Monday, May 9, 2016

এই নির্বাচন কি আমরা চেয়েছিলাম?

সোহরাব হাসান | মে ০৭, ২০১৬
মতামত: গত তিন পর্বের ইউপি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী, দলীয় সাংসদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক (সবাই রাজনৈতিক বিবেচনায় পদায়িত), আওয়ামী লীগ সমর্থক উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় নেতারা যেসব কাণ্ড ঘটিয়েছেন, তাতে মনে হয় না দলটিতে ন্যূনতম শৃঙ্খলা আছে। প্রত্যেকে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সাংসদের কথা জেলা পরিষদ প্রশাসক শোনেন না। জেলা পরিষদ প্রশাসককে তোয়াক্কা করেন না উপজেলা চেয়ারম্যান। জেলা কমিটিকে মানে না উপজেলা কমিটি। উপজেলা কমিটিকে গোনায় ধরে না ইউপি কমিটি। সবাই নিজেকে ‘রাজা’ মনে করেন। কামাল উদ্দিন আওয়ামী লীগের বোঝা উচিত, মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করা মহা অন্যায়। বাকশাল করার কারণে আওয়ামী লীগ ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিল। আবার যদি এভাবে বাকশালী কায়দায় চলেন, তবে আপনাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গর্ব করে বলতেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জনগণ ভোটের অধিকার ফিরে পায়। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ও তার পরের অন্যান্য নির্বাচনের পর সেই গর্ব এখন তাদের লজ্জায় পরিণত হয়েছে।
রাসেল
ইউপি নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘাত-সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৫৭ (রোববার পর্যন্ত ৬৩ জন) জন মানুষ মারা গেছেন। আমার জানামতে, বাংলাদেশে কোনো নির্বাচনে এত প্রাণহানি হয়নি।
মানসুর আহমেদ
সভানেত্রী স্বাক্ষরিত মনোনয়ন কি আদৌ দরকার ছিল? শৃঙ্খলা, চেইন অব কমান্ড ইত্যাদি ছিল না বলেই সভানেত্রী স্বাক্ষরিত মনোনয়ন দিতে হয়েছে। সভানেত্রী বা কেন্দ্রীয় নেতারা কীভাবে জানেন কোন ইউপিতে কে মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য? ইউপিতে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষমতা থাকার দরকার ছিল দলের থানা বা উপজেলা কমিটির। কিন্তু হাস্যকর ও বাস্তবতা-বহির্ভূতভাবে দলীয় সভানেত্রী স্বাক্ষরিত মনোনয়ন দল ও দলের ভাবমূর্তিকেই খাটো করেছে।

No comments:

Post a Comment