Monday, April 18, 2016

পেলেগ্রিনির সেরা আগুয়েরো

চোট ছিল, ভোগাচ্ছিল গোলখরাও। সব পেছনে ফেলে হ্যাটট্রিক
করে নিজেকে চেনালেন কুন আগুয়েরো। পরশু চেলসির মাঠে
কথাটা দুভাবেই বলা যায়। বড় দেরি করে ফর্মে ফিরলেন সার্জিও আগুয়েরো। কিংবা হয়তো সবচেয়ে ভালো সময়েই ফর্মে ফিরলেন আগুয়েরো। আপাতত কোনোটিকেই ভুল বলা যাবে না! দেরি হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। লিগে ৩৩টি ম্যাচ হয়ে গেছে ম্যানচেস্টার সিটির। ৬০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় ৩ নম্বরে। ৩৪ ম্যাচে ৭৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে লেস্টার সিটি, সিটির সমান ম্যাচে ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে ২ নম্বরে টটেনহাম। বাকি পাঁচ ম্যাচে অতিনাটকীয় কিছু না ঘটলে সিটির শিরোপা জয়ের আশা নেই বললেই চলে। অথচ পরশু যে আগুয়েরো হ্যাটট্রিক করে চেলসির বিপক্ষে সিটিকে ৩-০ গোলে জিতিয়ে আনলেন, সেই আগুয়েরোকেই সিটি কিছুদিন আগে পেলে ছবিটা অন্য রকম হতে পারত। কিছুটা দেরি তো হয়েই গেছে। আবার অন্যভাবে দেখলে এই সময়ে আগুয়েরোর স্বরূপে ফেরার একটা ভালো দিকও আছে। লিগ শিরোপার আশা প্রায় শেষ হয়ে গেলেও চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে উঠেছে সিটি। সেখানে অপেক্ষা করছে রিয়াল মাদ্রিদের মতো প্রবল প্রতাপশালী প্রতিপক্ষ। আবার পরের মৌসুমে প্লে-অফ ছাড়া সরাসরি চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলতে হলেও প্রিমিয়ার লিগে তিনের মধ্যে থাকতে হবে। মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে ছন্দে থাকা আগুয়েরোকেই তো সবচেয়ে বেশি দরকার সিটির। আসলে আগুয়েরোর এই ছন্দে ফেরা সিটির জন্য কতটুকু কাজে দেয়, সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে পরশু ম্যাচে আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ তাঁর ক্লাব কোচ ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি। লিগে এ মৌসুমে ২৬ ম্যাচ খেলে ২১ গোল করেছেন আগুয়েরো। গোলসংখ্যায় অবশ্য তাঁর চেয়ে এগিয়ে টটেনহামের হ্যারি কেন (৩৩ ম্যাচে ২২), লেস্টারের জেমি ভার্ডিও করেছেন ৩৪ ম্যাচে ২২ গোল। তবে হ্যারি কেন যেখানে প্রতি গোলের জন্য খেলেছেন ১৩৩ মিনিট, ভার্ডি ১৩৫ মিনিট, সেখানে আগুয়েরোর প্রতি ৯৭ মিনিটেই একটি গোল। পেলেগ্রিনির চোখে তাই আগুয়েরোই প্রিমিয়ার লিগের সেরা স্ট্রাইকার, ‘এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, প্রিমিয়ার লিগে অনেক ভালো ভালো খেলোয়াড় আছে। কিন্তু আগুয়েরো অন্যতম সেরা এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। আমি নিশ্চিত, প্রিমিয়ার লিগে এ মুহূর্তে আগুয়েরোই সেরা স্ট্রাইকার। ও প্রতিটি ম্যাচেই ব্যবধান গড়ে দিচ্ছে।’ তবে এত কিছুর করার পরও আর্জেন্টাইন এই স্ট্রাইকার কখনো ইংল্যান্ডের ফুটবল লেখকদের চোখে সেরা খেলোয়াড় হতে পারেননি, জিততে পারেননি পেশাদার ফুটবলারদের বিচারে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও। প্রিমিয়ার লিগে তাই আগুয়েরোকে কিছুটা অবমূল্যায়িত বলেই মনে করেন পেলেগ্রিনি, ‘খুবই আশ্চর্যজনক যে, অনেক বছর এই লিগে খেলার পরেও সে কখনো সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পায়নি। কিন্তু আমার চোখে সে-ই সেরা।’ এএফপি।

No comments:

Post a Comment