যথাযথ
প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বিদেশে শাকসবজি রপ্তানি করায় ১১ প্রতিষ্ঠানের
ফাইটোসেনিটারি সনদ (পিসি) বাতিল করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে
অধিদপ্তর ২৯ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রপ্তানি নিবন্ধন সনদ (ইআরসি) বাতিলসহ
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং প্রধান
আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের কাছে। এর মধ্যে পিসি বাতিল হওয়া ১১
প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এ ছাড়া তাসিন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে
শর্ত সাপেক্ষে সতর্ক করেছে অধিদপ্তর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ
সংগনিরোধ উইং গত মাসের শেষ দিকে বাণিজ্যসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন এবং
প্রধান আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রক আফরোজা খানকে আলাদা চারটি চিঠি পাঠিয়ে এসব
সুপারিশ করে। প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অধিদপ্তরের অভিযোগ হলো, তারা
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) কয়েকটি দেশে পিসি ছাড়াই পান, লেবু, করলা, আলু,
পেয়ারা, ডাঁটা ইত্যাদি পণ্য রপ্তানি করেছিল। যেকোনো পণ্য রপ্তানি করতে গেলে
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত সংস্থা প্রধান আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের
কার্যালয় থেকে ইআরসি নিতে হয়। একই কাজে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পিসি
নিতে হয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে। রপ্তানিকারকেরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা
অমান্য করেছেন এবং পান ও শাকসবজি রপ্তানিতে ইউরোপীয় কাউন্সিলের নির্দেশনা
মানেননি বলে চিঠিগুলোতে উল্লেখ রয়েছে। বলা হয়েছে, এতে দেশের ভাবমূর্তি
ক্ষুণ্ন হয় এবং রপ্তানি ক্ষেত্রে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পিসি ছাড়া
সাস ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান সুইডেনে ১৮ কেজি ক্যাপসিকাম, ১২
কেজি লেবু ও ১২ কেজি পেয়ারা রপ্তানি করেছিল। অরিত্রা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল
যুক্তরাজ্যে ১২ কেজি ডাঁটা ও ট্রেডিং বিডি ওয়ার্ল্ডওয়াইড সুইজারল্যান্ডে ১০
কেজি আলু, ২৭ দশমিক ৫ কেজি করলা ও ২০ কেজি লেবু রপ্তানি করেছিল। এই
তিনটিসহ পিসি বাতিল হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে তপন ইন্টারন্যাশনাল, কে
অ্যান্ড কে করপোরেশন, মানিক ট্রেডার্স, দ্বীপ ইন্টারন্যাশনাল, ফিরোজ ট্রেড
ইন্টারন্যাশনাল, এম এইচ গুলজার, এমব্রোশিয়া এক্সপোর্ট ও মোল্লা ফুডস। পিসি
বাতিল ও ইআরসি বাতিলের সুপারিশ করার ক্ষেত্রে ২০১৪ সালের নভেম্বরে বাণিজ্য
মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয়ের সুপারিশকে ভিত্তি ধরা হয়েছে বলে
চিঠিগুলোতে উল্লেখ করা হয়। জানা গেছে, শাকসবজি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর
অর্ধেকের ঠিকানাই পুরান ঢাকার সূত্রাপুর, মালাকারটোলা ও ফরাশগঞ্জে। ইউরোপে
রপ্তানিমুখী শাকসবজি মোড়কজাতের কাজটি ৩০ বছর ধরে এসব এলাকাতেই হয়ে আসছে।
প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে রাজ মোল্যা ইন্টারন্যাশনাল, স্টার ফেয়ার
ইন্টারন্যাশনাল, ফাহাদ ইন্টারন্যাশনাল, মৌসুমী ইন্টারন্যাশনাল, আবদুল্লাহ
এন্টারপ্রাইজ, কামরুল ইন্টারন্যাশনাল, মাহাবুব অ্যান্ড ব্রাদার্স, ওয়ার্ল্ড
ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, লী এন্টারপ্রাইজ, রহিম ট্রেড, তপন ইন্টারন্যাশনাল,
এম এইচ গুলজার, হাফসা ইন্টারন্যাশনাল, দীপ ইন্টারন্যাশনাল, মানিক
ট্রেডার্স, কে অ্যান্ড কে করপোরেশন, তাজ এন্টারপ্রাইজ ও রীতা এন্টারপ্রাইজ।
ঢাকার বাইরে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের চৌধুরী ট্রেডার্স ছাড়া অন্য
প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে টি এম হারভেস্ট, ফরিদা ইন্টারন্যাশনাল, স্মরণিকা
এন্টারপ্রাইজ, তানহা এন্টারপ্রাইজ, নাদিম এন্টারপ্রাইজ, সায়েদা অ্যান্ড
সামিয়া এন্টারপ্রাইজ, সানজিম ইন্টারন্যাশনাল, এমব্রোশিয়া এক্সপোর্ট,
ইনস্টিঙ্কট ফুডস ও ফিরোজ ইন্টারন্যাশনাল। বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস
অ্যান্ড অ্যালাইড প্রডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক
মো. মনসুর সম্প্রতি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইইউতে খুব বেশি সবজি যায় না। তবে
পিসি ছাড়া রপ্তানি করে কিছু প্রতিষ্ঠান গোটা খাতেরই ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।’
শুধু আলসেমি করে প্রতিষ্ঠানগুলো পিসি নেয়নি বলে মনে করেন জনাব মনসুর। তিনি
বলেন, ‘কেউ হয়তো আদেশ দিলেন, ২০ কেজি লেবু দরকার, সঙ্গে ১০ কেজি ডাঁটাও
লাগবে তাঁর। তখন সময় বাঁচাতে রপ্তানিকারকেরা পিসি নিতে আর যাননি। ঘটনাটি এ
রকম। এটি অপরাধ নয়, তবে নিয়মবহির্ভূত ব্যাপার।’ তবু তাঁদের সমিতিও সরকারের
মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে কালোতালিকাভুক্ত করেছে বলে জানান তিনি। জানতে চাইলে
বাণিজ্যসচিব কয়েক দিন আগে প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার
কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে আমরা যত দূর সম্ভব কঠোর। এদের ইআরসি
বাতিলের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment