Monday, April 18, 2016

স্বাগত জানাচ্ছেন সালাউদ্দিন

নির্বাচনে তাঁরা প্রতিপক্ষ। তবে মনোনয়নপত্র তোলার শেষ দিনে
বাফুফে সভাপতির কক্ষে সালাউদ্দিনের সঙ্গে দেখা করতে
গেলেন গোলাম রব্বান​ী হেলাল (সবার বাঁয়ে)
হঠাৎ কাজী সালাউদ্দিনের কক্ষে এসে ঢুকলেন গোলাম রব্বানী হেলাল। স্বাভাবিকভাবেই সবার চোখ গেল সেদিকেই। বাফুফের গত নির্বাচনে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি পদে হেরে কালই প্রথম বাফুফে ভবনে এলেন একসময়ের সালাউদ্দিন-ঘনিষ্ঠ হেলাল। দুজনের সৌহার্দ্য বিনিময় দেখে অনেকে ভাবছিলেন, সালাউদ্দিনের সমর্থনে সভাপতি পদে প্রার্থী না হওয়ার ঘোষণা দিতে পারেন হেলাল। কিন্তু না, নির্বাচন করার ব্যাপারে তিনি অনড়! সঙ্গী সাবেক ফুটবলার মাসুদ রানা, আলমগীরদের কাছে এক লাখ টাকা দিয়ে সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র কিনে আনতে বললেন সালাউদ্দিনের কক্ষে অনেকটা সময় কাটিয়ে। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হেলাল কথাবার্তায় থাকলেন সতর্ক, ‘নির্বাচন করা গণতান্ত্রিক অধিকার। এ জন্যই নির্বাচন করছি এবং সেটা ফুটবলের ভালোর জন্যই।’ সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার কারণটাও ব্যাখ্যা করলেন, ‘সালাউদ্দিন ভাইয়ের বড় ভক্ত আমি। তবে তিনি গত আট বছরে ফুটবলের উন্নয়ন করতে পারেননি। আট বছরে আটজন খেলোয়াড়ও তৈরি হয়নি।’ নির্বাচিত হলে খেলোয়াড় তৈরি করবেন বলে অঙ্গীকার করলেন। মনজুর কাদেরের নেতৃত্বে ‘ফুটবল বাঁচাও’ আন্দোলনের সমালোচনা করলেন কালও, ‘মানববন্ধন করে ফুটবলের উন্নয়ন হবে না।’ ওই পরিষদের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে নরসিংদী-২ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ কামরুল আশরাফকে সামনে নিয়ে আসারও সমালোচনা করলেন, ‘এটা কামরুল সাহেবের জায়গা নয়। ওনার প্রার্থী হওয়া মোটেও সমর্থন করি না। ফুটবল অঙ্গনেরই একজনের সভাপতি হওয়া উচিত।’ বাফুফে ভবন এ সময় ভিড়ে গিজগিজ করছিল। সভাপতি প্রার্থীরাই আগ্রহের কেন্দ্রে। যাঁর মধ্যে আছেন কাজী সালাউদ্দিনও। প্রথমবার তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন একজন, দ্বিতীয়বার তিনি একক প্রার্থী। এবার হেলাল, কামরুল ছাড়াও টঙ্গী ক্রীড়াচক্রের সভাপতি নুরুল ইসলামও সভাপতি পদে মনোনয়নপত্র কিনেছেন। এই প্রার্থীদের সম্পর্কে শুধু একটা প্রশ্নেরই উত্তর দিলেন সালাউদ্দিন। কাল তাঁর নিজেরসহ গোটা পরিষদের মনোনয়নপত্র কিনে বেশ শান্ত গলায় বললেন, ‘এটা গণতান্ত্রিক দেশ, যে কেউ নির্বাচন করতে পারেন। তাই সভাপতি পদের প্রার্থীদের সবাইকে স্বাগত জানাই। সবকিছুর মীমাংসা হবে ৩০ এপ্রিল ১৩৪ জন কাউন্সিলরের হাতে।’ আট বছর ধরে বাফুফের সভাপতি পদে অছেন। এবার জয়ী হওয়ার ব্যাপারে কতটা আত্মবিশ্বাসী? প্রশ্নটার উত্তর দিতে চান কয়েক দিন পর, ‘মনোনয়নপত্র জমা হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলন করে সব প্রশ্নের জবাব দেব।’ বাফুফের এই নির্বাচনে যে কেউ প্রার্থী হতে পারেন। ফলে প্রার্থী হওয়ার হিড়িক পড়েছে। ৬২টি মনোনয়নপত্র বিক্রি করে বাফুফের আয় সাড়ে ২৩ লাখ টাকা। মনোনয়নপত্র বিক্রির তোরজোড়ের শেষ মুহূর্তে সালাউদ্দিনের পরিষদ থেকে বাদ পড়েছেন কয়েকজন। ঢুকে পড়েছেন নতুন কেউ। তবে এই পরিষদে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি পদে সালাম মুর্শেদীই প্রার্থী হচ্ছেন। চার সহসভাপতি পদে দুজন সাংসদ—শামসুল হক চৌধুরী, কাজী নাবিল আহমেদ। আছেন বাদল রায় ও ব্রাদার্সের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি। সালাউদ্দিন পরিষদে সম্ভাব্য সদস্যপ্রার্থী: হারুনুর রশিদ, শওকত আলী খান জাহাঙ্গীর, ফজলুর রহমান বাবুল, আমিরুল ইসলাম বাবু, ইলিয়াস হোসেন, সালেহ জামান সেলিম, মাহফুজা আক্তার কিরণ। ফোরাম-মনোনীত ঢাকার বাইরে থেকে সাতজন আবদুর রহিম, আজমল আহমেদ তপন, আলমগীর হোসেন আলো, মাহিউদ্দিন সেলিম, তৌফিকুল ইসলাম তোফা, আরিফ হোসেন মুন, অমিত খান শুভ্র। ওদিকে ‘ফুটবল বাঁচাও’ আন্দালনের প্রার্থী তালিকায় দেখা যাচ্ছে চমক। জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি পদে মনোনয়নপত্র কিনেছেন খোদ মনজুর কাদের, যিনি নির্বাচন করবেন না বলেই শোনা যাচ্ছিল। তাঁর পরিষদে চার সহসভাপতি পদে মনোনয়নপত্র কিনেছেন যাঁরা, তাঁদের মধ্যে আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নুর নামটা অনুমিতই ছিল। তবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক ও বিসিবির সাবেক পরিচালক দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুলের নামটা এল শেষ সময়ে। সঙ্গে মোহামেডানের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া ও শেখ জামালের পরিচালক নজিব আহমেদ। সদস্যপদে এ পরিষদে ঢাকার প্রার্থী নওশেরুজ্জামান, শেখ মোহাম্মদ আসলাম, কায়সার হামিদ, সৈয়দ রুম্মান বিন ওয়ালী সাব্বির, আবু হোসেন প্রিন্স, কামরুন নাহার ডানা। অন্য প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত হয়নি।

No comments:

Post a Comment