আজ
৩০ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পঞ্চম দফার ভোট। এই ভোটকে কেন্দ্র করে
দক্ষিণ কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং হুগলি জেলার ৫৩টি ভোটকেন্দ্রকে
নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। তৃতীয় ও চতুর্থ দফার
ভোটে নির্বাচন কমিশনের কঠোর নিরাপত্তা-ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে ভোট ডাকাতরা
অবাধে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। নির্বাচন কমিশনের এই সাফল্যের পর নির্বাচন
কমিশন আজকের ভোটও অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
আজকের ৫৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৪৯ প্রার্থী। এঁদের ২১ জন
কোটিপতি। আর এই ২১ কোটিপতির ১৯ জনই তৃণমূল কংগ্রেসের। বাকি দুজন কংগ্রেস ও
বিজেপির। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে নিয়োগ করা হয়েছে ৬৮০ কোম্পানি
কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধা জওয়ান এবং ২৬ হাজার পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাত থেকে
নির্বাচনী এলাকাগুলোতে টহল দেওয়া শুরু করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। লক্ষ্য
একটাই, শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ। এ ছাড়া এই এলাকায় জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা।
এদিকে পঞ্চম দফার নির্বাচনের আগেই আজ নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতমূলক আচরণের
জন্য কোচবিহারের তুফানগঞ্জের মহকুমা পুলিশ অফিসার এবং সিতাই থানার ওসিকে
অপসারণ করেছে। এর আগে ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন তিন থানার তিন ওসি এবং
কাকদ্বীপের মহকুমা পুলিশ কর্মকর্তাকে অপসারণ করেছে। কংগ্রেসের ভবানীপুরের
প্রার্থী দীপা দাশমুন্সী কারাবন্দী মদন মিত্র ভোটের দিন যাতে হাসপাতালে বসে
‘ভোট নিয়ন্ত্রণ’ করতে না পারেন, সে জন্য মদন মিত্রের মুঠোফোনে ইন্টারনেট
পরিষেবা বন্ধ রাখার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। কাল শুধু
মমতার আসন নয়, দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ, রাসবিহারী, টালিগঞ্জ, বেহালা
পূর্ব, বেহালা পশ্চিম, যাদবপুর, কলকাতা বন্দর আসনেও এবার লড়াই তীব্র হবে।
ভবানীপুরে মমতার বিরুদ্ধে লড়ছেন কংগ্রেসের দীপা দাশমুন্সী এবং বিজেপি থেকে
নেতাজির নাতি চন্দ্র কুমার বোস। বালিগঞ্জ আসনে লড়ছেন তৃণমূলের বিদায়ী
মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তাঁর প্রতিপক্ষ কংগ্রেসের পোড়খাওয়া নেত্রী
কৃষ্ণা দেবনাথ। বেহালা পূর্বের তৃণমূলের প্রার্থী কলকাতার মেয়র শোভন
চট্টোপাধ্যায়। তাঁরপ্রিতিন্দ্বী প্রার্থী কার্টুন-কাণ্ডে মমতার হাতে
নিগৃহীত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র। অম্বিকেশ
মহাপাত্রকে সমর্থন জানিয়েছে কংগ্রেস-বাম জোট। বেহালা পশ্চিম আসনে লড়ছেন
রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী
সিপিএমের তরুণ নেতা কৌস্তভ চট্টোপাধ্যায়। এখানেও তীব্র লড়াই হবে।
রাসবিহারীতে লড়ছেন তৃণমূলের প্রবীণ নেতা ও বিধানসভার তৃণমূলের মুখ্য সচেতন
বা চিফ হুইপ শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁকেও জিততে হবে বাম-কংগ্রেস জোটের
আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে লড়ে। টালিগঞ্জে তৃণমূলের হয়ে লড়ছেন মন্ত্রী
অরূপ বিশ্বাস। তাঁর বিরুদ্ধে লড়ছেন সিপিএমের মধুজা সেনরায়।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment