![]() |
| স্বামীবাগ এলাকায় ওয়াসার লাইন থেকে অবৈধভাবে উত্তোলন করা পানি জারে ভর্তি করে রিকশাভ্যানে তোলা হচ্ছে |
ঢাকা
ওয়াসার লাইন থেকে মোটর দিয়ে টেনে তোলা হচ্ছে পানি। রাখা হচ্ছে সুবিশাল
জলাধারে (রিজার্ভার)। সেই পানি জারে ভরে হস্তচালিত যন্ত্রে জারের মুখ বন্ধ
করা হচ্ছে। জারগুলো রিকশা ভ্যানে তুলে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে হোটেল,
রেস্তোরাঁ আর বাড়িঘরে। বিক্রি করা হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। দৃশ্যটি
স্বামীবাগের। শুধু স্বামীবাগ নয়, রাজধানীর অনেক স্থানেই এখন এ ঘটনা ঘটে
চলছে প্রকাশ্যেই। ওয়াসার গভীর নলকূপ বা রাস্তার কল থেকে পানি তুলে বড় জারে
ভরে বিক্রি করা হচ্ছে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে পুরান ঢাকার স্বামীবাগের একটি
ভবনের সামনে দেখা গেল, পাঁচটি রিকশা ভ্যান অপেক্ষা করছে। ভবনটির ওপরে
বসতবাড়ি, নিচতলায় কয়েকটি দোকান। ভবনটি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেললাইনের পূর্ব
ধারে। একটি দোকানঘরের ঝাঁপ প্রায় অর্ধেক তোলা। ভেতর থেকে ২০ লিটারের
পানিভর্তি জার এনে তোলা হচ্ছে রিকশা ভ্যানে। বাকি ভ্যানগুলোতেও
পর্যায়ক্রমে তোলা হবে। এই প্রতিবেদক ছবি তুলতে গেলে ভেতর থেকে লোকজন
দ্রুত পেছন দিকে সরে যায়। আশপাশের লোকদের জিজ্ঞেস করলে তারা নীরব থাকে।
একটি রিকশা ভ্যানের চালক বলে, পেছনে মোটর আছে, সেই মোটর দিয়ে পানি তুলে
জারে ভরা হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা সেখানে অপেক্ষা করার পর রিকশা ভ্যানচালক
অবশেষে বিরক্ত হয়ে জার না ভরেই চলে যায়। অন্য ভ্যানগুলোর চালকেরাও পড়ে
অস্বস্তির মধ্যে। এর আগে অপর এক কিশোর রিকশা ভ্যান জারে ভরা পানি নিয়ে
যাচ্ছিল। জানতে চাইলে চালক আবদুল্লাহ বলে, গোলাপবাগ, সায়েদাবাদের কয়েকটি
ভাতের হোটেল ও বাসাবাড়িতে সে এসব জার দিয়ে আসবে। সে জানায়, একেকটি জার
বিক্রি হয় হোটেলে ৩৫ ও বাসাবাড়িতে ৪০ টাকা করে। কে এম দাস লেনে জারভর্তি
রিকশা ভ্যান নিয়ে যাচ্ছিল মোক্তার হোসেন নামের অপর এক চালক। জারগুলো
কোত্থেকে আনা হয়েছে এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে সে বলে,
কোম্পানি থেকে এনেছে। দেবে বিভিন্ন কাস্টমারের কাছে। কোন কোম্পানি—জানতে
চাইলে সে নাম বলেনি। স্বামীবাগ রেললাইনের পশ্চিমেও একটি বাড়িতে এভাবে
অবৈধ উপায়ে পানি তোলা ও বিক্রির কাজ হয়—এমন খবরের ভিত্তিতে গতকাল সেখানে
গিয়ে পানি তোলার দৃশ্য দেখা যায়নি। স্থানীয় লোকজন জানান, আগে এখানে পানি
বেচাকেনা চললেও বর্তমানে বন্ধ আছে। কিছুদিন আগে গোপীবাগ বাজারের কাছে
ওয়াসার পাম্প থেকে জার ভরার সময় কয়েক ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরেছিল র্যা ব।
পরে সেখান থেকে পানি বিক্রি বন্ধ হয়। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে
সুইমিংপুলের পাশে ওয়াসার একটি পাম্প রয়েছে। কয়েক দিন আগে সেখানে গিয়ে দেখা
যায়, পাম্পের কল থেকে জার ভরা হচ্ছে এবং সেখানেই নীল রঙের প্লাস্টিক দিয়ে
জারের মুখ সিল করে দেওয়া হচ্ছে। রিকশা ভ্যানে সেই জারগুলো চলে যাচ্ছে
বিভিন্ন ক্রেতার কাছে। যোগাযোগ করা হলে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক
তাকসিম এ খান বলেন, এমনিতে মোটর দিয়ে পানি টানা নিষিদ্ধ। তার ওপর সে পানি
যদি জারে করে যথেচ্ছ দামে বিক্রি করা হয়, তা হবে আরও বেশি অপরাধের।
সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ওয়াসা ব্যবস্থা নেবে।

No comments:
Post a Comment