সুন্দরবন
ও এর অতুলনীয় বাঘের জন্য বিপদ ঘনিয়ে আসছে সব দিক থেকেই। বনের ভেতর দিয়ে
চলাচলকারী মালবাহী জাহাজ এবং সুন্দরবন ঘেঁষে তৈরি করা রামপাল বিদ্যুৎ
প্রকল্পকে বলা হচ্ছে বাঘবিনাশী কার্যক্রম। সুন্দরবন রক্ষার দায় যেখানে
বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েরই, সেখানে এই দুই দেশের যৌথ প্রকল্প ও বাণিজ্যিক
চলাচলের জন্য সুন্দরবন ও এর বাঘেরা পড়েছে হুমকির মুখে। কয়লা, ছাই, সার ও
তেলবাহী জাহাজকে বাঘের জন্য ‘ভ্রাম্যমাণ বোমা’ এবং রামপাল বিদ্যুৎ
প্রকল্পকে ক্ষতিকর বলা হয়েছে ভারতের বন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক জরিপ
প্রতিবেদনে। ‘বাংলাদেশ ও ভারতের সুন্দরবনে বাঘের অবস্থা’ শীর্ষক জরিপ
প্রতিবেদন তৈরিতে বাংলাদেশের বন বিভাগও জড়িত। উভয় দেশের বন বিভাগ যেখানে
সুন্দরবন ও বাঘসম্পদ রক্ষার সুপারিশ করেছে, সেখানে সরকারসমূহের ভূমিকা
নৈরাশ্যজনক। জরিপে বলা হয়েছে, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের ঘনত্ব ভারতের
চেয়ে কম। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বন বিভাগের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থার
শুমারিও বলছে, বিশ্বব্যাপী বাঘের সংখ্যা বাড়লেও বাংলাদেশে কমেছে।
সুন্দরবনের ভেতরের নদী দিয়ে রাসায়নিক জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল নদীপথে
বাঘের চলাচলেও বাধা হচ্ছে। এতে করে জিনগত দুর্বলতা সৃষ্টি হয়ে বাঘের টিকে
থাকার সক্ষমতাও কমছে। উল্লেখ্য, গত এক বছরে সুন্দরবনে তেল ও কয়লাবাহী
জাহাজডুবিতে বাঘের আবাসস্থলে দূষণের ঘটনা ঘটেছে।
বাঘের জন্য ‘ভ্রাম্যমাণ বোমা’!
সুন্দরবনে বাঘের বিচরণের এলাকার মধ্য দিয়ে দিনে ২০০টি করে জাহাজ চলাচল করত। জাহাজডুবির পরিপ্রেক্ষিতে তা বন্ধ করা হলেও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে এবং রাতের বেলা বিনা অনুমতিতে জাহাজ চলছেই। রামপাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ওই এলাকার যে নগরায়ণ ও বাণিজ্যায়ন হবে, তা বাঘ ও সুন্দরবনের জন্য হবে সর্বনাশা।
সুন্দরবন ও এর বাঘ মানবের জন্য কল্যাণকর প্রাণসম্পদ এবং দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রকৃতির রক্ষাকবচ। বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিকল্প রয়েছে, সুন্দরবনের বিকল্প নেই। এত কিছুর পরও কি বাংলাদেশ সরকারের টনক নড়বে না?
বাঘের জন্য ‘ভ্রাম্যমাণ বোমা’!
সুন্দরবনে বাঘের বিচরণের এলাকার মধ্য দিয়ে দিনে ২০০টি করে জাহাজ চলাচল করত। জাহাজডুবির পরিপ্রেক্ষিতে তা বন্ধ করা হলেও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে এবং রাতের বেলা বিনা অনুমতিতে জাহাজ চলছেই। রামপাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ওই এলাকার যে নগরায়ণ ও বাণিজ্যায়ন হবে, তা বাঘ ও সুন্দরবনের জন্য হবে সর্বনাশা।
সুন্দরবন ও এর বাঘ মানবের জন্য কল্যাণকর প্রাণসম্পদ এবং দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রকৃতির রক্ষাকবচ। বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিকল্প রয়েছে, সুন্দরবনের বিকল্প নেই। এত কিছুর পরও কি বাংলাদেশ সরকারের টনক নড়বে না?

No comments:
Post a Comment