![]() |
| আবাহনীর এই আনন্দ শুধু তো ক্লাব কাপ জয়েরই নয়, দীর্ঘ শিরোপা-খরা ঘোচানোরও। কাল মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে l প্রথম আলো |
ম্যাচ
শেষ হতেই ভিআইপি গ্যালারি থেকে একদল সমর্থক দৌড় দিলেন মাঠে। কারও হাতে
আবাহনীর পতাকা। কারও হাতে ‘অভিনন্দন’ লেখা প্ল্যাকার্ড। নীল টার্ফের ওপর
উল্লাস করতে থাকা খেলোয়াড়-কোচদের সঙ্গে শামিল হলেন তাঁরাও। ক্লাব কাপ
হকিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আবাহনীর সমর্থকেরা উচ্ছ্বসিত। আট বছর পর
শিরোপা-খরা ঘুচল আবাহনীর। তৃতীয়বারের মতো জিতল ক্লাব কাপ হকি। এমন আনন্দ
তো আবাহনীকেই মানায়। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামুখর এক ফাইনাল দেখার আশায়
মাঠে এসেছিলেন হাজার খানেক দর্শক। কিন্তু কে জানত এমন একপেশে ফাইনাল হবে
মওলানা ভাসানী স্টেডিয়ামে! পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলে সেরা দল
হিসেবেই ফাইনালে ওঠে ঊষা ক্রীড়াচক্র ও আবাহনী। কিন্তু কাল পাত্তাই পায়নি
ঊষা। একচেটিয়া খেলে আবাহনী ৫-১ গোলে হারিয়েছে পুরান ঢাকার দলটিকে। ঊষা
হেরেছে আসলে আবাহনীর পাঁচ পাকিস্তানি খেলোয়াড়ের কাছে। গত কয়েকটি ম্যাচে
নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি শাফকাত রাসুল-শাকিল আব্বাসীরা।
কিন্তু সময়মতো ঠিকই জ্বলে উঠলেন পাকিস্তানের জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা।
ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের দুটি পুরস্কার পেয়েছেন আবার আবাহনীর স্থানীয় দুই
খেলোয়াড়। টুর্নামেন্ট-সেরা রুম্মন সরকার। সর্বোচ্চ গোলদাতা (৭টি) মাকসুদ
আলম হাবুল। ফাইনালে শুরুর কয়েক মিনিটই যা একটু খেলেছে ঊষা। ৭ মিনিটে
ফাইজাল বিন শারির গোল দেখে যদিও মনে হচ্ছিল হ্যাটট্রিক শিরোপার দিকে এগিয়ে
যাচ্ছে তারা। কিন্তু গোল খেয়েই জেগে ওঠে আবাহনী। জেগে ওঠেন পাকিস্তানি
খেলোয়াড়েরাও। কখনো জাদুকরি স্টিকওয়ার্ক, কখনো দুর্দান্ত নৈপুণ্যে
পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নেওয়া—সবকিছুতেই এগিয়ে রইলেন পাকিস্তানি
খেলোয়াড়েরা। ১৬ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে ড্র্যাগ ফ্লিকে ম্যাচে সমতা
ফেরান তৌসিক আরশাদ। দ্বিতীয়ার্ধে আরও উজ্জীবিত ছিল আবাহনী। ২৭ মিনিটে
মোহাম্মদ ইরফান করেছেন ২-১। ৪১ মিনিটে প্রতি আক্রমণ থেকে ব্যবধান
বাড়িয়েছেন শাকিল আব্বাসী (৩-১)। ৪৯ মিনিটে কাসিফ আলীর স্কুপে বল ধরে
রিভার্স হিটে দর্শনীয় গোল করেন শাফকাত রাসুল। ৫৬ মিনিটে আরশাদ প্রায়
ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যান আবাহনীকে। হারের জন্য ঊষার কোচ মামুনুর রশীদের
কাঠগড়ায় তাঁর চার মালয়েশিয়ান খেলোয়াড়, ‘বিদেশি খেলোয়াড়দের
পারফরম্যান্সে মোটেও খুশি নই আমি।’ আবাহনীর কোচ মাহবুব হারুনের মুখে
আত্মবিশ্বাসের হাসি, ‘আত্মবিশ্বাস ছিল যে আমরাই চ্যাম্পিয়ন হবে। আমরা
পাকিস্তানের দুই খেলোয়াড় শাফকাত রাসুল ও শাকিল আব্বাসীকে নিয়ে একটু
চিন্তিত ছিলাম। কাল ওদের নিয়ে এ জন্য আলাদা বসেছিলাম। তারা বলেছে দেখো,
আমরা এই মাঠে মানিয়ে নিতে পারছি না। তবে কথা দিয়েছিল যে ওরা ভালো খেলবে।
তারা সেই কথা রেখেছে আজ।’

No comments:
Post a Comment