![]() |
| জনির (ডানে) দারুণ এক গোলের পর তাঁর উদ্যাপনের সঙ্গী ইসমাইল বাঙ্গুরা (মাঝে) ও সাঈদ। মোহামেডানের ৫-১ গোলের জয়ে দুটি গোল বাঙ্গুরার l শামসুল হক |
দুই
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিপরীত চিত্র দেখল কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম।
তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষের সঙ্গে ড্র করে যেখানে হতাশা নিয়ে ফিরেছে ঢাকা
আবাহনী, সেখানে শক্ত প্রতিপক্ষকে বড় ব্যবধানে হারানোর উচ্ছ্বাসে মেতেছে
মোহামেডান। মাঠে আবাহনীর খেলা থাকলেই ইদানীং গ্যালারিতে দেখা যায় ভিনদেশি
এক দর্শককে। কালও বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ভিআইপি বক্সে বসে খেলা দেখলেন
আবাহনীর ইংলিশ ফরোয়ার্ড লি টাকের স্ত্রী জর্জিয়া। ম্যাচ শেষে জর্জিয়ার
মুখে কিন্তু হাসি ছিল না। হাসি ছিল না আবাহনীর নতুন কোচ দ্রাগ মমিচের
মুখেও। দুর্বল আরামবাগের সঙ্গে কাল গোলশূন্য ড্র করে সেমিফাইনালে ওঠার
কাজটা বেশ কঠিনই করে তুলেছে আবাহনী! ক্রোয়েশিয়া থেকে কাল সকালে ঢাকায়
পৌঁছেছেন মমিচ। তবে ডাগ-আউটে দাঁড়াবেন আগামীকাল, পরের ম্যাচে। কাল পর্যন্ত
আবাহনীর ডাগ-আউটে ছিলেন চিরচেনা অমলেশ সেন। আবাহনীতে ক্রোয়াট-অধ্যায়
শুরু হওয়ার আগে তিনি দেখলেন দলের পুরোনো রোগ। ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় গোল
করতে না পারার আক্ষেপের সঙ্গে যোগ হলো লি টাকের লাল কার্ড। ৪১ মিনিটে
আরামবাগের ফরোয়ার্ড আবু সুফিয়ানকে লাথি মেরে মাঠের বাইরে যেতে হয়েছে
লিকে। অথচ এই আবাহনী ঠিক আগের ম্যাচেই যেন জাগিয়ে তুলেছিল নতুন স্বপ্ন,
বিজেএমসিকে বিধ্বস্ত করেছিল ৫-০ গোলে। একই সঙ্গে জ্বলে উঠেছিলেন তিন
বিদেশি—লি, সানডে ও কামারা। কিন্তু কাল খলনায়ক বনে গেলেন লি। তাঁর লাল
কার্ডের মূল্য দিল আবাহনী পয়েন্ট খুইয়ে। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও
অবশ্য আবাহনীরই দাপট ছিল ম্যাচে। কামারা ও সানডে বক্সে ঢুকেছেন ঠিকই,
কিন্তু খেই হারিয়েছেন ঠিক সময়ে গিয়ে। ৩ ম্যাচে ২ ড্র ও ১ জয়ে আবাহনীর
পয়েন্ট ৫। পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে আবাহনী। ৫ ম্যাচে টানা ৪টি ড্র করে ৪
পয়েন্ট আরামবাগের। তাদের ১টি মাত্র হার শেখ রাসেলের সঙ্গে। মোহামেডানের
জয়: আবাহনীর ড্রয়ের দিনে কী দারুণভাবেই না জ্বলে উঠল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী
মোহামেডান! চট্টগ্রাম আবাহনীকে কাল ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে সাদা-কালোরা।
২০ মিনিটে মাসুক মিয়া জনির কর্নার থেকে হেডে প্রথম গোলটি করেন ইসমাইল
বাঙ্গুরা। বক্সের মধ্যে জটলা থেকে গোল করে ৩২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ
করেছেন বিপলু আহমেদ। চট্টগ্রাম আবাহনী পেনাল্টি থেকে ২-১ ব্যবধান করেছে ৩৬
মিনিটে। চট্টগ্রাম আবাহনীর নোয়েলকে মোহামেডানের ডিফেন্ডার দিদারুল বক্সে
ফেলে দিলে পেনাল্টি দেন রেফারি। পেনাল্টি থেকে গোল করেন জাহিদ।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও উজ্জীবিত মোহামেডানের সামনে একেবারে অসহায় হয়ে পড়ে
চট্টগ্রামের দলটি। ৫০ মিনিটে আবারও নায়ক ইসমাইল বাঙ্গুরা, বিপলুর পাস থেকে
আলতো টোকায় করেন ৩-১। ৬৫ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে একাই বল টেনে নিয়ে দলের
চতুর্থ গোলটি করেন মাসুক মিয়া জনি। ম্যাচের শেষ মিনিটে আবদুল মালেকের ক্রস
থেকে ৫-১ করেছেন ইউসুফ সিফাত। ৪ ম্যাচে ২ জয় ও ২ হারে ৬ পয়েন্ট
মোহামেডানের। গ্রুপের শেষ ম্যাচে ব্রাদার্সের সঙ্গে জিতলেও সেমিফাইনালে ওঠা
অনিশ্চিত তাদের। টানা ৩ ম্যাচ জয়ের পর কাল হারল চট্টগ্রাম আবাহনী। হেরেও ৯
পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভালোভাবেই আছে দলটি।
আজকের খেলা: বিজেএমসি-ফেনী সকার (বিকেল সাড়ে ৫টা, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম)।
আজকের খেলা: বিজেএমসি-ফেনী সকার (বিকেল সাড়ে ৫টা, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম)।

No comments:
Post a Comment