Saturday, April 23, 2016

ভাষা নিয়ে এক আনন্দের দিন

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে গতকাল বেলুন উড়িয়ে ভাষা প্রতিযোগের
ঢাকা আঞ্চলিক উৎসবের উদ্বোধন করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ও
কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আবদুল হান্নানসহ অতিথিরা
আয়োজনটি শিক্ষার্থীদের, কিন্তু তাতে অভিভাবকদের আগ্রহ-উৎসাহ কম নয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি কন্ট্রোলার নির্মলেন্দু বিশ্বাস বলছিলেন, ‘এবার নিয়ে অষ্টমবার এই আয়োজনে এলাম। আগে বড় মেয়েকে নিয়ে আসতাম। সে এখন বুয়েটে পড়ে। এখন আসছি ছোট মেয়েকে নিয়ে। খুব ভালো লাগে এখানে আসতে। নিজের অনুষ্ঠান বলে মনে হয়।’ প্রায় একই প্রতিক্রিয়া হারমেন মেইনার স্কুলের শিক্ষক দিলরুবা আক্তারের। তিনি ছেলেকে নিয়ে আসছেন চার বছর ধরে। বলছিলেন, ‘এই আয়োজনটি এখন আর কেবল প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমিত নেই। আমার মনে হয় ভাষা নিয়ে এটি একটি আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।’ এ হলো এইচএসবিসি-প্রথম আলো ভাষা প্রতিযোগ। এবার বারো বছরে পড়ল। গতকাল শুক্রবার ছিল দ্বাদশ প্রতিযোগের ঢাকা অঞ্চলের প্রতিযোগিতা। মোহাম্মদপুরের ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে অনুষ্ঠিত হলো মাতৃভাষা নিয়ে তরুণ শিক্ষার্থীদের এই আনন্দযজ্ঞ। সকাল সাড়ে নয়টায় প্রতিযোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সূচনা হলো জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা তোলার মধ্য দিয়ে। জাতীয় পতাকা তুলে উদ্বোধন ঘোষণা করেন কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আবদুল হান্নান। ভাষা প্রতিযোগের পতাকা উত্তোলন করেন প্রতিযোগের জাতীয় পর্ষদের সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। এরপর তাঁরা রঙিন বেলুনগুচ্ছ উড়িয়ে প্রতিযোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক, অধ্যাপক গুলশান আরা, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ফেরদৌস আরা বেগম, এইচএসবিসির হেড অব রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স ও হেড অব লিগ্যাল শাওলী কামাল খান, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ ও প্রতিযোগের সমন্বয়ক অধ্যাপক তারিক মনজুর। সঞ্চালক ছিলেন প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক অরুণ বসু। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘মাতৃভাষাকে ভালোবাসার অনেক প্রমাণ আমরা দিয়েছি। কিন্তু শুধু ভালোবাসলেই হবে না, যত্ন নিয়ে ভাষা শিখতে হবে, আয়ত্ত করতে হবে। আমরা ভাষার রহস্য বুঝতে চাই, সুন্দর করে কথা বলতে চাই। এই আয়োজনের প্রতিযোগিতাটি মুখ্য নয়, ভাষার প্রতি যত্নশীল হতে অনুপ্রেরণা দেওয়াটাই মুখ্য।’ কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল হান্নান ভাষা নিয়ে এই অনন্য অনুষ্ঠানের কেন্দ্র হিসেবে তাঁর কলেজটিকে বেছে নেওয়ার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘মা, মাতৃভূমি, মাতৃভাষা আমাদের সবচেয়ে প্রিয়। ভাষা নিয়ে আয়োজন আমাদের দেশপ্রেমেও উদ্বুদ্ধ করবে।’ এরপরই শুরু প্রতিযোগের মূল পর্ব। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত চারটি বিভাগে পরীক্ষা। সময় ৪০ মিনিট। ঢাকা অঞ্চলের ৯২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়। কলেজের বটতলায় সুসজ্জিত মঞ্চ। সেখানে অনুষ্ঠান শুরু হলো পরীক্ষাপর্বের পরে। প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমের বাইরের বই পড়তে উৎসাহ দেন। এ পর্বেই অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিক্রিয়া জানায়। তারপর তারিক মনজুরের সঞ্চালনায় শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব ও বানান নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিযোগিতা। এতে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দিতে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ, অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, কুদরত-ই-হুদা প্রমুখ। শিল্পী মাহামুদুজ্জামান বাবু ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ ও ‘আমি বাংলার গান গাই’ গান দুটি গেয়ে শোনান। এ পর্বের সঞ্চালক ছিলেন প্রথম আলো বন্ধুসভার জাতীয় পর্ষদের সভাপতি সাইদুজ্জামান রওশন। এরপর মধ্যাহ্নের বিরতি। সমাপনী পর্বও শুরু হয়েছিল গানে গানে। ‘সূর্যোদয়ে তুমি’ এবং ‘বেশ বেশ বেশ শাবাশ বাংলাদেশ’ গান দুটি গেয়ে শোনান শিল্পী সাব্বির। প্রথম আলোর উপ-ফিচার সম্পাদক জাহীদ রেজা নূর বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। চারটি বিভাগ থেকে ১০০ জন প্রতিযোগী বিজয়ী হয় এবং বানান প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয় তিনজন। তারা অংশ নেবে আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় জাতীয় উৎসবে।

No comments:

Post a Comment