ভিক্টোরিয়া
সেরিওলি। বয়স মাত্র দুই; কিন্তু সে ইউরোপীয় সংসদের অত্যন্ত পরিচিত এবং
জনপ্রিয় মুখ। ক্ষেত্রবিশেষে তাকে অপরিহার্যও বলা যায়। কেননা সে উপস্থিত না
থাকলেও বরং সবার কাছে সংসদকে অপূর্ণ মনে হয়। সম্প্রতি সে গুরুত্বপূর্ণ
সংসদীয় ভোট প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেছে। মায়ের দেখাদেখি হাত তুলে ভোট
দিয়ে সমর্থনও জানিয়েছে। ভোট শেষে ছোট্ট ভিক্টোরিয়ার জিজ্ঞাসা- ‘মা, আমার
ভোট গণ্য করা হবে তো!’
প্রায় সব সংসদীয় আলোচনায়ই ভিক্টোরিয়া উপস্থিত থাকে। সংসদের সব নিয়মকানুন আচার ভিক্টোরিয়ার মুখস্থ। মাঝে মাঝে দীর্ঘ একঘেয়ে আলোচনা শুনতে শুনতে মায়ের কোলেই ঘুমিয়ে পড়ে সে। ভিক্টোরিয়া প্রথম সংসদে আসে ২০১০ সালে। যখন তার বয়স মাত্র ৪৪ দিন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে সেটাই প্রথম কোনো শিশুর আগমন। সে দিনও এ রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় ভোটাভুটি চলছিল। ভিক্টোরিয়া মা লিসিয়া রনজুলি। ইতালির সংসদ সদস্য। সিলভিও বার্লুসকোনির পিপল অব ফ্রিডম পার্টির সদস্য তিনি। পেশায় রাজনীতিবিদ; কিন্তু স্বেচ্ছাসেবক নার্সও তিনি। শুধু তাই নয়, খুব ভালো সমাজসেবিকাও তিনি। নারীদের সমস্যা নিয়ে কাজ করেন; কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে তিনি একজন দায়িত্ববান মা। যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। নারীর প্রতি এই অসাধারণ উপমাটিকে তিনি সার্থক করে তুলেছেন। নিজের কর্মস্থলের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মায়ের দায়িত্বকে অবহেলা করতে পারেননি। কন্যা ভিক্টোরিয়াও তাই সঙ্গী হলো মায়ের সংসদ যাত্রায়। লিসিয়া কর্মজীবী মায়েদের পেশাগত কারণে যাতে পারিবারিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টি গৌণ হয়ে সম্পর্কগুলো নষ্ট না হয় সে চিন্তা করেছিলেন। ভিক্টোরিয়া যেন বঞ্চিত না হয়, তাই এ রকম একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সংসদে তার সহকর্মীরাও ভিক্টোরিয়াকে স্বাগত জানিয়েছিল। ভিক্টোরিয়া এখন সংসদের অন্যান্যের মতো নিয়মিত সদস্যই হয়ে গেছে। সবাই ভিক্টোরিয়ার যাতে সমস্যা না হয় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখেন।
লিসিয়া নারীসমাজের জন্য যোগ্য উদাহরণ বলে মনে করেন তার স্বামী রেনাটো সেরিওলি। তিনিও একই দলের সংসদ সদস্য। শুধু লিসিয়ার স্বামীই নয়, তার সংসদীয় বন্ধুরাসহ সবাই আজ লিসিয়াকে অনন্য উদাহরণ বলছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে লিসিয়া ও ভিক্টোরিয়াকে নিয়ে বহুবার স্টোরি হয়েছে। অনেক নারীই লিসিয়াকে নারীদের রোল মডেল ভাবছেন। সাধারণত ইউরোপের নারীরা অতিমাত্রায় ব্যক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং এ কারণে তাদের পারিবারিক জীবন খুব সীমিত হয়ে থাকে। সম্পর্কের গাঁথুনি খুবই ভঙ্গুর হয়ে থাকে অনেক ক্ষেত্রেই। যখন ইউরোপের সমাজে পারিবারিক প্রথাটিই উঠে যাওয়ার উপক্রম হয়ে যাচ্ছে, তখন লিসিয়ার এমন ব্যতিক্রমী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ইউরোপের পরিবারে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে। মজার ব্যাপার হলো লিসিয়া কিন্তু পারিবারিক মূল্যবোধের গভীরতাটি বাঙালি পরিবারগুলো থেকেই বুঝেছেন। লিসিয়া রাজনীতিতে যোগদানের আগে ইতালি-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগের ‘আইআরসিসিএস’ হাসপাতালের একজন ডিরেক্টর ছিলেন। অলাভজনক অনলুসের হয়ে বাংলাদেশে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজও করেছেন। বাংলাদেশকে তিনি অনেক দিয়েছেন। বাংলাদেশ তাকে আর কিছু দিতে না পারুক, মাতৃত্বের স্বাদের গভীরতা বুঝিয়েছে। তাই বোধহয় লিসিয়া সব পরিচয় ছাপিয়ে শুরু থেকে শেষ অবধি মা-ই রয়ে গেলেন।
