![]() |
| নগরপ্রতিদ্বন্দ্বীরা নেমে যাচ্ছে প্রিমিয়ার লিগ থেকে। অ্যাস্টন ভিলার অবনমন নিশ্চিত হওয়ার পর খুশিমনেই তাদের বিদায় জানালেন ওয়েস্ট ব্রম সমর্থকেরা। কাল ওয়েস্ট ব্রমের মাঠ |
উইলিয়াম
ম্যাকগ্রেগর এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন ১০৫ বছর আগে। তবে গত পরশু স্কটিশ
ভদ্রলোক অন্যলোক থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-অ্যাস্টন ভিলা ম্যাচটা দেখলে
নিশ্চিতভাবেই আফসোস করেছেন। যে ক্লাবকে নিয়ে ফুটবলে একটা বিপ্লব ঘটিয়ে
দিয়েছিলেন, সেই ভিলাকেই অবনমনের লজ্জায় পড়তে দেখা তো ম্যাকগ্রেগরের জন্য
সহ্য করা কঠিনই। শুধু ম্যাকগ্রেগর কেন, অ্যাস্টন ভিলার অবনমন ইংলিশ
ফুটবলের জন্যই আলোড়ন তোলার মতো এক ঘটনা। ম্যাকগ্রেগরকে নিশ্চয়ই চিনতে
পারছেন না। না চেনারই কথা। ১৮৮৮ সালে যে যুগের শুরু করেছিলেন, তার পর এক
শতাব্দীরও বেশি সময় কেটে গেছে। ম্যাকগ্রেগর ছিলেন অ্যাস্টন ভিলার পরিচালক।
বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে তাঁর মাথায় আসে, ক্লাবগুলোকে নিয়ে একটা
কাঠামোবদ্ধ লিগ খেললে কেমন হয়! সেই ভাবনা থেকেই শুরু বিশ্বের প্রথম ফুটবল
লিগের। অ্যাস্টন ভিলা তাই এক অর্থে ইংলিশ ফুটবলের আঁতুড়ঘরের সাক্ষী। ১৯৯২
সালে যখন সেই ফুটবল লিগ ভেঙে প্রিমিয়ার লিগ শুরু হলো, সেখানেও ভিলা
নিয়মিত দল। সেই ভিলাই ২৮ বছর পর নেমে গেল ইংলিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তর
থেকে। বার্মিংহামের মতো একটা বর্ধিষ্ণু শহরের বড় ক্লাব বলেই নয়,
ধারে-ভারেও ভিলা অনেক ক্লাবের চেয়েই এগিয়ে। পরিসংখ্যানেও সেটির প্রতিফলন।
ইংলিশ ফুটবলে সফলতম ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (২১টি শিরোপা), এর পরেই
লিভারপুল (১৮), আর্সেনাল (১৩) ও এভারটন (৯)। ৭টি লিগ শিরোপা নিয়ে ভিলা আছে
পাঁচে। আজকের দাপুটে ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি বা টটেনহামের চেয়েও তাদের
শোকেসে লিগ-জয়ের স্মারক বেশি। শুধু ইউরোপের সাফল্য হিসাব করলেও ভিলা
প্রিমিয়ার লিগের কুলীন শ্রেণিতেই পড়ে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লিভারপুল
আর চেলসির বাইরে কয়টা ইংলিশ ক্লাবের ইউরোপ-সেরা হয়েছে—এটি কুইজের প্রশ্ন
হতে পারে। নটিংহাম ফরেস্টের নামটা হয়তো অনেকেরই জানা, তবে অ্যাস্টন ভিলারও
যে ১৯৮২ সালে এই কীর্তি আছে—এই তথ্যটা নিয়ে খুব একটা নাড়াচাড়া হয় না।
সাত বছর আগেও ভিলার অবনমনের কথা ভাবাটা অবিশ্বাস্যই ছিল। ২০০৮-০৯ মৌসুমের
কথা ধরুন। অ্যাশলি ইয়াং, গ্যারেথ ব্যারি, জেমস মিলনারদের নিয়ে ভিলার
শীর্ষ চারে খেলাটা ওই মৌসুমে একরকম নিশ্চিতই ছিল। কিন্তু শেষ দিকে মুখ
থুবড়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত লিগ শেষ করতে হয় ছয়ে। অনেক দিনের পরীক্ষিত কোচ
মার্টিন ও’নিল ওই বছরেই ক্লাব ছেড়ে যান। ব্যারি, ইয়াংরাও একে একে ক্লাব
ছাড়তে থাকেন। যে ক্লাবটি ২০০৭ থেকে টানা তিন মৌসুম ৬ নম্বরে লিগ শেষ
করেছিল, সেই ক্লাবটিই ২০১১ সাল থেকে প্রথম পনেরোতেই ঢুকতে পারেনি! তারপরও
ধুঁকে ধুঁকে হলেও ইংলিশ লিগে টিকে ছিল অ্যাস্টন ভিলা। কিন্তু ক্ষয় হতে হতে
সুতাটা অবশেষে ছিঁড়েই গেল। টম হ্যাঙ্কস, প্রিন্স উইলিয়ামদের সমর্থনধন্য
ক্লাবটি এখন চলে যাচ্ছে পাদপ্রদীপের আড়ালে। আবার কি ফেরা হবে ইংলিশ
ফুটবলের মূল মঞ্চে? অন্যলোকে ম্যাকগ্রেগর নিশ্চয়ই ওই দিনটির জন্য ক্ষণ
গুনতে শুরু করেছেন! ১৮৯৪ থেকে ১৯১০—এই ১৬ বছরে ৬ বার ইংলিশ লিগ জিতেছিল
অ্যাস্টন ভিলা। এরপর লিগে একমাত্র শিরোপা ১৯৮১ সালে। ২৮ বছর পর ইংলিশ
ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরে নেমে গেল ভিলা। প্রিমিয়ার লিগের ৬টি ক্লাবের কখনো
অবনমন হয়নি—ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লিভারপুল, আর্সেনাল, চেলসি, টটেনহাম,
এভারটন।

No comments:
Post a Comment