Wednesday, April 6, 2016

আরও ৯৬ লাখ ডলার ফেরত দেবেন ওয়ং by লিরা ফার্নান্দেজ

কিম ওয়ং
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের চুরি যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে আরও ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ফিলিপাইনের ক্যাসিনো ব্যবসায়ী ক্যাম সিন ওয়ং ওরফে কিম ওয়ং। এ অর্থ ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারকে ফেরত দেবেন তিনি। আজ মঙ্গলবার ফিলিপাইনের সিনেট ব্লুরিবন কমিটির চতুর্থ শুনানিতে চেয়ারম্যান তিওফিস্তো গিংগোনা (তৃতীয়) সগোনা ওয়ং-এর কাছে জানতে চান, ‘আপনি কি প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন পেসো ফেরত দেবেন?’ জবাবে ওয়ং বলেন, ‘হ্যাঁ, মুচলেকা দেব, কারণ বন্ধুদের কাছ থেকে আমাকে ধার করতে হবে। আর স্টক থেকে কিছু পাব। ১৫ দিনের মধ্যে নগদে এ অর্থ পরিশোধ করে দেব।’ পরে অবশ্য তিনি সময়টা সংশোধন করে ১৫ থেকে ৩০ দিন বলেন। এর আগেও তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে ৮ লাখ ৩০ হাজার ডলার ফেরত দিয়েছেন। আইনজীবী ভিক্টর ফার্নান্দেজের মাধ্যমে গতকাল সোমবার ওয়ং ফিলিপাইনের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের (এএমএলসি) কাছে এই অর্থ ফেরত দেন। ফিলিপাইনের গণমাধ্যম ইনকোয়ারার ও র‍্যাপলার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় মুদ্রা ৩ কোটি ৮২ লাখ পেসোতে ফেরত দেওয়া এই অর্থ ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকো সেন্ট্রাল এনজি ফিলিপিনাসের (বিএসপি) কাছে জমা হয়েছে। কিম ওয়ংয়ের মালিকানাধীন ক্যাসিনো ইস্টার্ন হাওয়াই লেইজার কোম্পানির নামে এই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। এর আগে গত ৩১ মার্চ বাংলাদেশকে ফেরত দেওয়ার জন্য ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার এএমএলসির কাছে জমা দেন কিম ওয়ং। কিমের আইনজীবী ভিক্টর ফার্নান্দেজ বলেন, ইস্টার্ন হাওয়াই লেইজার কোম্পানি মাইডাস ক্যাসিনোতে শুয়া হুয়া গাওয়ের ফেলে যাওয়া তহবিল থেকে এই ৩ কোটি ৮২ লাখ পেসো জমা দেওয়া হয়েছে। কিম ওয়ংয়ের কাছ থেকে গাওয়ের ধার করা ৪৫ কোটি পেসো অর্থ ফেরত দিতে আরও ১৫ থেকে ৩০ দিন লাগতে পারে। এদিকে রিজার্ভ থেকে কীভাবে হ্যাকারেরা এই অর্থ চুরি করলো সে বিষয়ে পুনরায় তদন্ত শুরু করেছে প্যানেল। রিজাল ব্যাংকের জুপিটার মাকাতি শাখার ছয়টি সন্দেহভাজন হিসাবের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর আগে ব্লুরিবন কমিটির শুনানিতে হাজির হয়ে ওয়ং রিজেল ব্যাংকের জুপিটার মাকাতি শাখার ব্যবস্থাপক মায়া দেগুইতোর দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন। অর্থ চুরির ঘটনার সঙ্গে তাঁর জড়িত থাকার অভিযোগ আছে। তিনি আগেই সিনেট শুনানির মুখোমুখি হয়েছিলেন। এ ছাড়া ওয়ং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন, এমন দুই সন্দেহভাজনের নাম উল্লেখ করেন। তাঁরা হলেন সুয়া হুয়া গাও ও দিং। তাঁর দাবি, ‘যেসব রাঘব-বোয়াল এই অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে এই দুজনও আছেন।’ প্রসঙ্গত, অর্থ চুরির ঘটনায় মায়ার জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে রিজাল ব্যাংক তাঁকে বরখাস্ত করে। তিনি ১৭ মার্চের শুনানিতে ওয়ংয়ের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। ইস্টার্ন হাওয়াই লেইজার কোম্পানি লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট ও মহাব্যবস্থাপক কিম। হংকংভিত্তিক কোম্পানিটি ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। চুরি হওয়া অর্থ ওই কোম্পানির ক্যাসিনোতে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চুরি যাওয়া অর্থ ফিলিপাইন থেকে পাচারে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ২২ মার্চ মায়া ও তাঁর সহকারী অ্যাঞ্জেলা তোরেসকে বরখাস্ত করে রিজাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

No comments:

Post a Comment