![]() |
| প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ফাউন্ডেশন থেকে বৃত্তিপ্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। ভারতের ৭০ জন সুবিধার বঞ্চিত শিক্ষার্থীর শিক্ষাব্যয় বহন করে প্রিয়াঙ্কার এই ফাউন্ডেশনটি |
নওয়াজউদ্দিন
সিদ্দিকী সেদিন খানিকটা টিপ্পনী কেটেই বললেন, ‘হলিউড নিয়ে এত মাতামাতির
কিছু নেই। সেখানে বলিউড তারকাদের প্রতিষ্ঠার পেছনে মেধা নয়, তাঁদের
এজেন্টের অবদান অনেক বেশি।’ সত্যিই যদি তা-ই হতো, তাহলে তো এত দিনে
অর্ধেকটা বলিউডই হলিউডে বদলি হয়ে যেত। কিন্তু তেমনটা তো হচ্ছে না। ঐশ্বরিয়া
রাই বচ্চনের মতো হেভিওয়েট তারকা পর্যন্ত এজেন্টের পেছনে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ
ঢেলেও দু-একটা হলিউড ছবিতে মিনিট কয়েকের উপস্থিতি ছাড়া কিছুই পাননি। সেখানে
এই উপমহাদেশের একটি মেয়ে যখন পশ্চিমাদের টক্কর দিয়ে সব আলোচনার ঊর্ধ্বে
উঠে এসেছেন, তখন কেন তাঁর মেধা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে? এটা কোনো নির্দিষ্ট
ব্যক্তির প্রশ্ন নয়। এমনটা এখন অনেক প্রিয়াঙ্কা-ভক্তের মুখেই। প্রিয়াঙ্কা
চোপড়া এখন বিশ্বের সব নামী তারকার ভিড়ে হারিয়ে যান না। বরং বাঘা বাঘা সব
আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের অতিথি তালিকার শুরুতেই থাকে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার নাম।
লালগালিচায় পা ফেলার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর দিকে তাক করা হয় বিশ্বের সব বড় বড়
গণমাধ্যমের ক্যামেরা। প্রিয়াঙ্কাও সহাস্যে তাকান সেসব ক্যামেরায়। আর জানান
দেন, ‘আমি উপস্থিত স্বমহিমায়, এজেন্ট বগলদাবা করে নয় কিন্তু!’ সম্প্রতি
অনুষ্ঠিত বিলবোর্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার পরা নীল
গাউনের আলোচনা এখনো খবরের শিরোনাম থেকে নামেনি। তা ছাড়া সেখানে এই এশীয়
সুন্দরী কার সঙ্গে কথা বললেন, কার সঙ্গে সেলফি তুললেন, সেটা নিয়েও
বিশ্ববাসীর আগ্রহের কমতি নেই। ইদানীং এটা এক নতুন প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া কোনো অনুষ্ঠানে গেলেই তা হয়ে ওঠে ‘টক অব দ্য টাউন’। এই
যেমন এ মাসের মাঝামাঝি সময় অনুষ্ঠিত এবিসি নেটওয়ার্কের পার্টির কথাই ধরা
যাক। সেখানে প্রিয়াঙ্কা ছিলেন সবার মধ্যমণি। ওই অনুষ্ঠানে প্রয়াত এক সংগীত
কিংবদন্তিকে নাচে-গানে যেভাবে স্মরণ করেছিলেন, তা-ও তাক লাগিয়ে দেয়
শ্বেতবর্ণের মানুষদের! টাইম ম্যাগাজিনের প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় আসার
পর থেকে প্রিয়াঙ্কার দিকে পশ্চিমাদের মনোযোগ যেন একটু বেশিই বেড়ে গেছে।
রাষ্ট্রপতি ওবামার নেমন্তন্ন যখন ব্যস্ততার কারণে ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন
প্রিয়াঙ্কা, তখন বিশ্ব গণমাধ্যমে এ নিয়ে যে ‘উদ্বেগ’ ছড়ায় তখন কিন্তু সেই
মনোযোগের আভাস পাওয়া যায়। তা ছাড়া অস্কার আসরে প্রথম পা রেখে নিজ গুণে যে
দ্যুতি ছড়িয়েছেন প্রিয়াঙ্কা, তা তো নিশ্চয়ই আর নতুন করে কিছু বলার অপেক্ষা
রাখে না। এত প্রিয়াঙ্কা-বন্দনা পড়ে হয়তো ভাবতেই পারেন, কেন সব সাম্প্রতিক
অতীতের খবর আবার দেওয়া হচ্ছে নতুন করে। তাঁদের জন্য বলা, এই ক্ষমতাধর
মেয়েটি কিন্তু অতীতে বিলীন হতে আসেননি। বরং বেওয়াচ ছবির কাজ শেষ করে, এখন
আবার স্বগৃহে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। গুঞ্জন চলছে বাজিরাও মাস্তানির
পর সঞ্জয়লীলা বানশালির নতুন ছবিতেও কাজ করবেন তিনি। তা ছাড়া কোয়ান্টিকো
দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের উপস্থিতির জানান তো দিয়েই যাবেন। ছোট পর্দার
অ্যালেক্স প্যারিস এভাবেই টিভিতে আর বড় বড় আয়োজনের লালগালিচায় সগৌরবে
এশিয়ার এই তল্লাটের প্রতিনিধিত্ব করে যাবেন।

No comments:
Post a Comment