Monday, April 4, 2016

ব্যাংকিং কমিশন আপাতত করছেন না অর্থমন্ত্রী

চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে ঘোষণা দিয়েও এখন ব্যাংকিং কমিশন গঠনের চিন্তা থেকে সরে এলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সচিবালয়ে গতকাল রোববার অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রাক্-বাজেট মতবিনিময় সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে অনেকগুলো ঘটনা ঘটে গেছে। সেগুলো নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। যদিও সেগুলো সীমিত পর্যায়ের তদন্ত।’ অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এখন ব্যাংকিং কমিশন করার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। তদন্তগুলোর ফল দেখে ঠিক করা যাবে এ কমিশন গঠন করা যায় কি না বা করলে কীভাবে করা করা যায়।’ অথচ বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘দেশে ব্যাংক খাতের উল্লেখযোগ্য প্রসার হয়েছে। এখন প্রয়োজন এই খাতের সঞ্চয়ন, সুষ্ঠু নীতিমালা ও প্রবৃদ্ধির ধারা নির্ধারণ। ব্যাংক খাতের প্রচলিত কার্যক্রম এবং এই খাতের সার্বিক অবস্থান মূল্যায়ন ও বিবেচনা করার জন্য একটি ব্যাংকিং কমিশন গঠনের চিন্তাভাবনা রয়েছে।’ ইআরএফের সভাপতি সাইফুল ইসলাম দিলাল, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমানসহ ইআরএফের সদস্যরা আলোচনায় অংশ নেন। অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিনসহ বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত অর্থ বিভাগ ও এনবিআরের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অনেক হইচই করে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট (এফআরএ) করা হলেও ওই আইনের বলে এখন পর্যন্ত ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল বা এফআরসি গঠন করা সম্ভব হয়নি বলে স্বীকার করেন অর্থমন্ত্রী। তবে তিনি বলেন, ‘আগামী বছর এটা হবে।’ ইআরএফের পক্ষ থেকে আগামী বাজেটে মানবসম্পদ উন্নয়ন, আয়-বৈষম্য দূর করা, রাষ্ট্রায়ত্ত লাভজনক কোম্পানিগুলোর অংশবিশেষ পুঁজিবাজারে ছেড়ে দেওয়া, জ্বালানি তেলের দাম কমানো, শূন্য শুল্কে কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানির সুযোগ তৈরি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও আদর্শ দেশে পরিণত হওয়া, পুঁজি পাচার বন্ধ, আলাদা রেল বাজেট করা, এক লাখ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমা চালু, বৈশ্বিক পুঁজি আকর্ষণে ‘চলো বাংলাদেশ’ বা এ-জাতীয় কোনো প্রচারণা চালু, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশেষ তহবিল চালু, প্রতিরক্ষা খাত নিয়ে বাজেট বক্তব্যে বিশদ কিছু বলা, রাজস্ব আহরণে দেশব্যাপী কর কার্যালয় স্থাপন ইত্যাদি পরামর্শ দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী পরামর্শগুলোর নোট নেন এবং কিছু বিষয়ে মন্তব্য করেন। উপজেলা পর্যায়ে কর কার্যালয় স্থাপনের বিষয়ে এনবিআরের চেয়ারম্যানের কাছে অর্থমন্ত্রী জানতে চান, ‘এখন কয়টা কার্যালয় আছে?’ জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, ‘৮৬টি।’ অর্থমন্ত্রী তখন বলেন, ‘এবার ৫০০ কার্যালয়ের একটা কর্মসূচি দাও।’ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আদায়ে ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার বা ইসিআর যন্ত্র বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ইসিআরের কথা কয়েক বছর ধরে বলে এলেও তেমন কাজে আসছে না। এবার মূসক আদায়ে একটি পর্যায় পর্যন্ত ইসিআর বাধ্যতামূলক করা হবে।’ তবে ইসিআরের বাইরেও পণ্য বিক্রি হয় বলে জানেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর সন্দেহ, ইসিআর থাকলেও চুরি হবে। তবে কম হবে। বিক্রয়মূল্যের ওপর মূসক আরোপের একটি পরামর্শকে সরাসরি নাকচ করে দেন অর্থমন্ত্রী। বলেন, ‘কোনো পর্যায়েই এটা সম্ভব নয়।’ মানবসম্পদ উন্নয়ন তথা প্রশিক্ষণের ওপর সরকার প্রতিবারই জোর দিয়ে আসছে বলে উল্লেখ করেন মুহিত। তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে প্রশিক্ষণ বলা উচিত নয়। এটা আসলে বৃত্তিমূলক শিক্ষা। প্রশিক্ষণ হচ্ছে যেটা জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) দিয়ে থাকে। এখান থেকে পাস করে কেউ বেকার থাকেন না। দেশে আয়-বৈষম্য বাড়ছে বলে স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কমাতে সচেষ্ট আমরা। আর আয় কিন্তু নিচের দিকেও যাচ্ছে। যে কারণে দেশে দারিদ্র্য থাকলেও চরম দারিদ্র্য নেই। এ কারণে বাহাদুরি নিতে চাই আমরা।’ মন্ত্রী বলেন, আয়-বৈষম্য এমন পর্যায়ে বাড়ছে না যে দেশে কোনো বিদ্রোহ-টিদ্রোহ হয়ে যেতে পারে।

No comments:

Post a Comment