![]() |
| টেস্টে নিয়মিত, কিন্তু ওয়ানডেতে ব্রাত্য হয়ে আছেন অনেক দিনই। কাল ফতুল্লায় সেঞ্চুরি করে দলে ফেরার দাবি জানিয়ে রাখলেন মুমিনুল হক l প্রথম আলো |
ফরহাদ
রেজার বলে দারুণ এক কভার ড্রাইভে বাউন্ডারি। দিনের প্রথম বলেই
ভিক্টোরিয়ার ওপেনার আবদুল মজিদ ইঙ্গিত দিলেন দিনটাকে নিজেদের করে নেওয়ার।
দিনের শেষ বলেরও সাক্ষী হলেন প্রাইম দোলেশ্বরের অধিনায়ক ফরহাদ রেজা।
তাঁকে লং অনে সোহরাওয়ার্দী শুভর ক্যাচ বানিয়েই যে ম্যাচের ইতি টানলেন
ভিক্টোরিয়ার বাঁহাতি স্পিনার চতুরাঙ্গা ডি সিলভা। দোলেশ্বরের জয়যাত্রা
থামিয়ে কাল ফতুল্লার ম্যাচটা ভিক্টোরিয়া জিতেছে ৫৯ রানে। আর অসাধারণ এক
সেঞ্চুরি করে ভিক্টোরিয়ার জয়ের নায়ক মুমিনুল হক। খান সাহেব ওসমান আলী
স্টেডিয়ামের উইকেট একটু অদ্ভুত আচরণই করছে। দিনের শুরুতে এই উইকেটে
বোলাররা সামান্য বাড়তি সুবিধা পান। কিন্তু দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে
ব্যাটিং-স্বর্গ হয়ে ওঠে উইকেট। এই মাঠের প্রথম আট ম্যাচই মেনে চলেছে এই
সমীকরণ। উইকেটের আচরণ কালও বদলায়নি, কিন্তু দুই দলের বিপরীতধর্মী ব্যাটিংই
পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। উইকেটের কথা মাথায় রেখেই টস জিতে প্রতিপক্ষকে
ব্যাটিংয়ে পাঠান দোলেশ্বর অধিনায়ক। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই ফজলে
রাব্বীকে দারুণ এক বলে বোল্ড করে দিলেন জাতীয় দলের পেসার আল আমিন হোসেন।
কিন্তু এর পর ইনিংসের বাকিটা পুরোপুরিই ভিক্টোরিয়ার ব্যাটিংয়ের। ধৈর্য ও
আক্রমণ—এই দুইয়ের মিশেলে দোলেশ্বরের বোলারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন আবদুল
মজিদ ও মুমিনুল হক। ধৈর্য যা দেখালেন, তা ওপেনার মজিদই, লিস্ট ‘এ’
ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পাওয়া মুমিনুল ওসবের ধার ধারেননি। বাজে
বলে তো বটেই, ভালো বলও ছাড় পায়নি এই বাঁহাতির ব্যাট থেকে। দ্বিতীয়
উইকেটে ১৬২ রান যোগ করে মুমিনুল আউট হলেন ইনিংসের ৩৭তম ওভারে। জুটিতে ১৬২
রানের ১০৪-ই মুমিনুলের ব্যাট থেকে। ১০৪ বলে ১০৪ রান, ১২টি চার এবং স্কয়ার
লেগ ও লং অন দিয়ে মারা দুই ছয়। পুরো ইনিংসে একটি মাত্র বাজে শট, আর তাতেই
আউট হওয়ায় মুমিনুল ম্যাচ শেষে যেন বিনয়ের অবতার, ‘উইকেট খুব একটা ভালো
ছিল না। তবে ওরা অনেক বাজে বল করেছে, আমরা সেটির সুযোগই নিয়েছি।’ তাঁর
সাজানো মঞ্চেই এরপর নেচেছেন ফর্মে থাকা আল আমিন জুনিয়র। ৪৬ বলে ৫১ রানে
অপরাজিত এই অলরাউন্ডার। ভিক্টোরিয়ার ইনিংসের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটি হয়নি
মজিদ পেসার আল আমিনকে গ্ল্যান্স করতে গিয়ে বোল্ড হওয়ায়। ১৩৭ বলে ৯৪ রান
এই ওপেনারের। ২৭১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা দোলেশ্বরের ইনিংসের প্রথম
ভাগটা যেন ভিক্টোরিয়ারই ইনিংসেরই পুনরাবৃত্তি। স্কোরবোর্ডে ৮ রান উঠতেই
ওপেনার রনি তালুকদারকে হারালেও ইমতিয়াজ ও রকিবুলের ব্যাটে ভালোভাবেই
ম্যাচে ছিল পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দলটি। দ্বিতীয় উইকেটে তুললেন ৮৩ রান। ২
রানের মধ্যে শ্রীলঙ্কার চামারা সিলভা ও ইমতিয়াজকে হারালেও ম্যাচের লাগাম
ধরে রেখেছিলেন রকিবুল ও নাসির। কিন্তু ৩৩তম ওভারে অসম্ভব এক রান নিতে গিয়ে
রকিবুলের রানআউটেই ধসের সূচনা। ৩ উইকেটে ১৬১ থেকে দেখতে না-দেখতেই ২১১
রানে অলআউট দোলেশ্বর।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভিক্টোরিয়া: ৫০ ওভারে ২৭০/৩ (মুমিনুল ১০৪, মজিদ ৯৪, আল-আমিন ৫১*; আল আমিন ৩/৫৭)। দোলেশ্বর: ৪৩.৪ ওভারে ২১১ (রকিবুল ৭৩, ইমতিয়াজ ৪৩, নাসির ৩৫, ফরহাদ রেজা ২১; ডি সিলভা ৫/৩৬, আল আমিন জুনিয়র ২/৩১, কামরুল ২/৪১)। ফল: ভিক্টোরিয়া ৫৯ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মুমিনুল হক।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভিক্টোরিয়া: ৫০ ওভারে ২৭০/৩ (মুমিনুল ১০৪, মজিদ ৯৪, আল-আমিন ৫১*; আল আমিন ৩/৫৭)। দোলেশ্বর: ৪৩.৪ ওভারে ২১১ (রকিবুল ৭৩, ইমতিয়াজ ৪৩, নাসির ৩৫, ফরহাদ রেজা ২১; ডি সিলভা ৫/৩৬, আল আমিন জুনিয়র ২/৩১, কামরুল ২/৪১)। ফল: ভিক্টোরিয়া ৫৯ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মুমিনুল হক।

No comments:
Post a Comment