Monday, May 9, 2016

ট্রান্স এশিয়া রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে চায় ত্রিপুরা

ট্রান্স এশিয়া রেল নেটওয়ার্কে আগরতলা রেলস্টেশনকে
যুক্ত করতে চায় ত্রিপুরা। ছবি: দেবাশিস রায়
ট্রান্স এশিয়া রেল মানচিত্রে নিজেদের যুক্ত করতে চায় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য। ভারতের ব্রডগেজ রেল মানচিত্রে প্রবেশের পর মিয়ানমার হয়ে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও কম্বোডিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে চাইছে ত্রিপুরা। ত্রিপুরা সরকারের হিসাবমতে, এ জন্য মাত্র ২৫৭ কিলোমিটার নতুন রেলপথ স্থাপন করতে হবে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এ ব্যাপারে আরজিও জানানো হয়েছে। ত্রিপুরা সম্প্রতি ব্রডগেজ রেলে যুক্ত হয়েছে ভারতীয় রেল মানচিত্রে। তবে নির্বাচন প্রক্রিয়া জারি থাকায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়নি রেল পরিষেবার। বাংলাদেশের সঙ্গেও রেল–সংযোগ স্থাপিত হচ্ছে। রাজধানী আগরতলার সঙ্গে আখাউড়ার রেল সংযোগ স্থাপনের জন্য ইতিমধ্যেই যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ। অর্থও অনুমোদন করেছে ভারত সরকার। এখন ত্রিপুরা সরকারের দাবি, আগরতলার সঙ্গে ট্রান্স এশিয়ার দেশগুলোর যোগাযোগ স্থাপন। ত্রিপুরার পরিবহনমন্ত্রী মানিক দে প্রথম আলোকে বলেন, সামান্য কিছুটা রেলপথ স্থাপন করলেই আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে ত্রিপুরার রেল–সংযোগ স্থাপিত হবে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ত্রিপুরার ধলাই জেলার জওহরনগর থেকে মিজোরামের ভারলনের দূরত্ব মাত্র ১০৯ কিলোমিটার। আর সেখান থেকে মিয়ানমারের কলয় ১৪৮ কিলোমিটার। অর্থাৎ​ এই ২৫৭ কিলোমিটার রেলপথ স্থাপন করলেই ট্রান্স এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে ত্রিপুরা। এই উদ্দেশ্য মাথায় রেখে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে চিঠি দেন ত্রিপুরার পরিবহনমন্ত্রী মানিক দে। এই চিঠি প্রদানের কথাও প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন পরিবহন মন্ত্রী। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লুক-ইস্টের বদলে অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি সফল করতে হলে এই রেল–সংযোগ অত্যন্ত জরুরি। এই রেলপথ স্থাপিত হলে প্রতিবেশী বাংলাদেশও উপকৃত হবে বলে তাঁর দাবি। এ প্রসঙ্গে মানিক দে স্মরণ করিয়ে দেন, শুধু আগরতলার সঙ্গে আখাউড়ার রেল–সংযোগই স্থাপিত হচ্ছে না। দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুমের সঙ্গে চট্টগ্রামের রামগড়ের মধ্যে ফেনী নদীর ওপরে সেতুও নির্মিত হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই সেতু থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব মাত্র ৭২ কিলোমিটার। ফলে শুধু উত্তর–পূর্ব ভারতেরই নয়, ট্রান্স এশিয়ারই গেটওয়ে হতে পারে ত্রিপুরা। এমনটাই দাবি মানিক দের। ভারতের পার্লামেন্ট সদস্য ত্রিপুরার সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী জিতেন্দ্র চৌধুরী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, তিনি মন্ত্রী থাকাকালীন বিষয়টি নিয়ে আলাপ–আলোচনা শুরু করেন। জিতেন্দ্র চৌধুরীর মতে, জওহরনগর থেকে এই নতুন রেলপথ পাতলেই চলবে। কারণ, আগরতলা হয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে রেল–সংযোগ স্থাপিত হচ্ছেই। আগরতলা-জওহরনগর রেলপথ রয়েছে। ফলে পুরোটাই চলে আসবে একই নেটওয়ার্কে। বিষয়টি তিনি নিজেও ভারতীয় রেল মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে আনবেন বলে জানান।

No comments:

Post a Comment