![]() |
| কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের সিকদার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ভোটারশূন্য। ছবিটি গতকাল দুপুর ১২টায় তোলা l প্রথম আলো |
দুপুর
১২টা। ফাঁকা ভোটকেন্দ্র। পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সতর্ক পাহারায়। কেন্দ্রের
ভেতরে নির্বাচনী কর্মকর্তারা খোশগল্পে মজে আছেন। প্রার্থীদেরও কোনো অভিযোগ
নেই। ততক্ষণে ভোট পড়েছে ৪৫২টি। গতকাল শনিবার কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার
কোনাখালী ইউনিয়নের সিকদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে এ
চিত্র দেখা গেছে। সিকদারপাড়া বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ৯৬৫ জন। ভোট
দিয়েছেন ৫৯৩ জন। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মানিক কুমার বড়ুয়া প্রথম
আলোকে বলেন, ‘সকালে ভোটারদের ভিড় ছিল। দুপুর গড়াতেই কেন্দ্র ফাঁকা হয়ে যায়।
তবে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে।’ চকরিয়ার ছয়টি ইউনিয়নের কোনো
ভোটকেন্দ্রেই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সকালে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা
গেলেও দুপুরের পর বেশির ভাগ কেন্দ্রই ছিল ফাঁকা। কোনাখালী ইউপির আওয়ামী
লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী মোকতার আহমদ বলেন, ‘সুষ্ঠুভাবে ভোট
গ্রহণ হয়েছে। কোথাও কোনো গন্ডগোল হয়নি।’ আওয়ামী লীগের প্রার্থী দিদারুল হক
সিকদারও সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছে বলে জানান। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান
প্রার্থী রুহুল কাদের বলেন, ‘কোনো গন্ডগোল ছাড়াই ভোট শেষ হয়েছে।’ পশ্চিম বড়
ভেওলা ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে বেলা দুইটায় গিয়ে
কোনো ভোটারের দেখা মেলেনি। এ কেন্দ্রের ভোটার নুরুল কায়েস (৪২) বলেন,
‘মানুষ হাসিমুখে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছে। বর্তমান সময়ে
ভোটকেন্দ্রে এটাই বড় পাওয়া।’ বেলা দুইটা ২৫ মিনিটে বদরখালী ইউনিয়নের আল
আজহার উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে মাত্র সাতজন ভোটারকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা
যায়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ইদমনি আছদ আলী সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় নারী ভোটারদের দীর্ঘ সারি। ওই
সময় পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৭৩৪টি। এ কেন্দ্রে মোট ভোটার রয়েছেন দুই হাজার ৮১
জন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রুহুল কাদের বলেন, ‘খুব সুন্দর পরিবেশে ভোট
হচ্ছে। ভোটারের উপস্থিতিও ভালো।’ কোনাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিএমচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুলসুম নাহার রেজি.
প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের গ্রামীণ ব্যাংক কেন্দ্র,
বিএমচর ইউনিয়নের ভেওলা মানিকচর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র ঘুরে শান্তিপূর্ণ ভোট
গ্রহণের দৃশ্য দেখা গেছে। চকরিয়ার ইউপি নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত
কক্সবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মাসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন,
মানুষ উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে ভোট দিয়েছেন। কোথাও গোলযোগের কোনো ঘটনা
ঘটেনি। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম
বলেন, শঙ্কাকে পেছনে ফেলে প্রশাসন একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন
উপহার দিতে পেরেছে। ভোট চলাকালীন কোনো কেন্দ্রে গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি।

No comments:
Post a Comment