Thursday, May 26, 2016

শ্যামল কান্তির পদত্যাগপত্র নেয়া হয় জোর করে : ছাত্রের বক্তব্যে গড়মিল

নারায়ণগঞ্জের স্কুল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার কাছ থেকে জোর করে পদত্যাগপত্র আদায় আইন অনুযায়ী হয়নি বিধায় তাকে আবারও স্বপদে বহাল রাখা যেতে পারে। আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে জমা দেওয়া তদন্তের প্রতিবেদনে এমনই মতাতমত দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পিআর সাত্তার লতিফ স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় আদালতের নির্দেশের প্রেক্ষিতে আজ অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি এই প্রতিবেদন দাখিল করে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ এবং নারায়ণগঞ্জের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুস জামান স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে মতামতসহ চার দফা সুপারিশ রয়েছে। আগামী রোববার এই প্রতিবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে। ওই দিন আদালতের শুনানির নির্ধারিত তারিখে (এফিডেভিট) হলফনামা উপস্থাপন করা হবে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শ্যামল কান্তির কাছ থেকে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। যেটা বিধি বহির্ভূতভাবে করা হয়। এ কারণেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় মনে করে তিনি স্বপদে বহাল থাকতে পারেন। এছাড়া শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকারী শিক্ষার্থী রিফাত হোসেন একেক সময় একেক কথা বলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যেহেতু রিফাতের বক্তব্যে গরমিল পাওয়া যায়, তাই বিতর্কিত বিষয়ের সত্যতা গ্রহণযোগ্য নয় বলে বিবেচিত হতে পারে। এর আগে ১৮ মে নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক লাঞ্চনার ঘটনায় কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, ৩ দিনের মধ্যে তা জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ স্ব:প্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানসহ দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছেন আদালত।
আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম.কে রহমান ও সিনিয়র আইনজীবী মহসিন রশিদ শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করার ঘটনায় পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন। এরপর আদালত স্ব:প্রণোদিত হয়ে এই রুল জারি করেন। গত ১৪ মে ইসলাম ইসলাম ধর্ম অবমাননার গুজব ছড়িয়ে পিআর সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে বিদ্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে তাকে কান ধরে ওঠ-বস করানো হয়। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ফারুকুল ইসলামের সোমবার (১৬ মে) স্বাক্ষর করা চিঠিতে শ্যামল কান্তি ভক্তকে চারটি অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাকে পুনর্বহাল করে কমিটি বাতিল করে।

No comments:

Post a Comment