Wednesday, May 18, 2016

মেয়াদ বৃদ্ধি ও সুদ হার কমানোর সুপারিশ

শেয়ারবাজার ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় গঠিত তহবিলের মেয়াদ বৃদ্ধি ও সুদ হার কমানোর সুপারিশ করা হচ্ছে। তহবিল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা আইসিবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তহবিল তদারকি কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইসিবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তহবিল তদারক কমিটির গতকাল মঙ্গলবারের সভায় এ নিয়ে আলোচনা হয়। পরে কমিটির পক্ষ থেকে এক বছর মেয়াদ বৃদ্ধি ও সুদের হার কমানোর সুপারিশ অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন করলেই মেয়াদ বৃদ্ধি ও সুদ হার কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে বলে জানা গেছে। জানতে চাইলে তহবিল তদারক কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তদারক কমিটির পক্ষ থেকে এক বছর মেয়াদ বাড়ানো ও সুদের হার ১ শতাংশ কমানোর জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ৯ শতাংশ সুদে তহবিল থেকে ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এখন তা কমিয়ে ৮ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সুদ হার কমানো হলে কেবল নতুন করে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে তা কার্যকর করা হবে। ২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ঋণের সুদ মওকুফের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ২০১৩ সালে ৯০০ কোটি টাকার বিশেষ এ তহবিল গঠন করা হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে এ তহবিলের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তহবিলের নীতিমালা অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের এই তহবিলের আওতায় ৯ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়। ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো ঘোষিত প্রণোদনার আওতায় এই সুবিধা প্রদান করবে। তহবিল ব্যবস্থাপক আইসিবি বলছে, বর্তমানে ব্যাংক ও তহবিলের ঋণের সুদ হার প্রায় সমান হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য তহবিলের ঋণ গ্রহণে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো উৎসাহ দেখাচ্ছে না। এর ফলে ৯০০ কোটি টাকার তহবিলের প্রায় ২৫৮ কোটি টাকা বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আইসিবির তথ্য অনুযায়ী, ৯০০ কোটি টাকার এ তহবিল থেকে ১৮টি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ১৬টি ব্রোকারেজ হাউসের প্রায় ২৫ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর বিপরীতে ৬৪২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment