![]() |
| স্বজনতোষী পুঁজিবাদ |
বড়
ব্যবসায়ীরা সব সময়ই রাষ্ট্রের ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে
সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেন। অর্থের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোরও
ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভরতা একবারে কম নয়। ব্যবসা ও রাজনীতির এই পরস্পর
নির্ভরশীলতাকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন অর্থনীতিতে নতুন একটি পুঁজিবাদী ধারা
তৈরি হয়েছে। এর নাম ক্রনি ক্যাপিটালিজম বা স্বজনতোষী পুঁজিবাদ।
সহজ অর্থে স্বজনতোষী পুঁজিবাদ বলতে বোঝায় রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষ মহলের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে বড় বড় ব্যবসা ও প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নেওয়া। স্বজনতোষী পুঁজিবাদের সবচেয়ে বড় ত্রুটি হলো নীতিনৈতিকতার লঙ্ঘন। একটি বড় ব্যবসা বা প্রকল্পের কাজ পেতে এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক আছে, এমন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে কাজ দেওয়া হয়। সে কারণে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা অনৈতিক লেনদেনেও জড়িয়ে পড়েন। ক্রনি ক্যাপিটালিজম মতবাদের সূচনা ১৯৯৮ সাল থেকে। ইন্দোনেশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট সুহার্তো তাঁর শাসনামলে নিয়ম ভেঙে তাঁর পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও দলীয় লোকদের বড় বড় ব্যবসা ও প্রকল্পের কাজ ভাগ করে দেন। এতে দেশটিতে খুব অল্প সময়ের মধ্যে একটি ধনিক গোষ্ঠীর জন্ম হয়। সুহার্তোর শাসনামলের সেই পুঁজির কথা মাথায় রেখে অর্থনীতিবিদেরা এই ধারার প্রচলন করেন। গত শতকের নব্বইয়ের দশক থেকে বিশ্বায়ন-প্রক্রিয়ার প্রভাবে এই পুঁজিবাদ ক্রমেই শক্তিশালী হয়েছে। ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্ট কয়েক বছর ধরে এই ধারার পুঁজিবাদী ব্যবস্থা নিয়ে একটি সূচক প্রকাশ করে আসছে। ওই সূচকে কোন দেশে এই পুঁজিবাদের অবস্থা কেমন, এই ব্যবস্থায় গড়ে ওঠা ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রকৃতি—এমন সব বিষয় নিয়ে একটি ক্রম তালিকা বা র্যাঙ্কিং প্রকাশ করে আসছে। এতে বলা হচ্ছে, ২০০৪ থেকে ২০১৪—গত এক দশকে এই ধারার পুঁজিবাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৮৫ শতাংশ। এই ধারার পুঁজিপতি বা শতকোটিপতিদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ এখন দাঁড়িয়েছে ২ ট্রিলিয়ন বা ২ লাখ কোটি ডলার। সূচক তৈরিতে মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস-এর বিলিয়নিয়ার তালিকা ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে। জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনি, জুয়ার মতো ব্যবসা থেকে এই ধারার পুঁজির সিংহভাগ জোগান আসে। অর্থাৎ মোটা অঙ্কের অর্থ কামানোর সুযোগ আছে—এমন ক্ষেত্রগুলোকেই এ ধারার পুঁজিবাদের জন্য বেছে নেওয়া হয়।
তবে সর্বশেষ ৭ মে ইকোনমিস্ট প্রকাশিত সূচকে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক আর্থিক মন্দার কারণে গত দুই বছরে এই ধারার পুঁজিতে একটু ভাটার টান লেগেছে। জ্বালানি তেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের অব্যাহত দরপতন, বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার কমে যাওয়ার মতো বিষয়ের কারণে গত দুই বছরে স্বজনতোষী পুঁজিপতিদের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৬ শতাংশ কমে ১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি ডলার হয়েছে। ধনী অর্থনীতির দেশগুলোতে মোট দেশজ উৎপাদনের দেড় শতাংশের জোগান এই ধারার পুঁজি থেকে আসছে। উদীয়মান অর্থনীতির দেশে মোট জিডিপির ৪ শতাংশ আসে স্বজনতোষী পুঁজি থেকে, যা ২০০৮ সালে ছিল ৭ শতাংশ। ইকোনমিস্ট-এর সূচক তৈরিতে ২২টি দেশের অর্থনীতিকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই পুঁজিবাদের ধারণাকে ব্যবহার করে সম্পদের পাহাড় গড়া দেশের তালিকায় এক নম্বরে আছে রাশিয়া। দেশটির জিডিপি ১৮ শতাংশের জোগান আসে এই ধারার পুঁজি থেকে। রাশিয়ার জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ এবং এ খাতের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা। প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং এ খাতের দুর্নীতির কারণেই রাশিয়া এ ধরনের পুঁজির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। তালিকার শীর্ষ দশে থাকা অন্য দেশগুলো হলো মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, ইউক্রেন, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, ভারত ও তাইওয়ান। ওয়েবসাইট ও ইকোনমিস্ট অবলম্বনে।
