Wednesday, April 6, 2016

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন খালেদা জিয়া

আত্মসমর্পণ করতে গতকাল আদালতে খালেদা জিয়া
আদালতে আত্মসমর্পণ করে পাঁচটি মামলায় জামিন পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ঢাকার পাঁচটি বিচারিক আদালত গতকাল মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। খালেদা জিয়া গতকাল সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ঢাকার ১ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে যাত্রাবাড়ী থানার বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন। এ মামলায় গত ৩০ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন এই আদালত। বিএনপির ডাকা টানা অবরোধ চলাকালে গত বছর ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীতে একটি বাসে পেট্রলবোমা ছোড়া হলে ২৯ জন যাত্রী দগ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে একজন পরে মারা যান। ওই ঘটনায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে দুটি মামলা করে পুলিশ। এই দুই মামলায় জামিন পাওয়ার পর বিএনপির নেত্রী ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় ও মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় হাজির হয়ে জামিন চান। আদালত তা মঞ্জুর করেন। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি করেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন আহমদ। এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গত ২৫ জানুয়ারি সমন জারি করেন আদালত। এ ছাড়া গুলশান থানার একটি বিস্ফোরক মামলায় মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান খালেদা জিয়া। জামিন শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলেন, রাজনৈতিক কারণে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এসব মামলায় খালেদা জিয়াকে আসামি করা হয়েছে। নাশকতার মামলার ঘটনাস্থলে তিনি ছিলেন না। কারণ, তখন তাঁকে গুলশানের বাসায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। খালেদার পক্ষে জামিন শুনানি করেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, এ জে মোহাম্মদ আলী, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার। আর সরকারপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আবদুল্লাহ আবু। খালেদা জিয়ার আত্মসমর্পণকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় বিএনপিপন্থী আইনজীবীসহ দলের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে মিছিল করেন। এ সময় আদালত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়।

No comments:

Post a Comment