![]() |
| ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা টাকা টেবিলে সাজিয়ে রাখছেন পুলিশ সদস্যরা। ছবিটি গতকাল দুপুরে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ মডেল থানা থেকে তোলা |
চট্টগ্রামে
দিনদুপুরে গাড়ি থামিয়ে ১৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনার দুই দিনের মধ্যে ১০
লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে
গ্রেপ্তার করা হয়েছে চার যুবককে। তাঁদের কাছ থেকেই ছিনতাই হওয়া টাকার বড়
অংশ পাওয়া গেছে। গত রোববার সন্ধ্যা থেকে গতকাল বুধবার ভোর পর্যন্ত নগর ও
জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁরা
হলেন আবদুল্লাহ আল নোমান (২১), মো. ডালিম (২২), পারভেজ আহমেদ (২৪) ও
তারিকুল ইসলাম (২০)। গত রোববার দুপুরে ১৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
গতকাল দুপুরে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নগর
পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ বলেন, ছিনতাইয়ের ওই ঘটনায় জড়িত
অন্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। বাকি টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
ঘটনাস্থলের পাশের একটি বাসা থেকে সংগ্রহ করা ক্লোজড সার্কিট (সিসি)
ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করা হয়। ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও
পরোক্ষভাবে ১০-১২ জন জড়িত ছিল। ছিনতাইয়ের শিকার দিদার আলম সাংবাদিকদের
বলেন, রোববার দুপুরে চকবাজারের ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা থেকে টাকা তুলে তিনি
হেঁটে চকবাজারের তেলিপট্টি যান। পরে সেখান থেকে বহদ্দারহাট যাওয়ার জন্য
রাইডারে (ছোট যাত্রীবাহী বাস) ওঠেন। তাঁর চাচাতো ভাই ও ঠিকাদার সেকান্দর
আলম বহদ্দারহাটে অপেক্ষা করছিলেন। ওই টাকা সেকান্দারের। গাড়িটি বাদুড়তলা
এলাকায় পৌঁছালে গাড়ির গতিরোধ করেন কিছুসংখ্যক যুবক। কিছু বুঝে ওঠার আগেই
তাঁর হাতে থাকা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান
তাঁরা। তাঁদের হাতে অস্ত্র ছিল। পরে এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা যুবকদের আসামি করে
থানায় মামলা করেন তিনি। উপকমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ বলেন, প্রাথমিক
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার চারজন ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
তাঁরা ব্যাংকের বাইরে থেকে ওই ব্যক্তির ওপর নজর রাখছিলেন। তাঁদের কয়েকজন
যাত্রীবেশে ওই গাড়িতে ওঠেন। আর পেছনে কয়েকজন মোটরসাইকেলে ছিলেন। গ্রেপ্তার
চার তরুণের বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা আছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের
জবাবে পরিতোষ ঘোষ বলেন, বিভিন্ন থানায় খবর নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের নির্দিষ্ট
কোনো পেশা নেই। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের
অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান, পাঁচলাইশ অঞ্চলের
সহকারী কমিশনার আসিফ মহিউদ্দিন, পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)
মহিউদ্দিন মাহমুদ প্রমুখ।

No comments:
Post a Comment