Wednesday, April 27, 2016

এক বছর আগের অবস্থানে ডিএসইর সূচক

পতনের ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার আবারও দেশের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন ঘটেছে। এর ফলে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমে সাড়ে ১১ মাস আগের অবস্থানে ফিরে গেছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল দিন শেষে প্রায় ১ শতাংশ বা ৪০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ২৮২ পয়েন্টে। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ১০ মে ডিএসইর এ সূচকটি ৪ হাজার ২৭৭ পয়েন্টের সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক কমেছে। সেখানকার সার্বিক সূচকটি প্রায় ১০২ পয়েন্ট বা পৌনে ১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ১৯৩ পয়েন্টে। তবে সূচক পতনের দিনে উভয় বাজারে লেনদেন খানিকটা বেড়েছে। বাজার-সংশ্লিষ্ট একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংকার ও ব্রোকারেজ হাউসের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে দরপতনের সঠিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বরং তাঁরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু নতুন বিনিয়োগকারীও বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। শেয়ার কেনার জন্য বিও হিসাবে যে অর্থ জমা করেছিলেন, এখন তা তুলে নিচ্ছেন কেউ কেউ। জানতে চাইলে ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট সমন্বয়ের সময়সীমা নিয়ে একধরনের ‘জুজুর’ ভয় বিরাজ করছে। বিনিয়োগসীমা সমন্বয়ের সময় বাড়ানো হলে তাতে বাজারে কতটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, তা বলা মুশকিল। তা সত্ত্বেও বিষয়টিকে ঘিরে বাজারে একধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাতেই বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেশি। শাকিল রিজভী আরও বলেন, বর্তমানে তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানির শেয়ারের দাম ক্রেতার জন্য বেশ আকর্ষণীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবু বিনিয়োগকারীরা তাতে আগ্রহী হচ্ছেন না। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ের সময় না বাড়লেও তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি বা শেয়ারবাজার বন্ধ হয়ে যাবে না। তবে বাজারের পতনের কারণ সম্পর্কে ভিন্নমত পাওয়া গেল গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ হেলালের কাছ থেকে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এই মুহূর্তে বাজারের দরপতনের প্রধান কারণ প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওতে আসা কোম্পানির শেয়ার। সেকেন্ডারি বাজারে এখন চাহিদার চরম ঘাটতি চলছে। এ অবস্থায় একদিকে আইপিও শেয়ারের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো কিছু অর্থ নিয়ে যাচ্ছে। আবার ওই আইপিও শেয়ার যাঁরা পাচ্ছেন, তাঁরা বাড়তি মূল্যে তা সেকেন্ডারি বাজারে বিক্রি করে আরও কিছু অর্থ তুলে নিচ্ছেন। ফলে দুভাবে বাজার থেকে অর্থ চলে যাচ্ছে কিন্তু তার বিপরীতে নতুন অর্থ আসছে না। এ ছাড়া বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটের ঘাটতিও রয়েছে। আইপিও শেয়ারের মাধ্যমে সেকেন্ডারি বাজার থেকে অর্থ চলে যাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে মোহাম্মদ হেলাল বলেন, ধরা যাক, কোনো একটি কোম্পানির আইপিও শেয়ারের দাম ৩০ টাকা। বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে এ দরে টাকা তুলে নিচ্ছেন কোম্পানির মালিকেরা। আবারও ৩০ টাকার ওই শেয়ার সেকেন্ডারি বাজারে আসার পর দেখা যাচ্ছে হয়তো ৬০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। আর তখন লটারিতে আইপিও শেয়ার বিজয়ীরা ৬০ টাকায় ওই শেয়ার বিক্রি করে আরও কিছু অর্থ তুলে নিচ্ছেন। এতে সেকেন্ডারি বাজারে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে একধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে। এদিকে সূচক কমলেও ঢাকার বাজারে গতকাল লেনদেনের পরিমাণ খানিকটা বেড়েছে। দিন শেষে ডিএসইতে প্রায় ৩৪৪ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ১৩ কোটি টাকা বেশি। এদিন ডিএসইতে ৩১৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৯১টির দাম কমেছে, বেড়েছে ৭৮টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৪৮টির দাম। চট্টগ্রামের বাজারে লেনদেন হওয়া ২৩৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৫৪টিরই দাম কমেছে। বেড়েছে ৫৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৬টির দাম। দিন শেষে সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২২ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ২ কোটি টাকা বেশি।

No comments:

Post a Comment