![]() |
| ঢোঁড়া সাপ নখরে গেঁথে সেই মাছমুরাল l আদনান আজাদ আসিফ |
শ্যেন দৃষ্টিতে পাখিটি তাকিয়ে আছে লেকের
জলের দিকে। শিকার তার নজরে পড়েছে, ঘাড়-মাথা টান টান—ডাইভ দেওয়ার জন্য
পুরোপুরি প্রস্তুত। ক্যামেরা হাতে নিয়ে লেকের পাড়ে বসে ওই শিকারি পাখিটির
দিকে নজর রাখছেন তরুণ অভিনেতা ও পাখি আলোকচিত্রী আদনান আজাদ। দুর্দান্ত
এক ডাইভ দিল পাখিটি। নান্দনিক কৌশলে জলের ওপরিভাগ থেকে শিকার ধরল দুই
পায়ের বড়শি-নখরে গেঁথে। পটাপট বেশ কয়েকটি ছবি তুলে ফেলল আদনান । গত
জানুয়ারি মাসের ৬ তারিখের ঘটনা এটি। স্থান: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
ক্যাম্পাসের একটি লেক। ছবি তোলার পরে আদনান আমার কাছে ছবি পাঠায়। তুখোড়
কুশলী এই শিকারি পাখিদের খাবারের তালিকায় জল সাপ-ঢোঁড়া সাপ-চিলু
সাপ-কচ্ছপের ছোট বাচ্চাসহ গুইসাপের পিচ্চি ছানা থাকলেও—মূলত খাবার এদের
মাছই। এই শিকারি পাখিটি তো বটেই, বাংলাদেশের অন্যান্য মূল মাছশিকারি পাখি
প্রাকৃতিক মাছ খাওয়ার সুযোগ আজকাল তেমন একটা পায় না।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম
অঞ্চলের বিস্তৃত এলাকা তো মৎস্য খামারের পেটে চলে গেছে। প্রাকৃতিক
বিল-জলাশয় তো নেই-ই বলতে গেলে। আর, ওই ঘের বা গ্রামের পুকুর-দিঘির মাছ
খেতে গেলে মাছশিকারি পাখিকে আজকাল গুলি খেয়ে বেঘোরে প্রাণ দিতে হয়। ২০০৯
সালে আমাদের বাড়ির রাজ শিরীষগাছের মগডালে বাসা করেছিল এক জোড়া পাখি। ওরা
তখন শুধু মাছই নয়, গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির হাঁস-মুরগির পিচ্চি ছানাও তুলে
আনতে শুরু করেছিল। এটা ওরা করে বাচ্চাদের দ্রুত পুষ্টি পূরণের জন্য। তবু
ওরা বাচ্চা নিয়ে উড়ে যেতে পেরেছিল। প্রাকৃতিক খাবার পর্যাপ্ত থাকলে ওরা কি
আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এদিক-ওদিক নখর চালাতো!
এদের উপস্থিতি গ্রামবাংলার
মানুষ জেনে ফেলে প্রহরে প্রহরে পাড়াকাঁপানো আর পোষা হাঁস-মুরগির পিলে
চমকানো ভয়ংকর হাঁকডাকে। ঢোঁড়া সাপ শিকার করা এই পাখির নাম মাছমুরাল ও
উখোশ। মাছমুরাল ছাড়াও খোঁপা ইগলের সাপ শিকারের কৌশল একই রকম। মাছমুরালের
ইংরেজি নাম Gray-headed Fish Eagle, বৈজ্ঞানিক নাম Ichthyophaga
ichyeatus. আকার ৬৯-৭৪ সেমি। ওজনে আড়াই কেজি পর্যন্ত হতে পারে। ঘাড়-মাথা
ধূসর-ছাই, পিঠের উপরিভাগ ধূসর-বাদামি। বুক জলপাই-বাদামি। দুই পায়ে যেন
ছাই-সাদা রঙের উলেন মোজা পরা। নখর কালো, ঠোঁট ধূসর আভা। বাসা করে বড়
গাছের মগডালে। ডিম দেয় এক থেকে তিনটি। ডিম ফোটে ৩০-৩৫ দিনে। বাচ্চারা
উড়তে পারে ৪০-৫০ দিন পরে। সারা দেশেই দেখা মেলে এই আবাসিক পাখিটির।

No comments:
Post a Comment