সংসারের
খরচ চালানোর জন্য ২০০২ সালে হাতে তৈরি মাছের খাবার বিক্রি করতে শুরু করেন
মেহেরপুরের ইসরাত জাহান। গত ১৪ বছরে নিজের উদ্যোগ ও পরিশ্রমে একটি
স্বয়ংক্রিয় কারখানা তৈরি করেছেন ইসরাত, যেখানে এখন প্রতিদিন গড়ে ১২ টন
মাছের খাবার উৎপাদিত হয়। কারখানার পাশাপাশি তাঁর আছে মাছের ১৫টি পুকুর। সব
মিলিয়ে মাসে আয় করেন ২ লাখ টাকা। সৃজনশীল এ উদ্যোক্তা কাজের স্বীকৃতি
হিসেবে পেয়েছেন ‘১১তম সিটি সেরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কার’। ইসরাতের মতো
এমন আরও পাঁচ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও দুই ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে গতকাল
শনিবার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরস্কৃত করা হয়। বহুজাতিক সিটি ব্যাংক এনএ,
সাজেদা ফাউন্ডেশন ও ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (সিডিএফ) যৌথ
উদ্যোগে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের
উপদেষ্টা রোকিয়া আফজাল রহমান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর
সালেহউদ্দিন আহমেদ। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি)
এখন যে একটি টেকসই পর্যায়ে আছে, এতে সবচেয়ে বেশি অবদান ক্ষুদ্র
উদ্যোক্তাদের। অথচ তাঁদের সহায়ক বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয় না। ক্ষুদ্র
উদ্যোক্তারা উৎপাদিত পণ্য বিপণন, বিভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার, আইনশৃঙ্খলা ও
নিরাপত্তাজনিত যেসব সমস্যার মুখোমুখি হন, সেগুলো সমাধানে বিশেষ গুরুত্ব
দিতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে
আরও বেশি করে এগিয়ে আসার পরামর্শ দেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন,
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা (এসএমই) ঋণ নিলে যে ফেরত দেন, সেটি এখন
প্রমাণিত। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভালো
ঋণগ্রহীতা পাওয়া। সেই ভিত্তি ইতিমধ্যেই ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি
করে দিয়েছে। পুরস্কার দেওয়ার জন্য উপদেষ্টা পরিষদ ও বাছাই পরিষদ
পর্যায়ক্রমে বিশ্লেষণের পর চূড়ান্তভাবে পাঁচজন বিজয়ী ও উদ্যোক্তা বিভাগে
তিনজন রানারআপ নির্বাচন করেন। শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বিভাগে ইসরাত
জাহান বিজয়ী ও ঢাকার খিলগাঁওয়ের হাসিনা ইসলাম রানারআপ পুরস্কার পেয়েছেন।
নারী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বিভাগে ঠাকুরগাঁওয়ের মাদারগঞ্জের আফিনা বেগম বিজয়ী ও
ফরিদপুরের রিনা বেগম রানারআপ; শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র কৃষি উদ্যোক্তা বিভাগে
চাঁদপুরের সোহেল মিয়াজী ও নাটোরের সেলিম রেজা রানারআপ পুরস্কার পেয়েছেন।
শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট
ফাউন্ডেশন (আইডিএফ) এবং শ্রেষ্ঠ সৃজনশীল ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে
কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক) পুরস্কার পেয়েছে। সালেহউদ্দিন আহমেদ
বলেন, ‘আমাদের দেশে মনে করা হয় যে কর্মসংস্থান তৈরিতে সব বড় বড় কারখানা হবে
আর ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের কোনো প্রয়োজন নেই—এটি সম্পূর্ণ ভুল
ধারণা। বাংলাদেশে এখন ৫৬টি ব্যাংক আছে, যারা ঘুরেফিরে সব সময় বড়
উদ্যোক্তাদেরই ঋণ দিতে চায়। কিন্তু ব্যাংকারদের একটি বিশেষ দায়িত্ব হলো
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা।’ রোকিয়া আফজাল রহমান বলেন, ‘আপনাদের কষ্ট,
চেষ্টা, পরিশ্রম, যোগ্যতার কথা যখন শুনি, তখন আমরাও ভালো কাজ করার সাহস
পাই। আশা করি, আপনারা ভবিষ্যতে আরও ভালো করবেন।’ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন
সাজেদা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জাহিদা ফিজ্জা কবির, সিডিএফের
নির্বাহী পরিচালক আবদুল আউয়াল, সিটি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি অফিসার
মইনুল হক প্রমুখ।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment