দেশের
পশ্চিমাঞ্চলের জেলা কুষ্টিয়ায় গতকাল শুক্রবার চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হোমিও
চিকিৎসক মীর সানাউর রহমানকে (৫৮) হত্যার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী
ইসলামিক স্টেট (আইএস)। জঙ্গিদের অনলাইনকেন্দ্রিক তৎপরতার ওপর নজরদারি করে
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এমন একটি প্রতিষ্ঠান সাইট ইনটেলিজেন্স এ খবর দিয়েছে।
খবর এএফপির। আইএসের সংবাদমাধ্যম আমাক বলছে, কুষ্টিয়ায় খ্রিষ্টধর্মীয়
ভাবধারার সমর্থনে কাজ করায় আইএসের যোদ্ধারা এক চিকিৎসককে হত্যা করেছে।
পুলিশ বলছে, সানাউর তাঁর বন্ধু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের
সহকারী অধ্যাপক সাইফুজ্জামানকে (৩৮) সঙ্গে নিয়ে একটি মোটরসাইকেলে করে
যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন। একটি মোটরসাইকেলে করে তিন আরোহী এসে হামলা
চালিয়ে চলে যায়। মাথা ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত পাওয়া সাইফুজ্জামানকে উন্নত
চিকিৎসার জন্য গতকালই ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।
জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার প্রলয়
চিসিম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা এটা ভাবছি না।’ সানাউরের বাংলো বাড়ির জমি
নিয়ে কোনো বিরোধ থাকতে পারে, রোগী দেখা বিষয়ে নারীঘটিত কিছু থাকতে পারে,
পূর্বশত্রুতা থাকতে পারে—প্রাথমিকভাবে এসব সন্দেহকে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে
র্যাব-১২-এর পরিচালক শাহাবুদ্দীন খান সাংবাদিকদের বলেন, সারা দেশে
সম্প্রতি জঙ্গিদের যেসব হামলা শনাক্ত হয়েছে, তারা যে প্রক্রিয়ায় অপরাধ
করেছে, তার সঙ্গে এই হত্যার মিল রয়েছে। তাই এটাকে মাথায় রেখেই তদন্ত চলছে।
নিহত সানাউরের বন্ধু-স্বজনেরাও সন্দেহ করছেন জঙ্গিগোষ্ঠীকে।
তাঁরা
বলেন, সানাউর ও সাইফুজ্জামানের সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। দুজনই
বাউল চর্চা করতেন। এর আগেও দেশে বাউলদের ওপর হামলা হয়েছে। এ কারণে তাঁরা
এটিকে জঙ্গি হামলা হিসেবে দেখছেন। কুষ্টিয়া শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে
প্রত্যন্ত গ্রাম শিশিরমাঠ এলাকায় সানাউরকে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে। ওই
এলাকায় তাঁর বাগানবাড়ি রয়েছে। ১০ বছর ধরে তিনি সেখানে প্রতি শুক্রবার বিনা
মূল্যে গ্রামের মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। গতকালও তিনি চিকিৎসাসেবা
দেওয়ার জন্য যাচ্ছিলেন। গতকালের ঘটনাসহ চলতি বছরের গত পাঁচ মাসে দেশের
বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের ১৩টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ১৪ জন।
এর মধ্যে হিন্দু মঠের পুরোহিত, সাধু, বৌদ্ধ ভিক্ষু, ধর্মান্তরিত খ্রিষ্টান,
শিয়া সম্প্রদায়ের নেতা, পীরের অনুসারী, দরজি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের
শিক্ষক, ছাত্র, মার্কিন সাহায্য সংস্থার কর্মকর্তা ও সমকামী অধিকার আদায়ের
কর্মী রয়েছেন। এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক দুই জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস ও আল-কায়েদার
ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার নামে দায় স্বীকার করা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, দেশীয় দুই জঙ্গিগোষ্ঠী জেএমবি ও আনসার
আল ইসলাম (সাবেক আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) এসব ঘটনায় জড়িত বা প্রধান
সন্দেহভাজন।

No comments:
Post a Comment