![]() |
| গার্দিওলা |
মাত্র
গত সপ্তাহের কথা। চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে টানা তৃতীয়বার সেমিফাইনাল থেকেই
বিদায় নিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। সংবাদ সম্মেলনে পেপ গার্দিওলার দিকে প্রশ্ন
ছুটে গেল, বায়ার্নে তিন বছরের অধ্যায়কে কি সাফল্য মনে করেন? এমনিতে
প্রশ্নটা একটু আপত্তিকর হওয়া উচিত। টানা তিনবার যে কোচ অনায়াসে বুন্দেসলিগা
জিতিয়েছেন ক্লাবকে, তাঁকে কিনা এমন একটা প্রশ্ন শুনতে হচ্ছে! অথচ
গার্দিওলার উত্তরটা ছিল আরও চমকে দেওয়ার মতো, ‘যদি আমাকে চ্যাম্পিয়নস লিগ
নিয়ে বিচার করেন, তাহলে আমি ব্যর্থ। আপনারা সেটাই লিখতে পারেন।’ গার্দিওলা
বলেই কথাটা খুব বিস্ময়ের মনে হচ্ছে না। ক্যারিয়ারের প্রথম মৌসুমেই যিনি
ত্রিমুকুট জিতেছিলেন, বার্সেলোনাকে এনে দিয়েছিলেন লা লিগা, কোপা ডেল রে ও
চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা, তাঁর কাছে সাফল্যের সংজ্ঞা তো অন্য দশজন কোচের
মতো নয়। ২০১১ সালে আবার যখন বার্সেলোনাকে নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতলেন,
প্রশ্ন উঠে গেল, এই বার্সাকে নিয়ে গার্দিওলার আর কী পাওয়ার আছে? কিছু যে
পাওয়ার নেই, সেটা প্রমাণ করতেই এরপর ক্লাব ছাড়লেন। এক বছর বিরতির পর নতুন
ঠিকানা হলো মিউনিখ। যেখানে যোগ দিয়েই বলেছিলেন, চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাটাই
তাঁর চূড়ান্ত লক্ষ্য। প্রথম মৌসুমে ক্লাবকে নিয়ে গেলেন চ্যাম্পিয়নস লিগের
সেমিফাইনালে। ঘরোয়া লিগ জিতলেন, তাই গার্দিওলাকে ঠিক ‘ব্যর্থ’ বলা হলো না।
পরের মৌসুমে আবারও সেই সেমিফাইনাল থেকে বাদ, এবার গুঞ্জন একটু জোরালো হলো।
এবারও যখন সেই সেমিফাইনালের গেরোতেই আটকা পড়লেন, গার্দিওলা বায়ার্নে ব্যর্থ
কি না, সেই প্রশ্নটা উঠলই। যেটির উত্তর নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই, কারণ সেটি
গার্দিওলা নিজেই দিয়ে দিয়েছেন। এখন বরং বড় হয়ে উঠছে আরেকটা প্রশ্ন, আগামী
মৌসুমে জেতা তো পরের কথা, গার্দিওলা আদৌ চ্যাম্পিয়নস লিগে থাকবেন তো? গত
জানুয়ারিতেই সবার জানা হয়ে গেছে, পরের মৌসুমে গার্দিওলার নতুন ঠিকানা
হচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটি। ইংলিশ লিগে বছর পাঁচেক ধরেই সিটি সমীহ জাগানো
শক্তি। দুবার লিগ জিতেছে, দুটি লিগ কাপ। এর মধ্যে দুটি লিগ কাপই ম্যানুয়েল
পেলেগ্রিনির সময়ে, একটি লিগও। তবে এখানেও যে কোচের সাফল্য-ব্যর্থতার
চূড়ান্ত মানদণ্ড চ্যাম্পিয়নস লিগ, যেটিতে পেলেগ্রিনির সেরা সাফল্য এবার
সেমিফাইনালে ওঠা। যেটির আগেই অবশ্য পেলিগ্রিনিকে বিদায় করে দেওয়ার
সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে সিটি। যে সিটির আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে
খেলাই এখন ঘোর অনিশ্চিত। পরশু আর্সেনালকে হারাতে পারলে নিজেদের ভাগ্য
নিজেদের হাতেই থাকত সিটির। কিন্তু ২-২ গোলে ড্রয়ে শীর্ষে চারে থাকা এখন
অনিশ্চয়তার আবর্তে। ৩৭ ম্যাচে ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে সিটি এখন চারেই আছে। কিন্তু
শেষ পর্যন্ত এই অবস্থান ধরে রাখতে হলে অনেক কিছু মিলতে হবে। সোয়ানসির
বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জিতলেও তাকিয়ে থাকতে হবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দিকে।
ইউনাইটেড ২ পয়েন্টে পিছিয়ে, কিন্তু ম্যাচ খেলেছে সিটির চেয়ে একটি কম।
সিটিকে তাই নিজেদের ম্যাচ জিতে প্রার্থনা করতে হবে, ইউনাইটেড যেন অন্তত
একটা ম্যাচে হোঁচট খায়। সেই প্রার্থনা পূরণ না হলে সিটিকে খেলতে হবে
ইউরোপা লিগ। যে গার্দিওলা এখন পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নস লিগবিহীন কোনো মৌসুম
কাটাননি, সেখানেও প্রতিবার অন্তত সেমিতে নিয়ে গেছেন দলকে, সেই তিনিই কিনা
দ্বিতীয় সারির ইউরোপা লিগে! চ্যাম্পিয়নস লিগই যাঁর কাছে সাফল্য-ব্যর্থতার
শেষ কথা, তাঁর জন্য এটি মেনে নেওয়া একটু কঠিনই বটে!

No comments:
Post a Comment