![]() |
| কালিলতা, সুন্দরবন থেকে তোলা |
সুন্দরবনের
যে প্রান্তে গিয়েছি, সবখানেই চোখে পড়েছে কালিলতা। সুন্দরী, বাইন, গেওয়া,
পশুর, আমুর ইত্যাদি সব গাছের প্রধান কাণ্ড কিংবা শ্বাসমূলের সঙ্গে জড়িয়ে
আছে কালিলতা। হারগোজার ঝোপেও কালিলতার অবাধ উপস্থিতি। মার্চ মাসে
কালিলতায় ফুল আসে। জুন অবধি ফুলের আগমন থাকে। প্রথম কদিন ফুল বেগুনি বা
গাঢ় গোলাপি বর্ণের থাকে। তারপর ধীরে ধীরে ফুলের পাপড়ি সাদা হয়ে যায়। তখন
কালিলতার আকর্ষণ কমতে থাকে। ফুলটির রং মিষ্টি কিন্তু নাম হয়েছে কালিলতা।
সুন্দরবন-সংলগ্ন অধিবাসীদের দেওয়া নাম। এ লতার বৈজ্ঞানিক নাম Darris
trifoliata, পরিবার Fabaceae। ইংরেজি নাম Sea Derris। পাতায় রটিনন নামের
একপ্রকার রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা বিষাক্ত এবং নানা পোকামাকড় মেরে ফেলে।
চর কুকরিমুকরি দ্বীপ, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম উপকূলবর্তী স্রোতজ বন বা
লোনা পানির বনেও এ লতার দেখা পেয়েছি। এটি বনের নোনা জলের কর্দমাক্ত
এলাকায় ভালো জন্মে। তবে আশ্রয়ী গাছের কাণ্ড আঁকড়ে ধরে বেড়ে ওঠে। আশ্রয়ী
গাছকে কখনো দুর্বল করে দেয় কিংবা কাণ্ডের ক্ষতি করে। বনের উদ্ভিদ। আরোহী
লতা অথবা গুল্ম। শাখা মসৃণ, বাকল গাঢ় ধূসর, ছড়ানো। বাকলে বায়ুরন্ধ্র
(ছোট ছিদ্রবিশেষ) দ্বারা আবৃত থাকে। একটি পত্রে তিন-সাতটি পাতা থাকে। পাতা
১২-১৫ সেন্টিমিটার লম্বা, মসৃণ ও ডিম্বাকার। শীর্ষ পত্র বৃহত্তম। পাতার
গোড়া গোলাকার। উভয় পাশ মসৃণ কিন্তু ওপরের পিঠ চকচকে। বাংলাদেশ ছাড়া
মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, চীন, মাদাগাস্কার ও উত্তর অস্ট্রেলিয়ায় কালিলতা
রয়েছে। বীজ দ্বারা বংশবৃদ্ধি ঘটে। পাহাড়ি বন থেকে আবাসস্থল ধ্বংসের ফলে ও
অতিরিক্ত গাছ কাটার কারণে লতাটি দিন দিন কমে যাচ্ছে। গোড়ার দিকের ফুল আগে
ফোটে। মঞ্জরিপত্র অতি সূক্ষ্ম। বৃতি প্রায় ২ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার লম্বা ও
মসৃণ। ফুল দেখতে শিম ফুলের মতো। পাপড়ি ১ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার লম্বা।
কাঁচা ফল সবুজ, পাকলে ফ্যাকাশে হলুদ হয়ে যায়।

No comments:
Post a Comment