Wednesday, April 6, 2016

টাকা পাচারের যত স্বর্গ

ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসই হলো অর্থ পাচারের অন্যতম বড় স্থান। এ দেশটির ১ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮টি কোম্পানি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে পাচার করা অর্থ আনতে সহায়তা করেছে। মূলত দুটি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন কিংবা সেবা বিনিময়ের মাধ্যমে অর্থ এক দেশ থেকে অন্য দেশে যায়। পানামার আইনি সহায়তা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকার গত ৪০ বছরের ১ কোটি ১৫ লাখ নথি ফাঁস হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) এ তথ্য ফাঁস করেছে। ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসের ১ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য রয়েছে। এ তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘করের স্বর্গ’ বা ‘ট্যাক্স হেভেন’। অর্থ পাচারের লোভনীয় গন্তব্য এটাই। অবৈধ উপায়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বিশ্বের সব দেশেই কম-বেশি আছেন। তাঁরা এ বিপুল অর্থ তাঁদের কর নথিতে কিছুতেই দেখাতে পারেন না। আবার দেশে রাখলেও ভয় আছে, কখন কোন ঝামেলায় পড়েন। এমন কালোটাকা রাখার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে উন্নত দেশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আহ্বান জানায়। এ দেশগুলোকে ‘করের স্বর্গ’ বলা হয়, যেখানে অনেকটা নিরাপদে থাকে কালোটাকা। এ দেশগুলো এমনভাবে আইনকানুন করে রেখেছে, যাতে আপনার টাকার সন্ধান পাবে না কেউ। আন্তর্জাতিক লেনদেন দেখিয়ে যেসব কোম্পানির মাধ্যমে এ অর্থ ওই করের স্বর্গে যায়, সেসব কোম্পানিকে ‘অফশোর কোম্পানি’ বলে।মোসাক ফনসেকার ফাঁস হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শীর্ষ দশটি দেশের তালিকা করা হয়েছে। অর্থ পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত অফশোর কোম্পানিগুলোর প্রতি দুটির মধ্যে একটিই ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসের। এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পানামা। এ দেশটির ৪৮ হাজার ৩৬০টি কোম্পানি আছে। এ ছাড়া তৃতীয় স্থানে থাকা বাহামার ১৫৯১৫টি কোম্পানি, সিসিলির ১৫১৮২টি, নুইয়ের ৯৬১১টি, সামোয়ার ৫৩০৭টি, ব্রিটিশ অ্যাঙ্গোইলার ৩২৫৩টি, নেভাদার ১২৬৩টি, হংকংয়ের ৪৫২টি এবং যুক্তরাজ্যের ১৪৮টি কোম্পানি রয়েছে।

No comments:

Post a Comment