![]() |
| অনুশীলনে ফুটবল নিয়ে পড়লেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেট অধিনায়ক এউইন মরগান ও ব্যাটসম্যান জেসন রয়। |
নিউজিল্যান্ডকে
রীতিমতো উড়িয়ে দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এসেছে ইংল্যান্ড।
আগামীকাল ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে তারা। ক্রিকেটের
সংক্ষিপ্ততম সংস্করণের বিজয়ীদের মুকুট পরাবে কলকাতার ইডেন গার্ডেন। এই
মাঠেই লেখা হয়েছিল ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় দুঃখের গল্পটি। ইডেন গার্ডেনে
প্রায় তিন দশক আগের এক ভুল সিদ্ধান্তের প্রায়শ্চিত্ত এখনো করে চলেছে
ইংল্যান্ড। ১৯৮৭ বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রায় জেতা ম্যাচটি ইংল্যান্ড হেরে
গিয়েছিল অধিনায়ক মাইক গ্যাটিংয়ের হঠকারী এক সিদ্ধান্তে। হঠাৎ করে রিভার্স
সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হয়ে যান গ্যাটিং। ইংল্যান্ড আর বিশ্বকাপের মাঝখানে
দূরত্ব ছিল ৭ রান। ইডেন গার্ডেনের সেই ভূত আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা। এত
বছরেও ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতা হয়নি দলটির। আগামীকালের এই ম্যাচ দিয়ে সেই দুঃখ
পুরোপুরি ভোলা হয়তো সম্ভব নয়। এ তো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, এই শিরোপার
স্বাদও ৬ বছর আগেই পেয়েছে ইংল্যান্ড। তবু ইডেন গার্ডেনের দুঃখ ভোলার একটা
উপলক্ষ তো পাচ্ছে ইংল্যান্ড। সুযোগটা বাড়িয়ে দিচ্ছে ইডেনের পিচও। গ্রুপ
পর্বের ম্যাচগুলোয় ইডেনের পিচ হয়ে গিয়েছিল স্পিন-মৃগয়া। বিষয়টি আইসিসিরও
নজরে এসেছে। ফাইনালের জন্য তাই প্রাণবন্ত এক উইকেটই বানাতে যাচ্ছে ইডেন।
যেখানে গতি থাকবে, পেসাররা সহযোগিতা পাবেন, আবার ব্যাটসম্যানরাও বল ব্যাটে
পাবেন। ফাইনালে তাই সবুজাভ উইকেটই দেখা যেতে পারে। স্পিনবান্ধব উইকেট
বানানোর যা একটু সম্ভাবনা ছিল তা-ও উবে গেছে ভারত বাদ পড়ে যাওয়ায়। এখন
দর্শক-সমর্থকদের প্রাণবন্ত এক ফাইনাল উপহার দেওয়ার চিন্তা কর্তৃপক্ষের। সেই
সুবিধা দুহাত বাড়িয়ে নিতে চাইবে ইংল্যান্ড। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংলিশরা
তিনটি ম্যাচ খেলেছে দিল্লিতে। সেখানকার খানিক পেসবান্ধব পরিবেশ দারুণ কাজে
লাগিয়েছেন ইংলিশ পেসাররা। বিশেষ করে ইনিংসের শেষ দিকে তাঁদের বোলিংই প্রতি
ম্যাচে গড়ে দিয়েছে ব্যবধান। দারুণ ফর্মে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের হার্ড
হিটারদের বিপক্ষে এর চেয়ে বড় সুখবর আর পেতে পারত না দলটি। শেষ পর্যন্ত যে-ই
জিতুক না কেন, এ দলের পারফরম্যান্সে এখনই তৃপ্ত পল কলিংউড। ইংল্যান্ডের
একমাত্র বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের ভাষায়, ‘এদের সামর্থ্যের কোনো সীমা নেই। এরা
মাঠে নামে, নিজেদের খেলা উপভোগ করে। দারুণ খেলছে এরা। যাদের ব্যাটিং এত
দুর্দান্ত, বোলিংয়েও অনেক বৈচিত্র্য তারা তো ম্যাচ জিতবেই। রোববার মরগানের
হাতে শিরোপা দেখব—এ অনুভূতির তুলনা নেই।’

No comments:
Post a Comment