Wednesday, May 18, 2016

সাধারণ চালও রপ্তানির সিদ্ধান্ত

দেশে চাহিদার চেয়ে এখন চালের উৎপাদন বেশি। তাই উদ্বৃত্ত চাল রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সচিবালয়ে গতকাল মঙ্গলবার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এ কথা বলেছেন। বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতিসমূহের ফেডারেশন বা এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদসহ অন্য ব্যবসায়ী নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর চাল রপ্তানি নিয়ে স্পষ্টতা ও বিশদ ব্যাখ্যা জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন সাধারণ চাল রপ্তানিরও উপযোগী দেশ। প্রচুর চাল উদ্বৃত্ত রয়ে গেছে।’ এর আগে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে চাল রপ্তানির সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে এখন ৩০ থেকে ৪০ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত আছে। এমনকি খাদ্যগুদামে চাল রাখার জায়গা নেই। তা ছাড়া চাল রপ্তানিতে খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়েরও আপত্তি নেই। শ্রীলঙ্কায় এর আগে ৫০ হাজার টন চাল রপ্তানি করা হয়েছে উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ভারতও চাল রপ্তানি করে। আমরা এখন বাজার খুঁজছি। প্রথম দফায় আফ্রিকার কয়েকটি দেশে রপ্তানি হতে পারে।’
একটি বেসরকারি কোম্পানি ইতিমধ্যে চাল রপ্তানির আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। গতকালের বৈঠকে দেশে চালের চাহিদা, উৎপাদন ও আমদানির চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তৈরি কার্যপত্রে বলা হয়েছে, দেশে দৈনিক চালের চাহিদা ৯০ হাজার টন। সেই হিসাবে বছরে চাল লাগে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার টন। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে ৩ কোটি ৪৭ লাখ ১১ হাজার টন চাল উৎপন্ন হয়েছে। ওই অর্থবছরে চাল উদ্বৃত্ত হয়েছে ১৮ লাখ ৬১ হাজার টন। অন্যদিকে একই সময়ে দেশে আমদানি হয়েছে ১০ লাখ ৮৪ হাজার টন। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৩ কোটি ৫০ লাখ টন। গত এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে আমদানি হয়েছে ৩ লাখ ৫৭ হাজার টন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, গত অর্থবছরের উদ্বৃত্ত চাল ও চলতি অর্থবছর শেষে সম্ভাব্য উদ্বৃত্ত চাল হিসাবে ধরে, অর্থাৎ দুই অর্থবছরে ৩০-৪০ লাখ টন উদ্বৃত্ত হওয়ার কথা বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। রপ্তানি বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবেও চাল রপ্তানি করা দরকার বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। চলতি অর্থবছরে দেশের সার্বিক রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার। তবে রপ্তানি ৩ হাজার ৪০০, এমনকি ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলারও ছাড়িয়ে যাবে বলে বাণিজ্যমন্ত্রী আশা করেন। জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশ ২৫ ধরনের সুগন্ধী চাল উৎপাদন ও রপ্তানি করে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিআরআরআই) উদ্ভাবিত ‘বাংলামতি’ নামের চালের উৎপাদনই সবচেয়ে বেশি। আর সাধারণ চালের মধ্যে মোট উৎপাদনের অর্ধেকের মতো হচ্ছে বোরো ধানের।

No comments:

Post a Comment