প্রায় সব সংসদীয় আলোচনায়ই ভিক্টোরিয়া উপস্থিত থাকে। সংসদের সব নিয়মকানুন আচার ভিক্টোরিয়ার মুখস্থ। মাঝে মাঝে দীর্ঘ একঘেয়ে আলোচনা শুনতে শুনতে মায়ের কোলেই ঘুমিয়ে পড়ে সে। ভিক্টোরিয়া প্রথম সংসদে আসে ২০১০ সালে। যখন তার বয়স মাত্র ৪৪ দিন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে সেটাই প্রথম কোনো শিশুর আগমন। সে দিনও এ রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় ভোটাভুটি চলছিল। ভিক্টোরিয়া মা লিসিয়া রনজুলি। ইতালির সংসদ সদস্য। সিলভিও বার্লুসকোনির পিপল অব ফ্রিডম পার্টির সদস্য তিনি। পেশায় রাজনীতিবিদ; কিন্তু স্বেচ্ছাসেবক নার্সও তিনি। শুধু তাই নয়, খুব ভালো সমাজসেবিকাও তিনি। নারীদের সমস্যা নিয়ে কাজ করেন; কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে তিনি একজন দায়িত্ববান মা। যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। নারীর প্রতি এই অসাধারণ উপমাটিকে তিনি সার্থক করে তুলেছেন। নিজের কর্মস্থলের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মায়ের দায়িত্বকে অবহেলা করতে পারেননি। কন্যা ভিক্টোরিয়াও তাই সঙ্গী হলো মায়ের সংসদ যাত্রায়। লিসিয়া কর্মজীবী মায়েদের পেশাগত কারণে যাতে পারিবারিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টি গৌণ হয়ে সম্পর্কগুলো নষ্ট না হয় সে চিন্তা করেছিলেন। ভিক্টোরিয়া যেন বঞ্চিত না হয়, তাই এ রকম একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সংসদে তার সহকর্মীরাও ভিক্টোরিয়াকে স্বাগত জানিয়েছিল। ভিক্টোরিয়া এখন সংসদের অন্যান্যের মতো নিয়মিত সদস্যই হয়ে গেছে। সবাই ভিক্টোরিয়ার যাতে সমস্যা না হয় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখেন।
লিসিয়া নারীসমাজের জন্য যোগ্য উদাহরণ বলে মনে করেন তার স্বামী রেনাটো সেরিওলি। তিনিও একই দলের সংসদ সদস্য। শুধু লিসিয়ার স্বামীই নয়, তার সংসদীয় বন্ধুরাসহ সবাই আজ লিসিয়াকে অনন্য উদাহরণ বলছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে লিসিয়া ও ভিক্টোরিয়াকে নিয়ে বহুবার স্টোরি হয়েছে। অনেক নারীই লিসিয়াকে নারীদের রোল মডেল ভাবছেন। সাধারণত ইউরোপের নারীরা অতিমাত্রায় ব্যক্তিস্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং এ কারণে তাদের পারিবারিক জীবন খুব সীমিত হয়ে থাকে। সম্পর্কের গাঁথুনি খুবই ভঙ্গুর হয়ে থাকে অনেক ক্ষেত্রেই। যখন ইউরোপের সমাজে পারিবারিক প্রথাটিই উঠে যাওয়ার উপক্রম হয়ে যাচ্ছে, তখন লিসিয়ার এমন ব্যতিক্রমী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ইউরোপের পরিবারে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে। মজার ব্যাপার হলো লিসিয়া কিন্তু পারিবারিক মূল্যবোধের গভীরতাটি বাঙালি পরিবারগুলো থেকেই বুঝেছেন। লিসিয়া রাজনীতিতে যোগদানের আগে ইতালি-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগের ‘আইআরসিসিএস’ হাসপাতালের একজন ডিরেক্টর ছিলেন। অলাভজনক অনলুসের হয়ে বাংলাদেশে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজও করেছেন। বাংলাদেশকে তিনি অনেক দিয়েছেন। বাংলাদেশ তাকে আর কিছু দিতে না পারুক, মাতৃত্বের স্বাদের গভীরতা বুঝিয়েছে। তাই বোধহয় লিসিয়া সব পরিচয় ছাপিয়ে শুরু থেকে শেষ অবধি মা-ই রয়ে গেলেন।

No comments:
Post a Comment