Thursday, May 26, 2016

আবাহনীর কাছে বিফল শামসুর–বীরত্ব

কাল বিকেএসপিতে গাজী গ্রুপের শামসুর
রহমানের (বাঁয়ে) ১৩৬ রানের অসাধারণ
ইনিংসটি বিফলে গেছে আবাহনীর তাসকিন
আহমেদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে l ফাইল ছবি
বিকেএসপিতে রিজার্ভ ডেতে গড়ানো ম্যাচে কাল তাসকিন আহমেদের প্রথম দুটি বলে যা হলো, অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা শামসুর রহমানের কাছে তা দুঃস্বপ্নই মনে হতে পারে! আবাহনীর পেসারের প্রথম দুই বলেই আউট গাজী গ্রুপের এনামুল হক ও মেহেদী হাসান। হ্যাটট্রিকটা না পেলেও তাসকিন কিন্তু ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র মতোই এক ধাক্কা দিলেন গাজী গ্রুপকে! তাসকিন-ঝড়ে ভেঙে না পড়ে শামসুর রহমান এক প্রান্ত আগলে রাখলেন। কিন্তু আরেক দিক দিয়ে চলল গাজী গ্রুপের উইকেট হারানোর মিছিল! ২৭৭ রান তাড়া করতে নেমে ৭ ওভার শেষ না হতেই ২৫ রানে হারিয়ে ফেলল ৪ উইকেট। টপ অর্ডারের ৪ ব্যাটসম্যানের রান—০, ০, ১, ০! শামসুরের সামনে তখন ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’ পাড়ি দেওয়ার চ্যালেঞ্জ। অলক কাপালি ও ইলিয়াস সানির সঙ্গে পঞ্চম ও ষষ্ঠ উইকেটে ৩৯ রান করে যোগ করলেও শামসুর লড়াইটা চালিয়েছেন মূলত সপ্তম উইকেট-জুটিতে (৭৫) ফারুক হোসেনকে নিয়ে। তীব্র চাপের মধ্যেও বল নষ্ট করেননি গাজী গ্রুপের ওপেনার। ৪৯ বলে পূর্ণ করেছেন হাফ সেঞ্চুরি। বাউন্ডারি থেকেই তুলে আনেন ৩০ রান। হাফ সেঞ্চুরিকে তিন অঙ্কে রূপ দিতে শামসুর এগিয়েছেন একটু ধীরলয়ে। এ সময় বাউন্ডারি মেরেছেন মাত্র ৪টি। বিকেএসপিতেই নিজেদের আগের ম্যাচে কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমির সঙ্গে শেষ বলে নো বল-কাণ্ডে ‘সেঞ্চুরি’ করেও সেঞ্চুরি পাননি শামসুর। সেই দুঃখে খানিকটা প্রলেপ বোলানোর সুযোগ কাল হাতছাড়া করেননি। ৩৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মোসাদ্দেক হোসেনকে চোখজুড়ানো এক কাভার ড্রাইভে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি (১০৮ বলে)। সেঞ্চুরির পর শামসুর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলেন। পরের ২২ বলে করলেন ৩৩ রান। ম্যাচ রূপ নিল শামসুর বনাম আবাহনীতে! নিজেদের আগের ম্যাচে ফতুল্লায় ২৮২ রান করেও মাহমুদুল হাসানের দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমির কাছে হেরেছিল আবাহনী। শামসুরও কি একইভাবে হতাশায় পোড়াবেন আবাহনীকে? আকাশি-হলুদ শিবিরে ভীতিই ছড়িয়ে দিলেন গাজী গ্রুপের ওপেনার। সকালে সাফল্য পাওয়া তাসকিনকে ৪২তম ওভারে আবারও বোলিংয়ে আনেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। অসাধারণ এক বলে ১৩৬ রান করা শামসুরকে এলবিডব্লু করে এমন এক হুংকার দিলেন আবাহনী পেসার, পুরো বিকেএসপিই যেন উঠল কেঁপে! শামসুর-দেয়াল ভেঙে পড়ায় কার্যত ওখানেই শেষ ম্যাচ। শেষ দিকে মোহাম্মদ শরীফের ২০ বলে ২৫ রান নিভে যাওয়ার আগে দপ করে জ্বলে ওঠার মতোই। শামসুর নন, বিকেএসপির ব্যাটিং স্বর্গে গতির সঙ্গে নিখুঁত লাইন-লেন্থের বোলিংয়ে ৩২ রানে ৪ উইকেট নেওয়া তাসকিনই পেয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। টানা তিন পরাজয়ের পর দলের এই জয়ে তাসকিনের মুখে ফিরে এসেছে পুরোনো সেই হাসি, ‘প্রিমিয়ার লিগে আমার কাছে দলের যে প্রত্যাশা ছিল, সেভাবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারছিলাম না। ম্যাচ জেতানো বোলিং ও দলের জয় আমার জন্য অবশ্যই স্বস্তিদায়ক। তবে শুভ ভাই (শামসুর) অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন। ওই মুহূর্তে তাঁকে আউট করতে না পারলে ম্যাচের গল্পটা অন্য রকম হতে পারত।’ দুর্দান্ত সেঞ্চুরির পরও ৩২ রানে হারটাকে স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছেন শামসুর, ‘শুরুতেই আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ব্যাটসম্যান আউট হয়ে যাওয়ায় ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়েছিলাম। তারপরও জিততে হলে আমাদের অলৌকিক কিছু করতে হতো।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আবাহনী: ৫০ ওভারে ২৭৬/৬ (ভাটিয়া ৯০*, তামিম ৫৫, মোসাদ্দেক ৪৭, লিটন ৩৭, নাজমুল ২২; মেহেদী ২/৩২, ফারুক ১/১২, শামসুর ১/৩৬, আনোয়ার ১/৪৬, অলক ১/৫২)।
গাজী গ্রুপ: ৪৮.১ ওভারে ২৪৪ (শামসুর ১৩৬, ফারুক ২৯, শরীফ ২৫; তাসকিন ৪/৩২, হাসান ২/৩৮, ভাটিয়া ২/৪৬, সাকলাইন ১/৪৪, শাহাদাত ১/৪৯)।
ফল: আবাহনী ৩২ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: তাসকিন আহমেদ

No comments:

Post a Comment