Monday, April 4, 2016

সোনা চোরাচালান বন্ধ হবে শুল্ক কমালে by এনামুল হক খান

এনামুল হক খান
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্বপ্রাপ্ত এমন কোনো সংস্থা নেই, যার কিছু কর্মকর্তা সোনা চোরাচালানিতে যুক্ত হননি। কোনোভাবেই তাঁদের ঠেকানো যায়নি। তবে চোরাচালান বন্ধের একমাত্র পথ হচ্ছে সোনা আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে দেওয়া। এটি অবশ্যই মধ্যপ্রাচ্য থেকে চোরাই পথে আসতে যে খরচ হয়, তার চেয়ে কম হতে হবে। সেই হিসাবে প্রতি ভরি সোনা আমদানির শুল্ক ১৫০ টাকা হলে ভালো, তবে এক হাজার টাকা হলেও চোরাচালান বন্ধ করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি। সোনার অলংকার তৈরিতে মূসক যদি না কমানো হয়, তাহলে উচ্চ-মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের দেশের বাইরে যাওয়া ঠেকানো যাবে না। বর্তমানে দেশে পাঁচ লাখ টাকার অলংকার কিনলে ২৫ হাজার টাকা মূসক দিতে হয়। ভারতে লাগে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা। আকাশপথে ১০ হাজার টাকায় ঢাকা থেকে কলকাতায় যাওয়া যায়। ফলে উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ সেখানেই গিয়ে অলংকার কিনছেন। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে আইন করলে এভাবেই আমাদের সমস্যায় পড়তে হবে। সরকার হয়তো অন্য কোনো খাতের মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের এই ঘাটতি পোষাবে। তবে এভাবে চলতে থাকলে দেশের জুয়েলার্স ব্যবসা শেষ হয়ে যাবে। যেভাবে দেশের অর্থনীতি বড় হচ্ছে, তাতে আগামী ১০ বছরে হিরার চাহিদা দ্বিগুণ বা তিন গুণ হয়ে যাবে। ফলে শুল্ক কমানো না হলে ক্রেতারা দুবাই কিংবা ভারত থেকেই হিরার অলংকার কিনবেন। এ ক্ষেত্রে ক্রেতারা দেশপ্রেম দেখাবেন, এমনটা মনে করার কিছু নেই। এটিই বাস্তবতা।

No comments:

Post a Comment