![]() |
| হিলারি ও ট্রাম্প |
নিজের
জনসভায় বিপুল জনসমাগম দেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে
ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স আশা
করেছিলেন, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে সরাসরি জয় না পেলেও হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে
তিনি সমানে সমানে লড়বেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে
সিনেটর টেড ক্রুজ ও গভর্নর জন কেইসিকের চেষ্টা ছিল ধনকুবের ডোনাল্ড
ট্রাম্পকে ঠেকাতে না পারলেও তাঁর মোট ভোটের পরিমাণ ৫০ শতাংশের নিচে রাখা।
নিউইয়র্কের ভোটাররা দুই হিসাবকেই ভুল প্রমাণ করেছেন। হিলারি ও ট্রাম্প
দুজনেই মোট ভোটের প্রায় ৬০ শতাংশ দখল করে স্যান্ডার্স ও ক্রুজের বিজয় রথ
থামিয়ে দিয়েছেন। ফলাফলে দেখা গেছে, হিলারি ক্লিনটন ৫৮ শতাংশ আর
প্রতিদ্বন্দ্বী স্যান্ডার্স পেয়েছেন ৪২ শতাংশ ভোট। ডোনাল্ড ট্রাম্প ৬০
শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তাঁর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী জন কেইসিক পেয়েছেন ২৫ শতাংশ
আর টেড ক্রুজ ১৫ শতাংশ ভোট। মোট ডেলিগেটের হিসাবে হিলারি এখন কার্যত
স্যান্ডার্সের নাগালের বাইরে। একই কথা ট্রাম্প সম্বন্ধে বলা না গেলেও জুলাই
মাসে দলীয় কনভেনশনে তাঁর মনোনয়ন সম্ভাবনা এখন অনেক বেশি উজ্জ্বল, সে কথায়
কোনো অত্যুক্তি নেই। নিউইয়র্ক শহরের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় গোলযোগের
কারণে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার মানুষ ভোট দিতে সক্ষম হননি। নির্বাচনী বোর্ড
থেকে জানানো হয়েছে, কম্পিউটারে রক্ষিত তালিকা থেকে তাঁদের নাম মুছে গেছে।
এমন ঘটনা কেন ঘটল, তা নিয়ে তদন্তের দাবি করেছেন নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি
ব্লাজিও। বার্নি স্যান্ডার্স দাবি করেছেন, এ গোলযোগের কারণে তাঁর সমর্থকেরা
ভোট দিতে সক্ষম হননি। ডেমোক্রেটিক পার্টির নিয়ম অনুসারে শুধু নিবন্ধন
করেছেন ডেমোক্র্যাট সদস্যই এই প্রাইমারি ভোটে অংশ নিতে সক্ষম হন।
স্যান্ডার্স এ নিয়মেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর সমর্থকদের এক বড় অংশ
স্বতন্ত্র, যাঁদের কোনো দলীয় আনুগত্য নেই। যেসব তরুণের সমর্থনে তিনি
‘রাজনৈতিক বিপ্লব’ শুরুর কথা বলেছেন, তাঁদের অধিকাংশই সময়মতো ভোটার
তালিকাভুক্ত হয়নি। ফলে তাঁর সমর্থকদের এক বড় অংশ ভোট দিতে ব্যর্থ হয়। এ
বিতর্ক সত্ত্বেও যে বিপুল ব্যবধানে হিলারি নিউইয়র্কে জয় পেয়েছেন, তার
গুরুত্ব খাটো করে দেখা অসম্ভব। এর আগের নয়টি প্রাইমারির আটটিতে জয়লাভ করে
বার্নি স্যান্ডার্স হিলারি শিবিরে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। দলীয় নেতৃত্বে
প্রশ্ন ওঠা শুরু হয়েছিল, হিলারি শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন নিশ্চিত করতে পারবেন কি
না। এখন অন্ততপক্ষে অন্য বড় কোনো বিপর্যয় দেখা না দিলে, সে প্রশ্ন উঠবে
না। এ বিজয়ের ফলে হিলারি শুধু স্বস্তির নিশ্বাসই ফেলেননি, সাধারণ নির্বাচনে
তাঁর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীর দিকে মনোযোগ দেওয়া শুরুর সুযোগ পাবেন।
নিজের বিজয় ভাষণে তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান নিউইয়র্কের ভোটারদের। তিনি
বলেন, ‘আমি সারা দেশে বিভিন্ন নির্বাচনে জয়লাভ করেছি, কিন্তু নিজ ঘরে জয়
পাওয়ার যে আনন্দ তার কোনো তুলনা নেই।’ প্রায় একই ভাষায় নিজ সমর্থকদের
ধন্যবাদ জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। সহাস্যে ট্রাম্প বলেন, ‘বলতে পারেন, আজকের
বিজয়ের পর আর তেমন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাকি থাকল না।’ দলীয় কনভেনশনে
প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেতে যে ১ হাজার ২৩৭ ডেলিগেটের সমর্থন প্রয়োজন,
ট্রাম্প জানান, তা তিনি অবশ্যই লাভ করবেন। এর আগে দলীয় কনভেনশনে তাঁকে
মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করার যেকোনো ‘ষড়যন্ত্রের’ বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি জানিয়ে
ট্রাম্প বলেছিলেন, তেমন কোনো চেষ্টা হলে ‘দাঙ্গা’ বাধবে। তাঁর নিকটতম
প্রতিদ্বন্দ্বী টেড ক্রুজের তুলনায় তাঁর বাক্সে ৩০০-এরও বেশি ডেলিগেট
রয়েছে, বিজয় ভাষণে তিনি সে কথা স্মরণ করিয়ে দেন। অধিকাংশ ভাষ্যকারই একমত যে
পূর্বাঞ্চলের যে পাঁচটি রাজ্যে (পেনসিলভানিয়া, নিউজার্সি, ম্যারিল্যান্ড,
রোড আইল্যান্ড, ডেলাওয়্যার) ২৬ এপ্রিল প্রাইমারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে,
তার অধিকাংশই ট্রাম্পের কবজায় যাবে। জনমত জরিপে তিনি ক্রুজ ও কেইসিকের
তুলনায় বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। একই আশা প্রকাশ করেছেন হিলারি। এ
রাজ্যগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আফ্রিকান-আমেরিকান ও হিস্পানিক অভিবাসীদের
সমর্থনে তিনি নিউইয়র্কের ফলাফল পুনরাবৃত্তির আশা করছেন। নিউইয়র্কে হিলারির
সাফল্যের অন্য কারণ ছিল, সব বর্ণের পঞ্চাশোর্ধ্ব নারীদের মধ্য তাঁর বিপুল
সমর্থন।

No comments:
Post a Comment