Tuesday, April 26, 2016

প্রতিরোধও ছিল by রজত রায়

উত্তর চব্বিশ পরগনার হালিশহর এলাকাটি বীজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। গতকাল সোমবার সকালে সেখানেই ভোট দিতে গিয়েছিলেন দেবশ্রী বসু, কোলে ছিল সাড়ে তিন বছরের সন্তান। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের বাহিনী তখন বলপ্রয়োগে ভোটদাতাদের তাড়িয়ে নির্বাচনী বুথ দখলে ব্যস্ত। তাদের লাঠি থেকে রেহাই পেলেন না দেবশ্রী, তাঁর বাচ্চাও। সংবাদমাধ্যমে সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নির্বাচন কমিশনের টনক নড়ল। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কমিশনের প্রতিনিধিরা দেবশ্রীর বাড়ি গিয়ে তাঁকে আবারও নিয়ে আসেন ভোটকেন্দ্রে। তিনি আবারও সন্তানকে কোলে নিয়ে এসে ভোট দিয়ে যান। এই ঘটনাকেই গোটা রাজ্যে সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে দেখতে চান বিরোধী জোটের নেতা সিপিএমের সূর্যকান্ত মিশ্র। বাস্তবিক, গতকাল গোটা দিনটাই উত্তর চব্বিশ পরগনা ও হাওড়া, এই দুই জেলার ৪৯ বিধানসভা কেন্দ্রের অনেক জায়গা থেকে বুথ দখল, সন্ত্রাস, বিরোধী প্রার্থী ও কর্মীদের ওপর হামলার খবর এসেছে। কিন্তু বহু জায়গায় সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের খবরও এসেছে। অনেক জায়গাতেই হামলায় আহত হওয়ার পরও ভোট আগলাতে মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে বিরোধী জোটের কর্মী ও এজেন্টদের। বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সন্ট লেক, লেক টাউন, বাঙ্গুর অ্যাভিনিউ এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকার কারণে কোনো গন্ডগোল হতে পারেনি। গত বছরের পুরভোটের সময় বহিরাগত গুন্ডাবাহিনীর হাতে ভোট লুট হতে দেখেও কিছু করতে পারেননি সল্ট লেকের বাসিন্দারা। কারণ, পুলিশ শাসক দলের গুন্ডাবাহিনীর পাশে থেকে ভোট লুটে সাহায্য করেছিল। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার মুখে পড়ে নির্বাচন কমিশন বিশেষ ব্যবস্থা নেয়। রাজ্য পুলিশকে সরিয়ে দিয়ে বুথ ও তার চারপাশের দায়িত্ব নেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। ফলে, বিধাননগরের বাসিন্দারা নির্ভয়ে ভোট দেন।

No comments:

Post a Comment