সহজ অর্থে স্বজনতোষী পুঁজিবাদ বলতে বোঝায় রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষ মহলের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে বড় বড় ব্যবসা ও প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নেওয়া। স্বজনতোষী পুঁজিবাদের সবচেয়ে বড় ত্রুটি হলো নীতিনৈতিকতার লঙ্ঘন। একটি বড় ব্যবসা বা প্রকল্পের কাজ পেতে এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক আছে, এমন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে কাজ দেওয়া হয়। সে কারণে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা অনৈতিক লেনদেনেও জড়িয়ে পড়েন। ক্রনি ক্যাপিটালিজম মতবাদের সূচনা ১৯৯৮ সাল থেকে। ইন্দোনেশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট সুহার্তো তাঁর শাসনামলে নিয়ম ভেঙে তাঁর পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও দলীয় লোকদের বড় বড় ব্যবসা ও প্রকল্পের কাজ ভাগ করে দেন। এতে দেশটিতে খুব অল্প সময়ের মধ্যে একটি ধনিক গোষ্ঠীর জন্ম হয়। সুহার্তোর শাসনামলের সেই পুঁজির কথা মাথায় রেখে অর্থনীতিবিদেরা এই ধারার প্রচলন করেন। গত শতকের নব্বইয়ের দশক থেকে বিশ্বায়ন-প্রক্রিয়ার প্রভাবে এই পুঁজিবাদ ক্রমেই শক্তিশালী হয়েছে। ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্ট কয়েক বছর ধরে এই ধারার পুঁজিবাদী ব্যবস্থা নিয়ে একটি সূচক প্রকাশ করে আসছে। ওই সূচকে কোন দেশে এই পুঁজিবাদের অবস্থা কেমন, এই ব্যবস্থায় গড়ে ওঠা ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রকৃতি—এমন সব বিষয় নিয়ে একটি ক্রম তালিকা বা র্যাঙ্কিং প্রকাশ করে আসছে। এতে বলা হচ্ছে, ২০০৪ থেকে ২০১৪—গত এক দশকে এই ধারার পুঁজিবাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৮৫ শতাংশ। এই ধারার পুঁজিপতি বা শতকোটিপতিদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ এখন দাঁড়িয়েছে ২ ট্রিলিয়ন বা ২ লাখ কোটি ডলার। সূচক তৈরিতে মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস-এর বিলিয়নিয়ার তালিকা ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে। জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনি, জুয়ার মতো ব্যবসা থেকে এই ধারার পুঁজির সিংহভাগ জোগান আসে। অর্থাৎ মোটা অঙ্কের অর্থ কামানোর সুযোগ আছে—এমন ক্ষেত্রগুলোকেই এ ধারার পুঁজিবাদের জন্য বেছে নেওয়া হয়।
তবে সর্বশেষ ৭ মে ইকোনমিস্ট প্রকাশিত সূচকে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক আর্থিক মন্দার কারণে গত দুই বছরে এই ধারার পুঁজিতে একটু ভাটার টান লেগেছে। জ্বালানি তেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের অব্যাহত দরপতন, বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার কমে যাওয়ার মতো বিষয়ের কারণে গত দুই বছরে স্বজনতোষী পুঁজিপতিদের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৬ শতাংশ কমে ১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি ডলার হয়েছে। ধনী অর্থনীতির দেশগুলোতে মোট দেশজ উৎপাদনের দেড় শতাংশের জোগান এই ধারার পুঁজি থেকে আসছে। উদীয়মান অর্থনীতির দেশে মোট জিডিপির ৪ শতাংশ আসে স্বজনতোষী পুঁজি থেকে, যা ২০০৮ সালে ছিল ৭ শতাংশ। ইকোনমিস্ট-এর সূচক তৈরিতে ২২টি দেশের অর্থনীতিকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই পুঁজিবাদের ধারণাকে ব্যবহার করে সম্পদের পাহাড় গড়া দেশের তালিকায় এক নম্বরে আছে রাশিয়া। দেশটির জিডিপি ১৮ শতাংশের জোগান আসে এই ধারার পুঁজি থেকে। রাশিয়ার জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ এবং এ খাতের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা। প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং এ খাতের দুর্নীতির কারণেই রাশিয়া এ ধরনের পুঁজির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। তালিকার শীর্ষ দশে থাকা অন্য দেশগুলো হলো মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, ইউক্রেন, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, ভারত ও তাইওয়ান। ওয়েবসাইট ও ইকোনমিস্ট অবলম্বনে।

No comments:
Post a Comment