Wednesday, April 6, 2016

সংশোধিত এডিপি ৯১ হাজার কোটি টাকা

বাস্তবায়ন করতে না পেরে এবারও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ছোট করা হলো। শেষ পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার হলো ৯১ হাজার কোটি টাকা। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় সংশোধিত এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের তদারকিতে থাকা মূল এডিপির আকার ছিল ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এডিপি কাটছাঁট করা হয়েছে ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ১ হাজার ১০৩ কোটি টাকা কমিয়ে ২ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা করা হয়েছে। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন ব্যয়সহ মোট এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। পরিকল্পনা কমিশনে এনইসি সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এনইসি সভায় মূল এডিপি সংশোধন করে ৮৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব করে পরিকল্পনা কমিশন। পরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আরও তিন হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে সংশোধিত এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৯১ হাজার কোটি টাকা। বাড়তি তিন হাজার কোটি টাকা শিগগিরই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী ভাগ-বাঁটোয়ারা করে দেওয়া হবে। সংশোধিত এডিপিতে স্থানীয় উৎস থেকে জোগান দেওয়া হবে ৬১ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। মূল এডিপিতে এ খাত থেকে বরাদ্দ ছিল সাড়ে ৬২ হাজার কোটি টাকা। এ খাতে কমেছে ৬৬০ কোটি টাকা। অন্যদিকে সংশোধিত এডিপিতে বিদেশি সহায়তার পরিমাণ ২৯ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। বিদেশি সহায়তা কমেছে ৫ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত ২৪৬টি নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পসহ সংশোধিত এডিপিতে মোট প্রকল্পের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১৫টি। এ ছাড়া আরও ৭৪৬টি বরাদ্দহীন ও অননুমোদিত প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত আছে সংশোধিত এডিপিতে। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) ৩৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৩২৪টি প্রকল্প শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সংশোধিত এডিপিতে তা কমিয়ে এ সংখ্যা ২৭৭ করা হয়েছে। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংশোধিত এডিপির বিভিন্ন দিক সাংবাদিকদের তুলে ধরেন। পরিকল্পনামন্ত্রী সংশোধিত এডিপির শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে সাংবাদিকদের জানান। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) মূল এডিপির মাত্র ৪১ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। ৪১ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা খরচ করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এ হিসাব করেছে। এনইসি সভা শেষে এডিপি বাস্তবায়নের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। আইএমইডি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় উৎস থেকে জোগান দেওয়া অর্থের ২৬ হাজার ৫৯ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। বিদেশি সহায়তার মাত্র ১৩ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা খরচ করা সম্ভব হয়েছে। গত বছর প্রথম নয় মাসে এডিপির ৪৩ শতাংশ বা ৩৬ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, নয় মাসের হিসাবে শতাংশের হিসাবে এডিপি বাস্তবায়ন কমলেও টাকার অঙ্কে পাঁচ বছরে দ্বিগুণ খরচ বেড়েছে। আইএমইডি সূত্রে জানা গেছে, নয় মাস পেরিয়ে গেলেও মূল বরাদ্দের ২৫ শতাংশও খরচ করতে পারেনি মোট ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এগুলো হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি), অর্থ বিভাগ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ভূমি মন্ত্রণালয়, জাতীয় সংসদ সচিবালয় এবং আইন ও সংসদ বিষয় বিভাগ। টাকা খরচে সবচেয়ে বেশি সফল ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এটি বরাদ্দের ৭৭ শতাংশ খরচ করেছে। এ ছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয় ৭৪ শতাংশ ও ধর্ম মন্ত্রণালয় ৭১ শতাংশ টাকা খরচ করেছে। বড় ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুকূলে মূল এডিপির ৭৩ শতাংশ বা ৭৩ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। নয় মাসে এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বরাদ্দের ৪৪ শতাংশ বা ৩২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা খরচ করতে পেরেছে।

No comments:

Post a Comment