![]() |
| বাঘ |
বিশ্বে
বাঘের সংখ্যা গত ১০০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে এবারই প্রথমবারের মতো
বেড়েছে। প্রাণী সংরক্ষণে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা দ্য ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ড
লাইফ ফান্ড (ডব্লিউডব্লিউএফ) এবং গ্লোবাল টাইগার ফোরাম এ কথা জানিয়েছে।
সংস্থা দুটি বলছে, সর্বশেষ বৈশ্বিক গণনায় বাঘের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার
৮৯০। ২০০০ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ২০০। তবে ১৯০০ সালে বাঘ ছিল ১ লাখ।
এরপর থেকে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা ক্রমাগত কমতে দেখা যায়। কিন্তু সর্বশেষ
জরিপে দেখা গেল, বাঘ বাড়ছে। তবে গত বছর প্রকাশ করা বাংলাদেশের বন বিভাগের
এক জরিপে বলা হয়, বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬। ২০১০ সালের জরিপে তা ছিল ৪৪০। এ
বিষয়ে প্রাণী সংরক্ষণবিদেরা বলেছিলেন, ২০১০ সালের জরিপে বাঘের সংখ্যা
সম্ভবত অতিরিক্ত দেখানো হয়েছিল।ডব্লিউডব্লিউএফ ও গ্লোবাল টাইগার ফোরামের
হিসাবমতে, বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি বাঘের আবাসস্থল ভারত। ২০১৪ সালের জরিপে
দেখা যায়, দেশটিতে বাঘের সংখ্যা ২ হাজার ২২৬। রাশিয়া, ভুটান ও নেপালেও সেসব
দেশের করা জরিপ অনুযায়ী বাঘের সংখ্যা বাড়ছে। ডব্লিউডব্লিউএফের মহাপরিচালক
মারকো ল্যামবারটিনি বলেন, বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি এই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে
স্থানীয় মানুষ এবং সংরক্ষণের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা একসঙ্গে কাজ করলে
যেকোনো প্রাণী এবং তাদের আবাসস্থল রক্ষা করা সম্ভব। সংস্থাটির ভাইস
প্রেসিডেন্ট জিনেত হেমলে বলেন, সংখ্যা বৃদ্ধির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো
প্রবণতা। বাঘ সংরক্ষণের প্রক্রিয়া সঠিক পথেই চলছে, এটি তারই প্রমাণ। বাঘ
আছে এমন ১৩ দেশের মন্ত্রীদের সম্মেলনের আগে এই সংখ্যা প্রকাশ করা হলো।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ওই সম্মেলন। বাঘ
আছে—এমন দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভুটান, চীন, কম্বোডিয়া, ভারত,
ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, নেপাল, রাশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। এই
দেশগুলো বিশ্বে বাঘের সংখ্যা ২০২২ সালের মধ্যে দ্বিগুণ করার বিষয়ে ২০১০
সালে একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করে। বৈশ্বিকভাবে বাঘের সংখ্যা বাড়লেও
ইন্দোনেশিয়ায় কমেছে বলে সর্বশেষ জরিপে উঠে এসেছে। পাম তেল, কাগজের মণ্ড
তৈরির জন্য নরম কাঠের গাছের চাষে বিপুল পরিমাণ বন ধ্বংস করে ফেলার ফলেই
সম্ভবত সেখানে বাঘ কমছে।

No comments:
Post a Comment