Wednesday, April 6, 2016

এখনো সময় আছে by সারাহ কাইসার

জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) ২০১৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের অভিপ্রায় ঘোষণা করে। তারা হুমকি দেয়: ‘খলিফার সেনারা বাংলায় নিজেদের উত্থান বৃদ্ধি অব্যাহত রাখবে এবং তাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।’ দুর্ভাগ্যবশত, আইএসের সেই প্রচেষ্টায় কাজ হচ্ছে বলেই মনে হয়। তারা বাংলাদেশে আদর্শিক লড়াইয়ের যে ডাক দিয়েছে, তা দেশটিতে আইএসের কার্যক্রমের সামর্থ্যকে ছাড়িয়ে যায়। তবু দেশটিতে সংগঠনটির ‘যোগসাজশে’ গত ছয় মাসে এ পর্যন্ত আটটি হামলা হয়েছে। বাংলাদেশে এসব হামলার ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ায় আইএসের উপস্থিতি সম্পর্কে বিশ্বকে কী বার্তা দেয়? প্রথমত, দক্ষিণ এশিয়ায় আইএসের আদর্শিক বিস্তারের ফলে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও বিদেশি নাগরিকদের ওপর হামলা বাড়বে। বাংলাদেশে বিদ্যমান বিভিন্ন সামাজিক সংকটের (ফল্ট লাইন) সুযোগ নিয়ে শিকড় ছড়াচ্ছে আইএস। জিহাদিরা আগে কখনো দেশটিকে তাদের কার্যক্রমের উত্তম লক্ষ্যস্থল হিসেবে নির্ধারণ করেনি, এই সুযোগে আইএস সেখানকার নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে। তারা মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অধিকৃত ভূখণ্ডের দখল টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খেলেও বিদেশে হামলা চালানোর ক্ষমতাসম্পন্ন সন্ত্রাসবাদী শাখা প্রতিষ্ঠায় সাফল্য পাচ্ছে। এভাবে স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং একক জঙ্গিদের দিয়ে হামলা চালানো হবে। এ ধরনের হামলা ঠেকানো সবচেয়ে কঠিন আর সন্ত্রাস ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সবচেয়ে কার্যকরও বটে। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো দমনে সরকারের সাফল্যের ফলে আইএসের আদর্শ অজান্তেই দানা বাঁধছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দেশে আইএসের কার্যক্রম জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন এবং জঙ্গি তৎপরতার দায় সরাসরি চাপিয়েছেন তাঁর রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর। এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে পার পাওয়া কঠিন, যখন বাংলাদেশে একাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস এবং সংগঠনটির নেতাদের গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী, জামাআতুল মুজাহিদীন ও আনসার-আল-ইসলামের মতো নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য সংগঠনগুলো আইএসের সঙ্গে জোট বেঁধে সুবিধা নিতে শুরু করেছে। বিদেশি তহবিলের ছড়াছড়ির বিষয়টিও এসবের অন্তর্ভুক্ত। আইএসের অনলাইন সাময়িকী ‘দাবিক’ বাংলায় তাদের সামরিক সাফল্যের বিবরণ গত নভেম্বরে প্রকাশ করেছে। এতে ‘নাস্তিকদের’ (কুফার) হত্যা করাকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। এমন ‘সাফল্যে’ তহবিলদাতাদের উৎসাহিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আইএসের ‘ধর্মীয়’ কার্যসূচি এবং ছোট পরিসরে সর্বাধিক সফল সন্ত্রাসী হামলা চালানোর সামর্থ্যের কারণেই বিশ্বজুড়ে তাদের সাফল্য ত্বরান্বিত হয়েছে। একক সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে হামলা চালানোটা বাংলাদেশের স্বতন্ত্র অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে: জঙ্গিদের ছোটখাটো একটি দল একজন ব্যক্তিকে হত্যা করেও সর্বোচ্চ বিধ্বংস ঘটাতে পারে এবং সর্বোচ্চ প্রচারণা পেতে পারে। অপরিহার্য উপসংহার হিসেবে বলতে হচ্ছে, সময় আছে, কিন্তু তা অপচয় করা উচিত হবে না। আইএস এখনো বাংলাদেশে স্থায়ী অবস্থান তৈরি করে নেওয়ার মতো সাফল্য পায়নি। এটা যেন না ঘটে, সেটা নীতিনির্ধারকদের নিশ্চিত করতে হবে। উদীয়মান সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে আরও কার্যকরভাবে দমনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উচিত বাংলাদেশ এবং আঞ্চলিক অন্যান্য সহযোগী দেশের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় শুরু করা। বাংলাদেশকে বিভিন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটা অভ্যন্তরীণ শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আইনি প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করা এবং মধ্যপন্থী কণ্ঠস্বরের পুনরুত্থান ঘটাতে সহায়ক হবে। বাংলাদেশে কট্টরপন্থী মতাদর্শের বিকাশের অপেক্ষা না করে নীতিনির্ধারকদের উচিত এ ধরনের তৎপরতাকে অঙ্কুরে বিনষ্ট করা।

No comments:

Post a Comment