকেটেড বিল্ডিং তৈরি করতে হবে। তবে উচ্চ শুল্কের কারণে সুবিধাটি নিতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছর পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএকে প্রি-ফেব্রিকেটেড বিল্ডিংয়ের সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তাই সরাসরি রপ্তানিকারকদের পাশাপাশি প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারকদের এই সুবিধা দেওয়া উচিত বলে মনে করে বিজিএপিএমইএ। পোশাক খাতের বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম এবং পোশাকসহ অন্য খাতের মোড়ক পণ্য উৎপাদনে দেশ এখন স্বাবলম্বী। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে খাতটি প্রায় ৫৬০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে ২০ শতাংশ সরাসরি রপ্তানি, বাকিটা প্রচ্ছন্ন। বর্তমানে কার্টন, পলিব্যাগ, হ্যাঙ্গার, বোতাম, বোতামের ট্যাগ, মূল্য ট্যাগ, লেবেল, জিপার, হ্যাংট্যাগ, গামটেপসহ পোশাক খাতের ৩০ থেকে ৩৫ ধরনের সরঞ্জাম ও অন্যান্য খাতের মোড়ক তৈরি করে এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। এদিকে অনেক সময় নতুন যন্ত্রাংশ সংযোজন ও পুনর্বিন্যাসের কারণে কারখানা সম্প্রসারণের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু অন্যত্র কারখানা সম্প্রসারণের স্থানকে একই লাইসেন্সের অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলে তা করা হয় না। এ জন্য কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে পারছে না। তাই আগামী অর্থবছরের বাজেটে ধারাবাহিক (কনটিনিউয়াস) বন্ডের সুবিধা দাবি করেছে বিজিএপিএমইএ। এ ছাড়া বাজেট প্রস্তাবে ইউপি ইস্যুর দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে বিজিএপিএমইএ। এটি হলে বন্ড নিতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের অন্যায়ভাবে অর্থ খরচ, কালক্ষেপণ ও হয়রানির শিকার হতে হবে না বলে মনে করেন সংগঠনের নেতারা। সংগঠনটি জানায়, দেশীয় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান কিংবা সরাসরি রপ্তানি ক্রয়াদেশের বিপরীতে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির জন্য ইউপির দরকার হয়। বহু দেনদরবারের পর ২০১১ সালে দুটি সমিতিকে ইউপি (ইউটিলাইজেশন পারমিশন) ইস্যুর দায়িত্ব প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় এনবিআর। এপ্রিলে সমঝোতা চুক্তি হয়। পরে বন্ড কমিশনারেট অফিস, বিজিএপিএমইএ এবং প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি সমিতি (বিপিজিএমইএ) প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে। পরের বছর জানুয়ারিতে ডেমোনেস্ট্রেশনও সম্পন্ন হয়। বিজিএপিএমইএর সাবেক সভাপতি রাফেজ আলম চৌধুরী বলেন, ‘পাঁচ বছর ধরে ইউপি ইস্যুর বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। সব প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। তারপরও দায়িত্ব বুঝে না পাওয়াটা সত্যিই দুঃখজনক। অর্থমন্ত্রী এনবিআরকে নির্দেশ দিয়েছেন, তবু হচ্ছে না।’

No comments:

Post a Comment